স্বাস্থ্য

প্রতিদিন মাত্র ৩০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস বদলে দিতে পারে জীবন

Icon
জানিফ হাসান
প্রকাশঃ জুন ২৬, ২০২৫

বর্তমান ব্যস্ত জীবনযাত্রা ও প্রযুক্তিনির্ভর জীবনের প্রভাবে আমরা দিন দিন অলস হয়ে পড়ছি। শরীরচর্চার অভাবে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগসহ নানা অসুস্থতায় ভুগছেন বহু মানুষ। অথচ প্রতিদিন মাত্র ৩০ মিনিট নিয়মিত হাঁটলেই অনেক বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব।

 

হাঁটা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

বিশেষজ্ঞদের মতে, হাঁটা শরীরের জন্য একটি সহজ, স্বাভাবিক এবং ঝুঁকিহীন ব্যায়াম। এটি কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেমকে সক্রিয় করে, ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়ায় এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ তারেক বলেন, “সাধারণ হাঁটা প্রতিদিনের রুটিনে অন্তর্ভুক্ত করলে রক্ত সঞ্চালন ভালো হয়, হৃৎপিণ্ড সুস্থ থাকে এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিও ঘটে।”

 

কোন কোন উপকারিতা পাওয়া যায়?

নিয়মিত ৩০ মিনিট হাঁটার ফলে শরীর ও মনের উপর যেসব প্রভাব পড়ে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু নিচে তুলে ধরা হলো:

  • হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস পায়

  • রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে

  • ওজন কমাতে ও স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে

  • অস্থি ও পেশির শক্তি বাড়ায়

  • মানসিক চাপ কমায় ও মন ভালো রাখে

  • ঘুমের মান উন্নত হয়

 

কখন হাঁটা সবচেয়ে উপকারী?

গবেষণায় দেখা গেছে, সকালে খালি পেটে হালকা হাঁটা বা বিকেলের দিকে সূর্যাস্তের আগের সময়টি হাঁটার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত। তবে সময়ের অভাবে কেউ যদি রাতে খানাপিনার কিছুক্ষণ পর হাঁটেন, তবুও সেটি উপকারি।

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, হাঁটার সময় যেন জুতার আরাম, রাস্তার নিরাপত্তা এবং শরীরের পানির চাহিদা খেয়াল রাখা হয়।

 

হাঁটার সময় কীভাবে হাঁটবেন?

হাঁটার সময় কিছু বিষয় অনুসরণ করলে উপকারিতা আরও বাড়ে:

  • সোজা হয়ে হাঁটুন

  • গতি ধীরে বাড়ান এবং ধীরে কমান

  • প্রতিদিন একই সময়ে হাঁটার চেষ্টা করুন

  • আরামদায়ক ও হালকা জুতা পরুন

  • মোবাইল বা হেডফোনে অতিরিক্ত মনোযোগ না দিয়ে চারপাশের দিকে খেয়াল রাখুন

 

হাঁটার অভ্যাস গড়বেন কীভাবে?

হঠাৎ করেই দীর্ঘ সময় হাঁটা শুরু না করে ধাপে ধাপে অভ্যাস তৈরি করা উচিত। প্রথমে প্রতিদিন ১০-১৫ মিনিট হাঁটার মাধ্যমে শুরু করুন, এরপর ধীরে ধীরে সময় বাড়ান। চাইলে পরিবারের কাউকে সঙ্গী করতে পারেন। এমনকি অফিসে লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করাও একটি কার্যকর উপায়।

 

প্রযুক্তির ব্যবহারেও সুবিধা

বর্তমানে স্মার্টফোন ও স্মার্টওয়াচের অ্যাপগুলো ব্যবহার করে প্রতিদিন কত পা হাঁটলেন বা কত ক্যালোরি খরচ হল তা সহজেই নজরদারি করা যায়। এ প্রযুক্তি মানুষকে হাঁটার প্রতি আগ্রহী করতে সাহায্য করছে।

 

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, হাঁটা একটি "মেডিসিন-বিহীন থেরাপি"। এমন অভ্যাস গড়ে তুললে ঔষধের উপর নির্ভরতা কমে, স্বাস্থ্যব্যয় কমে এবং জীবনযাত্রা আরও সহজ হয়।

তথ্যসূত্র:

  • বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)

