খেলা

মেসির জীবন থেকে শেখার ৫টি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা

Icon
আয়ান তাহরিম
প্রকাশঃ জুন ২৬, ২০২৫
5-important-life-lessons-to-learn-from-messi
5-important-life-lessons-to-learn-from-messi

আপনি কি কখনো ভেবেছেন, একজন খাটো, চুপচাপ, অসুস্থ ছেলেটা কীভাবে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় হয়ে উঠল?


প্রশ্নটা সহজ, কিন্তু উত্তরটা যতটা বাস্তব, ততটাই অনুপ্রেরণামূলক।
এই গল্পটা কারো রূপকথা নয়। এটা লিওনেল আন্দ্রেস মেসি — এক বাস্তব জীবনের কিংবদন্তির কাহিনি।

 

মেসির জন্ম ১৯৮৭ সালে, আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরে। ছোটবেলায়ই দেখা দেয় শারীরিক সমস্যা — তার শরীরে বৃদ্ধি হরমোন স্বাভাবিকভাবে কাজ করছিল না। চিকিৎসা ব্যয় এত বেশি ছিল যে তার পরিবার প্রায় দিশেহারা হয়ে পড়ে।
কিন্তু ভাগ্য বদলায় যখন স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনা তার প্রতিভা চিনে নেয়, এবং দায়িত্ব নেয় মেসির চিকিৎসার।
সেখান থেকেই শুরু হয় এক মহান যাত্রা—যা শুধুই ট্রফি বা গোল নয়, বরং আত্মবিশ্বাস, অধ্যবসায় আর নীরব সাফল্যের প্রতীক।

 

আমরা যখন সফলতা ভাবি, তখন চোখে ভেসে ওঠে জাঁকজমক, জয়ের উল্লাস আর গ্ল্যামার।
কিন্তু মেসির গল্প আমাদের শেখায়—নীরবে কাজ করে যাও, সময় আসলে পুরো দুনিয়া তোমাকে চিনবে।

 

এই লেখায় আমরা মেসির জীবন থেকে ৫টি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা তুলে ধরব—যা কেবল একজন ফুটবলপ্রেমী নয়, বরং যে কেউ, যেকোনো বয়সে নিজের জীবনে কাজে লাগাতে পারে।

চলো, শিখে নিই সেই শিক্ষা, যে শিক্ষা একজন খাটো ছেলেকে ফুটবলের আকাশছোঁয়া শিখরে পৌঁছে দিয়েছে।

 

১. ছোটখাটো সীমাবদ্ধতা দিয়ে জীবন থেমে যায় না

 

যখন ছোট ছিল, তখন কেউ ভাবত না এই ছেলেটা একদিন বিশ্বের সেরা ফুটবলার হবে।
লিওনেল মেসির উচ্চতা স্বাভাবিক ছিল না, কারণ তার দেহে “Growth Hormone Deficiency (GHD)” ছিল।
অর্থাৎ, তার শরীর ঠিকভাবে বেড়ে উঠছিল না। বয়স বাড়ছিল, কিন্তু গড়ন ছিল ছোটদের মতো।
একজন ফুটবলারের জন্য যেটা সরাসরি ক্যারিয়ারে প্রতিবন্ধক।

 

মেসির বাবা-মা অনেক চেষ্টা করেছিলেন—চিকিৎসা চালিয়ে যেতে, খেলা চালু রাখতে।
কিন্তু তখন আর্জেন্টিনায় এ চিকিৎসা খরচ এত বেশি ছিল যে তাদের পক্ষে চালিয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

 

ঠিক তখনই—মেসির জীবন বদলে দেয় বার্সেলোনা ক্লাব।
মাত্র ১৩ বছর বয়সে ক্লাবটি মেসির প্রতিভা দেখে তাকে স্পেনে নিয়ে আসে, তার চিকিৎসা, থাকা–খাওয়াসহ সব দায়িত্ব নেয়।
এবং সেই ছোট্ট ছেলেটা নিজের সীমাবদ্ধতা সঙ্গী করেই খেলা চালিয়ে যেতে থাকে, প্রতিদিন আরও পরিশ্রম করতে থাকে।

 

⏳ কেউ যখন বলত "তুমি অনেক ছোট", তখন মেসি বলত না কিছু—জবাব দিত মাঠে গোল দিয়ে।

 

🎯 শেখা:

