বাংলাদেশ

১ যুগ পরও চালু হয়নি ৫০ শয্যার কার্যক্রম

৩লাখ মানুষের জন্য চিকিৎসক মাত্র একজন

Icon
তানিয়া আক্তার
প্রকাশঃ জানুয়ারী ১৫, ২০২৬
ছবি: প্রতিনিধি
ছবি: প্রতিনিধি

দীর্ঘ ১২ বছরেও চালু হয়নি ৫০ শয্যার কোন কার্যক্রম। ৫০ শয্যাতো দুরের কথা ৩১ শয্যার লোকবলের সংকটই কাটেনি। পর্যাপ্ত জনবল ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের চিকিৎসা সেবা। চিকিৎসক না থাকায় দরিদ্র পীড়িত এই অঞ্চলের মানুষের চিকিৎসা সেবা দারুণ ভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

ছোটখাটো অস্ত্রোপচারের জন্য রোগীদের যেতে হচ্ছে সদর হাসপাতাল কিংবা মানহীন প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে। এতে করে চিকিৎসা নিতে আসা লোকজন নানা ভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
জানা যায়, ভারতীয় সীমান্তবর্তী বকশীগঞ্জ উপজেলার তিনলাখ মানুষের চিকিৎসা সেবার একমাত্র ভরসাস্থল বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স। এছাড়াও ভৌগলিক কারনে দুরত্ব কম হওয়ায় প্রতিবেশী শ্রীবরদী উপজেলা, রাজিবপুর-রৌমারী ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চরাঞ্চলের ৬-৭ টি ইউনিয়নের মানুষ বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসেন। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪-৫ শত রোগী এই হাসাপতালে চিকিৎসা সেবার জন্য আসেন।  জনবল সঙ্কটের কারনে প্রায় ৩ লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবার জন্য হাসপাতালটি এখন নিজেই অসুস্থ্য। দরিদ্র পীড়িত এ অঞ্চলের মানুষের কথা ভেবে ২০১৩ সালের ১৩ অক্টোবর ৩১ শয্যার এই হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। ২০১৫ সালের ১৩ জুলাই ৫০ শয্যা এ হাসপাতালটি আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু উদ্বোধনের ১২বছরেও চালু হয়নি ৫০ শয্যার কোন কার্যক্রম। দেওয়া হয়নি ৫০ শয্যার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রপাতি। বাড়ানো হয়নি সুযোগ-সুবিধা। ৩১ শয্যার হাসপাতালে যে জনবল ও যন্ত্রপাতি থাকার কথা, সেটিও নেই। ফলে এখানে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। জনবল সঙ্কট, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম না থাকায় এ হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ইনডোর চালু করতে যে জনবল ও সাজ-সরঞ্জাম প্রয়োজন তার কোনটাই এখানে নেই। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে হাসপাতালে আসা অধিকাংশ রোগীকে রেফার করা হয় ময়মনসিংহ কিংবা ঢাকায়। ফলে চিকিৎসার ব্যয় বহনে অপারগ রোগীদের বিনা চিকিৎসায় মরতে হচ্ছে। বহির্বিভাগে রোগীদের আসা-যাওয়া আর পরামর্শ নেয়াই হলো নামে মাত্র ৫০ শয্যা এ হাসপাতালের নিত্যদিনের চিত্র।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়,
৫০ শয্যার জন্য শুধু প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়া গেছে। ৫০ শয্যা বিশিষ্ট এই হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ চিকিৎসা কর্মকর্তা থাকার কথা ২৪ জন। ২৪টি পদের মধ্যে প্রায় সব কটি পদই শূন্য। জুনিয়র কনসালটেন্ট (কার্ডিওলজী), জুনিয়র কনসালটেন্ট (চর্ম ও যৌন), জুনিয়র কনসালটেন্ট 
