বাংলাদেশের শোবিজ অঙ্গনের একসময়ের পরিচিত শিশুশিল্পী সিমরিন লুবাবার ব্যক্তিজীবনকে ঘিরে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় তার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার অভিযোগে বিষয়টি এখন সামাজিক ও আইনগত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেই বিয়ের ইঙ্গিত দেন লুবাবা। তবে তার বয়স নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই বিষয়টি বাল্যবিবাহের আওতায় পড়ে কিনা—তা নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, ২০২১ সালে তিনি প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং পরবর্তী সময়েও শিক্ষাজীবনে যুক্ত ছিলেন। সেই প্রেক্ষিতে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বৈবাহিক বয়স পূর্ণ হয়েছে কিনা, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, নারীর ন্যূনতম বিবাহযোগ্য বয়স ১৮ বছর এবং পুরুষের ক্ষেত্রে ২১ বছর। এ বিষয়ে আইনজ্ঞদের বক্তব্য অনুযায়ী, বয়স গোপন করে বিবাহ সম্পাদন করা হলে তা বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ (সংশোধিত) এবং প্রযোজ্য দণ্ডবিধির আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের মতে, কাজীর মাধ্যমে বৈধ নিবন্ধন ছাড়া কোনো বিবাহ আইনত স্বীকৃত নয়। যদি কোনো কাজী অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যার বিবাহ নিবন্ধন করেন, তবে তা তার লাইসেন্স বাতিলসহ আইনগত ব্যবস্থার আওতায় পড়তে পারে। একইসঙ্গে দেশের বাইরে কোর্ট স্ট্যাম্পে সম্পাদিত বিবাহও বাংলাদেশের আইনে বৈধতা পায় না।
আইন অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্ক কোনো ব্যক্তি বাল্যবিবাহে সম্পৃক্ত হলে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন। অন্যদিকে, অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ক্ষেত্রে শাস্তির বিধান তুলনামূলক ভিন্ন হলেও তা আইনগত দায়মুক্তি নিশ্চিত করে না।
তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সিমরিন লুবাবা বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া এবং আইনগত অবস্থান নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুসন্ধান ও যাচাই প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশে ঘোড়ার মাংসের বাণিজ্যিক ব্যবহার নিষিদ্ধে কার্যকর নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট দায়ের করেছেন জয়া আহসান। সোমবার (১১ মে) বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন, এ কে খান হেলথকেয়ার ট্রাস্ট এবং অভিনেত্রী ও প্রাণিকল্যাণ কর্মী জয়া আহসান যৌথভাবে এ রিট দায়ের করেন। রিটে বিবাদী করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষকে। আবেদনকারীদের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে ব্যারিস্টার সাকিব মাহবুব, ড. সিনথিয়া ফরিদ ও অ্যাডভোকেট সাজিদ হাসান শুনানি পরিচালনা করবেন। আবেদনে গাজীপুরে উন্মোচিত অবৈধ ঘোড়ার মাংস প্রক্রিয়াকরণ ও বিক্রয় চক্রের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ, নিরপেক্ষ ও সময়সীমাবদ্ধ তদন্তের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাজেয়াপ্ত ও অসুস্থ ঘোড়ার নিলাম কার্যক্রম বন্ধ, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রতারণামূলক মাংস বাজারজাতকরণ রোধ এবং উদ্ধারকৃত প্রাণীর পুনর্বাসনে জাতীয় অভয়ারণ্য গঠনের নির্দেশনা প্রার্থনা করা হয়েছে। রিটে আরও বলা হয়, পূর্বে একাধিকবার প্রশাসন ও মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দিলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকার ও জনস্বার্থ রক্ষায় আদালতের হস্তক্ষেপ জরুরি হয়ে পড়েছে। আবেদনকারীদের মতে, বিচারিক নির্দেশনা ছাড়া এ ধরনের কার্যক্রম জনস্বাস্থ্য ও প্রাণীকল্যাণের জন্য অব্যাহত ঝুঁকি তৈরি করছে।
দীর্ঘ বিরতির পর নতুন চলচ্চিত্র নিয়ে প্রেক্ষাগৃহে ফিরছেন ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মৌসুমী। প্রবাসজীবনের বাস্তবতা ও সামাজিক সংকটকে উপজীব্য করে নির্মিত ‘কন্ট্র্যাক্ট ম্যারেজ’ শিরোনামের সিনেমাটি আগামী ১৫ মে মুক্তির জন্য প্রস্তুত হয়েছে। চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন হাসান জাহাঙ্গীর, যিনি জানিয়েছেন—বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জীবনসংগ্রাম, পারিবারিক জটিলতা এবং সামাজিক মূল্যবোধের প্রশ্নকে কেন্দ্র করে গল্পটি নির্মিত। এতে এক বিবাহিত নারীর বিদেশে গিয়ে দ্বিতীয় বিবাহের ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরা হয়েছে, যা সামাজিক সচেতনতার বার্তা বহন করে। নির্মাতা জানান, সিনেমাটির অধিকাংশ দৃশ্য যুক্তরাষ্ট্রে ধারণ করা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্মাণ কাজ বাংলাদেশে সম্পন্ন হয়েছে। ইতোমধ্যে এটি সেন্সর সনদ লাভ করেছে এবং নির্ধারিত সময়েই দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলচ্চিত্রটি কেবল দেশেই নয়, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাসহ আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে ঈদ উপলক্ষে এর টেলিভিশন সম্প্রচার স্বত্বও বিক্রি করা হয়েছে। প্রযোজনা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাস্তবধর্মী প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই চলচ্চিত্র দর্শকদের কাছে প্রাসঙ্গিকতা তৈরি করবে এবং প্রবাসজীবনের অন্তর্গত সংকট ও সামাজিক দায়বদ্ধতার বিষয়টি নতুনভাবে আলোচনায় আনবে।
রেশন দুর্নীতি মামলায় ইডির তলবে টালিউড অভিনেত্রী ও সাবেক এমপি নুসরাত জাহান। ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) আগামী ২২ এপ্রিল কলকাতার সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে তাকে। অভিযোগ, সরকারি রেশন বিতরণ ও গম সরবরাহ সংক্রান্ত একটি অনিয়ম তদন্তের সূত্র ধরেই তার নাম সামনে আসে। তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগকৃত সময় তিনি নুসরাত জাহান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। একই মামলায় অর্থ ও খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় দুর্নীতির বিস্তৃত অভিযোগ খতিয়ে দেখছে সংস্থাটি। তবে নুসরাত কলকাতায় সরাসরি হাজির না হয়ে দিল্লিতে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানিয়েছেন বলে জানা গেছে। ইডির তলবে তার আইনি ও প্রশাসনিক অবস্থান এখন নজরদারিতে রয়েছে।