জীবনে সীমাবদ্ধতা থাকবে—তা শারীরিক, আর্থিক বা মানসিক। কিন্তু সেগুলোই যদি তোমাকে থামিয়ে দেয়, তাহলে তুমি হেরে যাবে।
আর যদি সেই সীমাবদ্ধতা থেকেই শক্তি পাও, তাহলে একদিন সেই বাধাই হবে তোমার সাফল্যের প্রেক্ষাপট।

মেসির মতো কেউ যদি ছোট শরীরে বিশাল স্বপ্ন বয়ে নিয়ে চলতে পারে—তাহলে তুমিও পারো।

 

২. প্রতিদিন উন্নতি করাই বড় সাফল্য

 

লিওনেল মেসির জীবনজুড়ে এক জিনিস সবসময় একই থেকেছে—প্রতিদিন একটু ভালো হওয়ার চেষ্টা।
সে কখনো বলে না “আমি সেরা” কিংবা “আমার আর শেখার কিছু নেই।”
বরং তার প্রতিটি অনুশীলন, প্রতিটি ম্যাচ যেন আরও উন্নত হওয়ার এক নতুন সুযোগ।

 

ছোটবেলা থেকেই মেসি নিজেকে প্রতিদিন একটু করে গড়ে তুলেছে।
⚽ সে শুধু গোল করাকে দক্ষতা মনে করত না,
বরং পাস, ড্রিবল, স্পিড, ফিটনেস—সবকিছুতে সে নিজেকে সময় দিয়েছে।


আর এখানেই তার আসল জাদু।

🎥 একটা উদাহরণ দেখি:

 

মেসি একবার বলেছিল,

“আমি কখনো নিজেকে নিখুঁত ভাবি না। আমি জানি, কালকে আরও ভালো করা যাবে।”

এই মনোভাবই তাকে করেছে ইতিহাসের সবচেয়ে কনসিসটেন্ট (স্থায়ী সাফল্যমণ্ডিত) ফুটবলারদের একজন।

 

📚 শেখা:

 

আজ তুমি যেখানে আছ, সেটাই শেষ না।
প্রতিদিন ১% উন্নতি হলেও, এক বছর পরে তুমি থাকবে ৩৭ গুণ উন্নত অবস্থানে।
(এটা কিন্তু গাণিতিক সত্য, ১.01ⁿ = 37.78 যখন n = 365!)

 

মেসির গল্প বলে, “সেরা হওয়া জরুরি নয়—প্রতিদিন একটু করে ভালো হওয়াটাই আসল।”
তুমি যদি নিয়ম করে নিজের পড়াশোনা, কাজ, স্কিল বা মানসিকতা একটু একটু করে ঠিক করো,
তাহলে সাফল্য সময়ের ব্যাপার মাত্র।

 

৩. নম্রতা ও ধৈর্যই প্রকৃত শক্তি

 

আজকের দুনিয়ায় সফলতা মানেই যেন বাহাদুরি, শিরোনামে থাকা, ক্যামেরার সামনে নিজেকে জাহির করা।
কিন্তু লিওনেল মেসি যেন এর একদম উল্টো —
তিনি সবসময় শান্ত, নম্র, চুপচাপ কাজ করে যান।


কখনো রেফারির সঙ্গে তর্কে জড়ান না, গোল করার পরও অহংকার দেখান না, কথার চেয়ে পারফরম্যান্সেই বিশ্বাস রাখেন।

 

তার ক্যারিয়ারে অনেক সময় এসেছে যখন তিনি চাইলেই রাগ করতে পারতেন, কথা বলতেই পারতেন।

 

  • ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে ফাইনালে হেরে গেছেন

  • ৩ বার কোপা আমেরিকার ফাইনাল খুইয়েছেন

  • ২০২1 সালের আগে দেশের জার্সিতে কোনো ট্রফিই ছিল না
    কিন্তু তারপরও তিনি দলের প্রতি বিশ্বাস হারাননি, অভিমান করলেও মাঠ ছাড়েননি।

 

তার ধৈর্য আর আত্মনিয়ন্ত্রণ তাকে করেছে "লিডার", কেবল খেলোয়াড় নয়।

🌿 শেখা:

 

নম্রতা কখনো দুর্বলতা নয়। বরং সেটা এমন এক শক্তি, যা তোমাকে ভিতর থেকে গড়ে তোলে।


আর ধৈর্য?
সেটা হলো সাফল্যের আগে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

 

যখন চারপাশের মানুষ তোমাকে ছোট করে দেখে, ফল আসছে না, বারবার হেরে যাচ্ছো—
তখনো যদি তুমি ভেঙে না পড়ে সামনে এগিয়ে যাও,
তাহলেই একদিন জয় আসবেই।

 

মেসির জীবন বলে,

"চুপ থেকে কাজ করো, কথা বলবে তোমার ফলাফল।"

 

৪. পরিশ্রমের বিকল্প নেই

 

অনেকে ভাবে, মেসি হয়তো ঈশ্বরপ্রদত্ত প্রতিভার অধিকারী।
ঠিক কথা।
কিন্তু শুধু প্রতিভা থাকলেই কি কেউ ইতিহাসের সেরা হয়ে ওঠে?

