সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনসহ ৩৩০ জন ‘দুষ্কৃতকারীর’ চট্টগ্রাম শহরে অবস্থান ও প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে পুলিশ। নগর পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজের সই করা গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম শহরের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তার স্বার্থে এসব দুষ্কৃতকারীকে চট্টগ্রাম শহরে অবস্থান ও প্রবেশ চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
৩৩০ জনের তালিকায় আরও নাম রয়েছে রাউজানের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর, সাইফুল আলম লিমন, সাবেক কাউন্সিলরদের মধ্যে গাজী শফিউল আজিম, শৈবাল দাশ, সাহেদ ইকবাল, জহরুল আলম জসিম, মোহাম্মদ হোসেন হিরণ, নাজমুল হক, হাসান মুরাদ, গিয়াস উদ্দিন, নূর মুস্তাফা, আবুল হাসনাত বেলাল, মোবারক হোসেনসহ নগরের ৪১টি ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ-সমর্থিত সাবেক কাউন্সিলর।
তালিকায় সন্ত্রাসীদের মধ্যে রয়েছেন বিদেশে পলাতক সাজ্জাদ আলী, তাঁর সহযোগী সাজ্জাদ হোসেন (ছোট সাজ্জাদ), মোবারক হোসেন, মোহাম্মদ রায়হান, খোরশেদ, ছোট সাজ্জাদের স্ত্রী তামান্না শারমিন, ইসমাইল হোসেন, শহিদুল ইসলাম বুইস্যা, নুরুল আলম উরফে হামকা আলম।
পুলিশ সূত্র জানায়, সন্ত্রাসী সাজ্জাদ, শহিদুল ইসলামসহ সন্ত্রাসীরা চাঁদা ও আধিপত্য বিস্তারের জন্য নগরে প্রকাশ্য অস্ত্রবাজি করে আসছে। খুনের ঘটনাও করছে। এ দিকে নগরের বিভিন্ন এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গসংগঠন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ঝটিকা মিছিল করে আসছেন।
২০০০ সালের ১ অক্টোবর একে-৪৭ রাইফেলসহ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন বড় সাজ্জাদ হিসেবে পরিচিত সাজ্জাদ আলীফাইল ছবি
এদিকে তালিকায় নগর বিএনপির অঙ্গসংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীর নামও রয়েছে। এর মধ্যে নগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শওকত আজম খাজা, বাকুলিয়া থানা বিএনপির নেতা মোর্শেদ খান, কোতোয়ালির যুবদল নেতা হাসান, পাহাড়তলীর মাসুমের নাম রয়েছে।
তালিকায় সন্ত্রাসী ছাড়াও কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের নাম থাকা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার অপরাধ অভিযান ফয়সাল আহম্মেদ সাংবাদিকদরে বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগ প্রকাশ্যে ও গোপনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির চেষ্টা করে আসছে। তাই তাদের বিষয়ে নজরদারি বাড়িয়েছে পুলিশ।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে যেকোনো সময় অনুমোদন হতে পারে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল-এর কেন্দ্রীয় কমিটি। দলীয় একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, চেয়ারম্যান তারেক রহমান চূড়ান্ত অনুমোদন দিলেই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে। দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন কমিটি নিয়ে আলোচনা ও জল্পনা-কল্পনা চলছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে কারা আসছেন, তা নিয়ে কৌতূহল দেখা দিয়েছে। সম্ভাব্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসানের নাম আলোচনায় রয়েছে। তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই সাবেক ছাত্রনেতাকে সাংগঠনিকভাবে দক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হিসেবে দেখছেন অনেকে। দলীয় নেতাকর্মীদের একাংশের মতে, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক স্থবিরতা কাটিয়ে যুবদলকে পুনরুজ্জীবিত করতে নতুন নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এখনো কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলেই নতুন কমিটি প্রকাশ করা হবে বলে জানা গেছে।
বিদেশে চিকিৎসাধীন বিএনপির শীর্ষ নেতা মির্জা আব্বাস-এর শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে শঙ্কামুক্ত—এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন পারিবারিক সূত্র। মালয়েশিয়ার প্রিন্স কোর্ট মেডিকেল সেন্টার-এ চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় চিকিৎসকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তার সহধর্মিণী আফরোজা আব্বাস জানিয়েছেন, তিনি এখন স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারছেন এবং ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা অগ্রগতি অব্যাহত থাকলে আসন্ন ঈদুল আজহা-র আগেই দেশে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। উল্লেখ্য, গত মার্চে রাজধানীতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয় এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়া হয়। বর্তমানে তার চিকিৎসা প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জ্বালানি সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে সাতক্ষীরায় ১১ দলের উদ্যোগে গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২ মে) বিকেলে শহরের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ক থেকে মিছিলটি বের হয়ে পাকাপুল মোড়, নিউমার্কেট, তুফান মোড়, বড়বাজার ও থানা মসজিদ এলাকা প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়। পরে সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা ১১ দলের আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাতক্ষীরা জেলা আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল। এ সময় জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান, নায়েবে আমির শেখ নূরুল হুদা, সহকারী সেক্রেটারি মো. ওমর ফারুক, মাওলানা ওসমান গণি, শহর শিবির সভাপতি মেহেদি হোসেনসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে চার দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে বলেন, দাবি পূরণে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।