২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ম্যাচ পরিচালনার জন্য রেফারিদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে FIFA। দীর্ঘ তিন বছরের মূল্যায়ন ও পর্যবেক্ষণ শেষে মোট ৫২ জন প্রধান রেফারি, ৮৮ জন সহকারী রেফারি এবং ৩০ জন ভিডিও ম্যাচ অফিশিয়ালকে মনোনীত করা হয়েছে।
আসন্ন বিশ্বকাপে ৪৮ দল অংশ নেবে এবং মোট ১০৪টি ম্যাচ পরিচালনার জন্য বাড়তি সংখ্যক অফিশিয়াল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা পূর্ববর্তী আসরগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ফিফার মতে, মাঠে ধারাবাহিক ও উচ্চমানের পারফরম্যান্স প্রদর্শনকারী কর্মকর্তারাই কেবল এই তালিকায় স্থান পেয়েছেন।
পিয়েরলুইজি কলিনার নেতৃত্বাধীন রেফারি কমিটি জানিয়েছে, নির্বাচিত কর্মকর্তাদের শারীরিক সক্ষমতার পাশাপাশি মানসিক প্রস্তুতিও বিশেষভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে। এ জন্য চিকিৎসা ও ফিটনেস সহায়তার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ফিফার রেফারি কমিটির চেয়ারম্যান এবং কিংবদন্তি পিয়েরলুইজি কলিনা
এবারের আসরে নারী রেফারিদের অংশগ্রহণও বৃদ্ধি পেয়েছে; ছয়জন নারী ম্যাচ অফিশিয়াল তালিকায় জায়গা পেয়েছেন, যা ফিফার অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতির ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে।
প্রযুক্তিগত দিক থেকেও আসছে বড় পরিবর্তন। গোল-লাইন প্রযুক্তি ও সেমি-অটোমেটেড অফসাইড সিস্টেমের উন্নত সংস্করণের পাশাপাশি যুক্ত হচ্ছে কানেক্টেড বল প্রযুক্তি। সবচেয়ে আলোচিত সংযোজন হিসেবে থাকছে রেফারিদের বডি ক্যামেরা, যা প্রথমবারের মতো দর্শকদের সরাসরি মাঠের ভেতরের দৃষ্টিকোণ দেখার সুযোগ দেবে।
ফিফা জানিয়েছে, খেলার গতি বাড়ানো এবং সময় অপচয় রোধে নতুন আইএফএবি অনুমোদিত নিয়মাবলীও কার্যকর হবে, পাশাপাশি ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR) প্রোটোকলে আনা হয়েছে একাধিক সংশোধন।
দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান প্রথমবারের মতো বর্তমান পরিস্থিতি, রাজনীতি ও নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা মন্তব্য করেছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, অতীতে “সবাই আওয়ামী লীগ করত” বলে মনে হলেও এখন ভিন্ন বাস্তবতা দেখা যাচ্ছে—যা নিয়ে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া সাকিব জানান, রাজনীতিতে আসার সিদ্ধান্তকে তিনি ভুল মনে করেন না এবং নিজের অবস্থানে এখনো অনড় রয়েছেন। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলে যাওয়ার পর দেশে ফেরার বিষয়টি নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। দেশে ফিরলে প্রথম গন্তব্য কী হবে—মিরপুর নাকি নিজ জেলা মাগুরা—এ প্রশ্নে সাকিব বলেন, বর্তমানে ঢাকায় পা রাখাটাই তার জন্য বড় ভাবনার বিষয়। একইসঙ্গে তিনি জানান, মাগুরায় তিনি সবসময়ই নিজ পরিচয়ে সাধারণ মানুষ হিসেবেই ছিলেন, আলাদা কোনো পরিচয় নয়। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে দেশে না ফেরায় তার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ সাক্ষাৎকারে দেওয়া মন্তব্যগুলো ক্রীড়া ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ক্রিকেট থেকে রাজনীতিতে স্থায়ীভাবে যুক্ত থাকার ইঙ্গিত দিয়ে নিজের দলীয় অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা স্পষ্ট করেছেন সাকিব আল হাসান। রোববার (৩ মে) এক গণমাধ্যমে দেওয়া দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে সাবেক এই বাংলাদেশ অধিনায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য বলেন, রাজনৈতিক অবস্থানে তিনি পরিবর্তন আনতে আগ্রহী নন এবং দীর্ঘদিন ধরে একই আদর্শ ও দলে অনুগত থাকার কথা তুলে ধরেন। সাকিব আল হাসান দাবি করেন, তিনি অতীতে যেসব দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, সেখানেও দায়িত্ব ও আনুগত্য বজায় রেখেছেন এবং ভবিষ্যতেও দল পরিবর্তনের কোনো ইচ্ছা নেই। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করে রাখা গণতান্ত্রিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং সময়ের ব্যবধানে পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে বলেই তিনি বিশ্বাস করেন। রাজনীতিতে প্রতিহিংসার সংস্কৃতি নিয়ে মন্তব্য করে তিনি বলেন, দোষ–ভুলের পুনরাবৃত্তি চলতে থাকলে রাজনৈতিক অচলাবস্থা অব্যাহত থাকবে, যা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে উদাহরণ সৃষ্টি করতে হবে। ২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচনে মাগুরা-১ আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য সংসদ সদস্য থাকা সাকিব জানান, ভবিষ্যতে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তিনি পুনরায় প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ রাখেন। বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থানরত এই ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি বলেন, দেশে ফিরতে তিনি আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে প্রস্তুত, তবে নিরাপত্তা ও হয়রানিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত হওয়াকে তিনি পূর্বশর্ত হিসেবে দেখছেন। সাকিবের ভাষায়, সাধারণ নাগরিক হিসেবে ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা পেলে তিনি দ্রুতই দেশে ফিরতে প্রস্তুত।
বাংলাদেশ ক্রিকেটে দর্শক-আচরণ নীতিতে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে, যেখানে সাকিব আল হাসান ও মাশরাফি বিন মুর্তজাকে ঘিরে আগের বিধিনিষেধ শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। শনিবার (২৫ এপ্রিল) এক আনুষ্ঠানিক মন্তব্যে ইসরাফিল খসরু জানান, এখন থেকে মাঠে দর্শকরা এই দুই ক্রিকেটারের ছবি ও প্ল্যাকার্ড বহন করে প্রবেশ করতে পারবেন। পূর্ববর্তী নিষেধাজ্ঞা থেকে সরে এসে নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়কে ক্রিকেটীয় অবদানের সঙ্গে মেলানো উচিত নয় এবং দর্শকেরা তাদের প্রিয় খেলোয়াড়দের প্রতি সমর্থন প্রকাশে স্বাধীনতা ভোগ করবেন। অ্যাডহক কমিটির পর্যবেক্ষণে বলা হয়, সাকিব আল হাসান এবং মাশরাফি বিন মুর্তজা বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন, যা রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের বাইরে মূল্যায়ন করা উচিত। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ম্যাচে দর্শকদের জন্য মাঠে প্রবেশের সময় প্ল্যাকার্ড ও প্রতীক প্রদর্শনে আর কোনো প্রশাসনিক বাধা থাকবে না বলে জানানো হয়েছে।