না।

মেসির প্রতিভার চেয়েও বড় জিনিস হলো তাঁর নিয়মিত কঠোর পরিশ্রম।

 

⚽ ছোটবেলার গল্প:

 

মাত্র ৮ বছর বয়স থেকেই মেসি প্রতিদিন ঘন্টার পর ঘন্টা অনুশীলন করতেন।
বার্সেলোনায় যাওয়ার পর তিনি যখন অনেক তরুণ খেলোয়াড়ের মধ্যে পড়ে গেলেন, তখনও তিনিই সবচেয়ে আগে মাঠে যেতেন,
সবার পরে প্র্যাকটিস শেষ করতেন।

 

একবার এক কোচ বলেছিলেন—

"মেসির সবচেয়ে বড় গুণ, সে খেলার পরে একাই মাঠে দাঁড়িয়ে ড্রিবলিং আর ফিনিশিং প্র্যাকটিস করত।
যখন সবাই বিশ্রাম নিচ্ছে, তখন সে কাজ করত চুপচাপ।"

 

💼 বড় হওয়ার পরও থেমে যাননি

 

  • ইনজুরি থেকে ফিরে জিমে ঘন্টার পর ঘন্টা

  • প্রতিটি ম্যাচের ভিডিও দেখে ভুল খুঁজে বের করা

  • নিজের খেলা নিয়ে সর্বদা সিরিয়াস — যেন সে নতুন এক শিক্ষার্থী

 

সে কারণেই এত বছর পরেও, এত কিছু জেতার পরেও মেসি আজও ভয়ংকর ধারাবাহিক ও কার্যকর।

 

🔥 শেখা:

 

আমরা অনেকেই সফলতার শর্টকাট খুঁজি।
কিন্তু মেসি বলেন না, “আমি ছোট ছিলাম, তাই ছাড় পাচ্ছি।”
তিনি বিশ্বাস করেন, “প্রতিভা যখন পরিশ্রমকে সঙ্গে পায়, তখনই সে কিংবদন্তি হয়ে ওঠে।”

 

তুমি যদি শুধু স্বপ্ন দেখো, কিন্তু পরিশ্রম না করো — তাহলে সেটা কেবল কল্পনা।
আর যদি প্রতিদিন একটু একটু করে চর্চা করো, চেষ্টা চালিয়ে যাও —
তাহলে স্বপ্ন একদিন বাস্তব হবেই।

 

৫. নিজের লক্ষ্য জানলে দুনিয়া জিতে নেওয়া যায়

 

প্রতিভা, পরিশ্রম, নম্রতা—এসব থাকলেও যদি জীবনের লক্ষ্য পরিষ্কার না থাকে, তাহলে মানুষ মাঝপথেই হারিয়ে যায়।
কিন্তু মেসি শুরু থেকেই জানতেন—তিনি শুধু ভালো খেলোয়াড় হতে চান না, তিনি দেশের জন্য, নিজের ভালোবাসার ক্লাবের জন্য ইতিহাস গড়তে চান।

 

🎯 বার্সেলোনার প্রতি দায়বদ্ধতা

অনেক ক্লাব প্রচুর টাকায় মেসিকে নিতে চেয়েছিল।
তবু তিনি বার্সেলোনায় থেকে গেছেন ২১ বছর—শুধু পেশাদারিত্ব নয়, ভালোবাসা আর লক্ষ্য ছিল দলের সঙ্গে বড় কিছু করার।

 

🇦🇷 আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে চাপানো স্বপ্ন

বারবার হেরেছেন—বিশ্বকাপ ফাইনাল, কোপা আমেরিকা ফাইনাল।
ম্যাচ শেষে কেঁদেছেন, দেশের সমালোচনা শুনেছেন, রাগ করে অবসরও নিয়েছিলেন।
তবু ফিরে এসেছেন। কেন?