(নাক,কান,গলা), জুনিয়র কনসালটেন্ট (চক্ষু),জুনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থো), জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারী), জুনিয়র কনসালটেন্ট (শিশু),এ্যান্সেথেটিক্স বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। ফলে চিকিৎসা সেবা বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারন রোগীরা। এছাড়াও ইনডোর মেডিকেল অফিসার,প্যাথলজিষ্ট, নার্সিং সুপারভাইজার, মিডওয়াইফ, মেডিকেল টেকনিক্যাল ল্যাব, ফার্মাসিষ্ট, প্রধান সহকারী, হিসাব রক্ষক, কার্ডিওগ্রাফার, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর, ইমার্জেন্সী এটেনডেন্ট, ল্যাবরেটরী এটেনডেন্ট, ওটি বয়সহ একাধিক পদ শূন্য রয়েছে। ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে দুইটি অ্যাম্বুলেন্স থাকার কথা থাকলেও রয়েছে একটি। সেটিও মাঝে মধ্যেই বিকল হয়ে থাকে। ফলে জুরুরী প্রয়োজনে রোগীদের প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্সে অতিরিক্ত কয়েকগুন বাড়তি ভাড়া দিয়ে যেতে হয় হাসপাতালে। অপারেশন থিয়েটার রুম থাকলেও নেই মেশিনপত্র। ছোট খাটো কোন অপারেশনের জন্য যেতে হয় জেলা সদর হাসপাতাল কিংবা প্রাইভেট ক্লিনিকে। আল্ট্রাসনোগ্রাম থাকলেও তার ব্যবহার হয়নি কোনদিন। ইসিজি মেশিন রয়েছে তবে জরুরী প্রয়োজনে বেশিরভাগ সময়ই থাকে বিকল। জনবল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বরাদ্ধ না পাওয়ায় উদ্বোধনের 
১ যুগপরও ৫০ শয্যার কোন কার্যক্রমই চালু হয়নি। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মর্কতা ও আবাসিক মেডিকেল অফিসার ছাড়া কোন চিকিৎসক নেই এখানে। উপজেলার ৭ ইউনিয়নের সাব সেন্টারে সাতজন মেডিকেল অফিসার থাকার কথা থাকলেও একজনও নেই। চিকিৎসক না থাকায় যে কোনো রোগী এলেই জরুরী বিভাগ থেকে তাদের স্থানান্তর করা হয় জামালপুর, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কিংবা ঢাকায়। গুরুতর রোগী নিয়ে বিপাকে পড়ে যায় দরিদ্র পরিবারগুলো।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা ফারাজীপাড়া গ্রামের রোকসানা বেগম,আলাল উদ্দিন, চন্দ্রাবাজ এলাকার রিমা বেগম সহ বেশ কয়েকজন রোগী জানান, এই হাসপাতালে ডাক্তার পাওয়া যায়না। জুরুরী বিভাগে যে ওষুধ দেন তার বেশিরভাগই বাইরে থেকে কিনতে হয়। এতবড় হাসপাতাল অথচ ডাক্তার নেই।
বগারচর ইউনিয়নের সারমারা থেকে আসা মধ্যবয়সী নারী রোকেয়া  বেগম বলেন,তার মেয়ের পেটের ব্যাথার জন্য হাসপাতালে এসেছেন। দীর্ঘক্ষন বসে থেকে ডাক্তার না পেয়ে নিরুপায় হয়ে বাইরের ক্লিনিকে ডাক্তার দেখান তিনি। ডাক্তার না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। 
বকশীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ উল হাসান বলেন, নামেই ৫০ শয্যা হাসপাতাল। হাসপাতালের জরুরী বিভাগে গেলে  ডাক্তার পাওয়া যায় না। জরুরী বিভাগে থাকা ওয়ার্ড বয় ও ঝাড়ুদাররা ফোন করলে কখনো ডাক্তার আসে, আবার কখনো আসেন না। ততক্ষনে রোগীর অবস্থা খারাপ হতে থাকে। এতে রোগীসহ স্বজনরা পড়েন বেকায়দায়। হাসপাতাল আছে, ডাক্তার নেই বিষয়টি অত্যান্ত দু:খজনক। তাই দ্রুত জনবল নিয়োগ দিয়ে  ৫০ শয্যার কার্যক্রম চালুর দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ রেজাউল ইসলাম বলেন, তিনি এবং একজন আবাসিক মেডিকেল অফিসার ছাড়া হাসপাতালে কোন ডাক্তার নেই। এছাড়াও ৭ ইউনিয়নের সাব সেন্টারে সাতজন মেডিকেল অফিসারের মধ্যে একজনও নেই। ফলে চিকিৎসক না থাকায় বিশাল জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা সেবা দারুন ভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

বাংলাদেশ

আরও দেখুন
ছবি: প্রতিনিধি
নীলফামারী মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য চালু হলো বাসসেবা

    দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটিয়ে নীলফামারী মেডিক্যাল কলেজ শিক্ষার্থীদের জন্য চালু হলো বিশেষ বাসসেবা। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত যাতায়াতজনিত দুর্ভোগ লাঘবে নীলফামারী মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি)-এর একটি ৫৩ আসনের বাস চালু করেছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) আনুষ্ঠানিকভাবে এ সেবার উদ্বোধন করা হয়। মেডিক্যাল কলেজ সূত্র জানায়, সদর উপজেলার পলাশবাড়িস্থ কলেজ ক্যাম্পাস থেকে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতাল পর্যন্ত প্রতিদিন পাঁচ দফায় শিক্ষার্থীদের আনা-নেওয়া করবে বাসটি। পূর্বে প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে ব্যবহারিক ক্লাসে অংশ নিতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হতো। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কলেজের অধ্যক্ষ ডা. জিম্মা হোসেন বলেন, প্রায় তিনশ শিক্ষার্থীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে বিআরটিসির সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে এই বাসসেবা চালু করা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে স্বস্তি এনে দেবে। এ সময় সংশ্লিষ্ট পরিবহন ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সৈয়দপুর, নীলফামারী এপ্রিল ১৬, ২০২৬ 0
ছবি: প্রতিনিধি

ফরিদপুরে ট্রেনে কাটা পড়ে বৃদ্ধের মর্মান্তিক মৃত্যু

মোরেলগঞ্জে কৃষক দল নেতার জমি দখলে মরিয়া শ্রমীক লীগ নেতা

ছবি: প্রতিনিধি

গণতন্ত্র ছাড়া বাংলাদেশের মুক্তি বা সমৃদ্ধি সম্ভব নয়: বরিশালে স্পিকার

ছবি: প্রতিনিধি
সৈয়দপুরে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ঢেউটিন ও খাবার বিতরণ

  নীলফামারীর সৈয়দপুরে সাম্প্রতিক ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ৬টি পরিবারের মাঝে ঢেউটিন ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসব সহায়তা বিতরণ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পৌর এলাকার দর্জিপাড়ার কোরবান আলীর তিন ছেলের ঘর নির্মাণে ৩ বান ঢেউটিন, মুন্সিপাড়ার রহিমুদ্দিনকে ২ বান ঢেউটিন ও শুকনো খাবার এবং ক্যান্সার আক্রান্ত নূর বানুকে ১ বান ঢেউটিনসহ খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়। সাম্প্রতিক ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এসব পরিবার পলিথিন টানিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন। সহায়তা পেয়ে তারা স্বস্তি প্রকাশ করেন। বিতরণ অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল মাবুদসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।  

সৈয়দপুর, নীলফামারী এপ্রিল ১৬, ২০২৬ 0

ছেলের মৃত্যুর তিন ঘণ্টা পর মায়ের মৃত্যু, পাশাপাশি দাফন

বনানীতে বহুতল ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিয়ন্ত্রণে ৫ ইউনিট

ছবি: প্রতিনিধি

সৈয়দপুরে শুরু ৪৭ তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা

ছবি: প্রতিনিধি
বৈশাখে ফরিদপুরে শতবর্ষী জমজমাট মাছের মেলা

  ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী বাজারে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) বৈশাখের দ্বিতীয় দিনে দিনব্যাপী এ মেলা বসে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক শতাব্দী আগে শুরু হওয়া এই মাছের মেলা বর্তমানে গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সামাজিক উৎসবে পরিণত হয়েছে। মেলায় রুই, কাতলা, বোয়ালসহ দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির বড় মাছ বেচাকেনা হয়। ক্রেতা-বিক্রেতারা জানান, বৈশাখে মাছের চাহিদা বেশি থাকায় মেলায় ভালো বিক্রির আশা থাকে। একই সঙ্গে এক জায়গায় নানা ধরনের বড় মাছ দেখার সুযোগ থাকায় দর্শনার্থীদের আগ্রহও থাকে বেশি। স্থানীয়দের মতে, এই মেলা শুধু বাণিজ্য নয়, বরং এলাকার ঐতিহ্য ও সামাজিক বন্ধনের প্রতীক হিসেবে প্রতি বছর নববর্ষে নতুন মাত্রা যোগ করে।  

ফরিদপুর প্রতিনিধি> এপ্রিল ১৫, ২০২৬ 0
ছবি: প্রতিনিধি

সৈয়দপুরে তিন দিনব্যাপী বৈশাখী মেলায় উপচে পড়া ভিড়

ছবি: প্রতিনিধি

ফেনীতে হজ্জ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

ছবি: প্রতিনিধি

হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন সফল করতে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান বিভাগীয় কমিশনারের

0 Comments