  • বাংলাদেশ ফিজিক্যাল অ্যাক্টিভিটি ফোরাম

  • ঢাকা মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকদের মতামত

স্বাস্থ্য

আরও দেখুন
হাম ও উপসর্গে গতো ২৪ ঘণ্টায় আরও ৯ শিশুর মৃত্যু

দেশে হাম ও হামের উপসর্গজনিত পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক আকার নিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৯ শিশু মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একই সময়ে সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১০৫ জনে এবং পরীক্ষায় ৮৭ শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিষ্ঠানটির তথ্যানুযায়ী, গত দেড় মাসে সারাদেশে হাম ও হামের উপসর্গে মোট ৪২৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যু ৬৮ এবং উপসর্গজনিত মৃত্যু ৩৫৬। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে আক্রান্ত হয়েছে ৭ হাজার ২৪ শিশু, আর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৫১ হাজার ৫৬৭ শিশু। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সর্বোচ্চ চাপ রয়েছে ঢাকা বিভাগে, যেখানে এখন পর্যন্ত ২৭ হাজার ৯৩২ জন আক্রান্ত এবং ১৮৬ শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। তথ্যের হিসাব ১৫ মার্চ সকাল থেকে ১২ মে সকাল পর্যন্ত সময়ের।  

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0

হাম ও উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু

গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু

হামের উপসর্গে বেড়েই চলেছে মৃত্যুঝুঁকি, আরও ৫ শিশুর মৃত্যু

২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে ৪ শিশুর মৃত্যু, শনাক্ত আরও ১৬৫

দেশব্যাপী সংক্রামক রোগ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে, হাম সংশ্লিষ্ট উপসর্গে শিশুমৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। রোববার (১৯ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে জারিকৃত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম-সন্দেহে আরও চার শিশুর মৃত্যু নথিভুক্ত হয়েছে; তবে উক্ত সময়সীমায় নিশ্চিতভাবে হামজনিত মৃত্যুর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।  একই সময়ে নতুন করে ১৬৫ জনের মধ্যে হাম শনাক্ত হয়েছে এবং উপসর্গজনিত কারণে ১ হাজার ১৯৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে নিশ্চিতভাবে হামজনিত মৃত্যু দাঁড়িয়েছে ৩৮ জনে। পাশাপাশি হাম-সন্দেহে ১৮১ শিশুর মৃত্যুর ঘটনা রেকর্ডভুক্ত হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে মোট ৩ হাজার ৪৪৩ জনকে নিশ্চিতভাবে হাম আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে এবং সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ২৩ হাজার ৬০৬ জনে দাঁড়িয়েছে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৯, ২০২৬ 0

ফরিদপুরে ২৪ ঘণ্টায় হামে নতুন শনাক্ত ২৩, মোট মৃত্যু ৪

গত ৩১ দিনে হাম ও উপসর্গে প্রাণ হারালো ২০০ শিশু

খুলনায় হামে নতুন শনাক্ত ৭৪, মোট আক্রান্ত ৩৬২

ছবি: প্রতিনিধি
বাগেরহাটে শিশু ওয়ার্ডে রোগীর চাপ দ্বিগুণ, হামের উপসর্গে ভর্তি ৪

  বাগেরহাট ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে রোগীর চাপ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। যেখানে ৪০ শয্যা রয়েছে, বর্তমানে ৮৪ জন শিশু ভর্তি রয়েছে। এদের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে চারজন শিশুকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে রাখা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মৌসুমি রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি এবং নতুন নতুন শিশুদের প্রতিদিন ভর্তি হওয়ায় শয্যা সংকট তৈরি হয়েছে। অনেক শিশুকে মেঝেতে রাখা হচ্ছে এবং অভিভাবকদের ভিড়ও বেড়ে যাওয়ায় ওয়ার্ডের পরিবেশ আরও সংকটাপন্ন হয়ে উঠেছে। এতে চিকিৎসক ও নার্সদের কাজের চাপ বেড়েছে। শিশু ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র নার্সরা জানিয়েছেন, রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়ে যাওয়ায় চাপ থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসক ও নার্সরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। রোগীর স্বজনরা জানিয়েছেন, চিকিৎসা সেবা সন্তোষজনক হলেও খাবারের ব্যবস্থা সব শিশুদের জন্য সম্ভব হচ্ছে না, তাই অনেককে বাইরে থেকে খাবার আনার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বাগেরহাট জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার বলেন, “বর্তমানে ৪০ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে ৮৪ জন শিশু ভর্তি রয়েছে। অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। প্রতিদিন ২৫০ জনের খাবার তৈরি করা হয়, তাই সব রোগীকে সরাসরি খাবার দেওয়া সম্ভব নয়।” হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, অতিরিক্ত চাপ থাকা সত্ত্বেও শিশুদের চিকিৎসাসেবা অব্যাহত থাকবে।  

বাগেরহাট এপ্রিল ৮, ২০২৬ 0

অবিবাহিত তরুণ-তরুণীদের  মধ্যে বাড়ছে এইচআইভি সংক্রমণ, প্রয়োজন সচেতনতা

ফেরদৌস আরা

শোক সংবাদ

স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বড় রূপান্তর: ‘স্বাস্থ্য–খাত সংস্কার’ ও শরীরে ‘পাখি–ফ্লু’ আঘাত

0 Comments