কারণ তাঁর লক্ষ্য ছিল দেশের হয়ে কিছু জেতা। দেশের জন্য ইতিহাস গড়া।

এবং ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা আর ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জিতে সেটা করে দেখিয়েছেন।

 

📚 শেখা:

আমরা জীবনে অনেক কিছুই করতে চাই—ভালো রেজাল্ট, ভালো ক্যারিয়ার, নাম, খ্যাতি।
কিন্তু যদি পরিষ্কার লক্ষ্য না থাকে, তাহলে মনোযোগ ছড়িয়ে যায়, উৎসাহ হারিয়ে যায়।

তুমি যদি জানো, কোথায় যেতে চাও—তাহলে রাস্তা খুঁজে পাবে।
আর যদি লক্ষ্যই না ঠিক করো, তাহলে দুনিয়ার কোনো GPS-ও তোমাকে পৌঁছে দিতে পারবে না।

 

মেসির জীবন বলে—

"কোনো কিছুই অসম্ভব না, যদি তুমি জানো তুমি কিসের জন্য লড়ছো।"

 

 

উপসংহার

 

লিওনেল মেসির জীবন কেবল একজন ফুটবলারের ট্রফি আর রেকর্ডের গল্প নয় —
এটা এক শান্ত, আত্মবিশ্বাসী, পরিশ্রমী মানুষের গল্প, যে নিজের সীমাবদ্ধতাকে জয় করেছে লক্ষ্যে পৌঁছাতে।

 

আমরা সবাই জীবনে কোথাও না কোথাও আটকে যাই—
👉 কখনো শরীর, কখনো পরিস্থিতি, কখনো নিজের ভিতরের ভয় আমাদের থামিয়ে দেয়।
কিন্তু মেসি শিখিয়ে দিয়েছেন, “যদি তুমি চুপচাপ নিজের পথে থাকো, পরিশ্রম চালিয়ে যাও, এবং লক্ষ্য না ভুলো — তাহলে একদিন পুরো দুনিয়া তোমার পাশে দাঁড়াবে।”

 

🧠 এই লেখায় যা শিখলাম:

✅ সীমাবদ্ধতা কোনো বাধা না
✅ উন্নতি করতে হয় ধীরে ধীরে
✅ নম্রতা আর ধৈর্য আসল শক্তি
✅ পরিশ্রম ছাড়া কিছুই সম্ভব নয়
✅ স্পষ্ট লক্ষ্য থাকলে হার মানে না

 

✨ শেষ কথা:

"জাদু নেই, shortcut নেই — আছে কেবল বিশ্বাস, পরিশ্রম আর নিজের স্বপ্নে দাঁতে দাঁত চেপে লেগে থাকা।"

 

তুমি যদি আজ থেকে নিজের জীবনের লক্ষ্য ঠিক করো, পরিশ্রম শুরু করো—তাহলে একটা সময় এসে তুমি নিজেকেই চিনতে পারবে না।
কারণ তখন তুমি আর ‘সাধারণ’ থাকবা না — তুমি হবো নিজের জীবনের ‘মেসি’।

Tags

আগে সবাই আওয়ামী লীগ করত, এখন কেউ নেই: সাকিব

দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান প্রথমবারের মতো বর্তমান পরিস্থিতি, রাজনীতি ও নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা মন্তব্য করেছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, অতীতে “সবাই আওয়ামী লীগ করত” বলে মনে হলেও এখন ভিন্ন বাস্তবতা দেখা যাচ্ছে—যা নিয়ে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া সাকিব জানান, রাজনীতিতে আসার সিদ্ধান্তকে তিনি ভুল মনে করেন না এবং নিজের অবস্থানে এখনো অনড় রয়েছেন। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলে যাওয়ার পর দেশে ফেরার বিষয়টি নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। দেশে ফিরলে প্রথম গন্তব্য কী হবে—মিরপুর নাকি নিজ জেলা মাগুরা—এ প্রশ্নে সাকিব বলেন, বর্তমানে ঢাকায় পা রাখাটাই তার জন্য বড় ভাবনার বিষয়। একইসঙ্গে তিনি জানান, মাগুরায় তিনি সবসময়ই নিজ পরিচয়ে সাধারণ মানুষ হিসেবেই ছিলেন, আলাদা কোনো পরিচয় নয়। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে দেশে না ফেরায় তার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ সাক্ষাৎকারে দেওয়া মন্তব্যগুলো ক্রীড়া ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0

এবার বিশ্বকাপ উদ্বোধনী আয়োজনে মঞ্চ মাতাবেন বাংলাদেশের সঞ্জয়

ক্রিকেটার নাসির ও তামিমার বিচারের রায় হবে ১০ জুন

তবে কি আর্জেন্টাইন ক্লাবে যাচ্ছেন নেইমার?

দল বদল করছি না,পল্টি দেওয়ার অভ্যাস আমার নেই: সাকিব

ক্রিকেট থেকে রাজনীতিতে স্থায়ীভাবে যুক্ত থাকার ইঙ্গিত দিয়ে নিজের দলীয় অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা স্পষ্ট করেছেন সাকিব আল হাসান। রোববার (৩ মে) এক গণমাধ্যমে দেওয়া দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে সাবেক এই বাংলাদেশ অধিনায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য বলেন, রাজনৈতিক অবস্থানে তিনি পরিবর্তন আনতে আগ্রহী নন এবং দীর্ঘদিন ধরে একই আদর্শ ও দলে অনুগত থাকার কথা তুলে ধরেন। সাকিব আল হাসান দাবি করেন, তিনি অতীতে যেসব দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, সেখানেও দায়িত্ব ও আনুগত্য বজায় রেখেছেন এবং ভবিষ্যতেও দল পরিবর্তনের কোনো ইচ্ছা নেই। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করে রাখা গণতান্ত্রিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং সময়ের ব্যবধানে পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে বলেই তিনি বিশ্বাস করেন। রাজনীতিতে প্রতিহিংসার সংস্কৃতি নিয়ে মন্তব্য করে তিনি বলেন, দোষ–ভুলের পুনরাবৃত্তি চলতে থাকলে রাজনৈতিক অচলাবস্থা অব্যাহত থাকবে, যা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে উদাহরণ সৃষ্টি করতে হবে। ২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচনে মাগুরা-১ আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য সংসদ সদস্য থাকা সাকিব জানান, ভবিষ্যতে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তিনি পুনরায় প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ রাখেন। বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থানরত এই ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি বলেন, দেশে ফিরতে তিনি আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে প্রস্তুত, তবে নিরাপত্তা ও হয়রানিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত হওয়াকে তিনি পূর্বশর্ত হিসেবে দেখছেন। সাকিবের ভাষায়, সাধারণ নাগরিক হিসেবে ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা পেলে তিনি দ্রুতই দেশে ফিরতে প্রস্তুত।  

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৩, ২০২৬ 0

শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের নতুন কমিটিতে কুমার সাঙ্গাকারা

বিশ্বকাপ বর্জন ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের ‘গুরুতর ভুল’: সাকিব

বিশ্বকাপে ড্রোন হামলার আশঙ্কা, ন্যাশনাল গার্ড সক্রিয়ের আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের

সাকিব-মাশরাফির প্ল্যাকার্ডে মাঠে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

বাংলাদেশ ক্রিকেটে দর্শক-আচরণ নীতিতে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে, যেখানে সাকিব আল হাসান ও মাশরাফি বিন মুর্তজাকে ঘিরে আগের বিধিনিষেধ শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। শনিবার (২৫ এপ্রিল) এক আনুষ্ঠানিক মন্তব্যে ইসরাফিল খসরু জানান, এখন থেকে মাঠে দর্শকরা এই দুই ক্রিকেটারের ছবি ও প্ল্যাকার্ড বহন করে প্রবেশ করতে পারবেন। পূর্ববর্তী নিষেধাজ্ঞা থেকে সরে এসে নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়কে ক্রিকেটীয় অবদানের সঙ্গে মেলানো উচিত নয় এবং দর্শকেরা তাদের প্রিয় খেলোয়াড়দের প্রতি সমর্থন প্রকাশে স্বাধীনতা ভোগ করবেন। অ্যাডহক কমিটির পর্যবেক্ষণে বলা হয়, সাকিব আল হাসান এবং মাশরাফি বিন মুর্তজা বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন, যা রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের বাইরে মূল্যায়ন করা উচিত। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ম্যাচে দর্শকদের জন্য মাঠে প্রবেশের সময় প্ল্যাকার্ড ও প্রতীক প্রদর্শনে আর কোনো প্রশাসনিক বাধা থাকবে না বলে জানানো হয়েছে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৬, ২০২৬ 0

আচরণবিধি লঙ্ঘনে শাস্তি পেলেন বাংলাদেশি নাহিদা-শারমিন

ইরানের জায়গায় বিশ্বকাপে খেলার প্রস্তাবকে ‘লজ্জাজনক’ বলল ইতালি

সেঞ্চুরির পর লিটন দাসকে কৃতিত্ব দিলেন শান্ত

0 Comments