বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবাখাতে যুগান্তকারী সংস্কার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি, নতুন উপদ্রুত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ‘পাখি–ফ্লু’র প্রথম প্রাদুর্ভাব। একদিকে প্রতিরোধমূলক আইন নিয়ে চলেছে বড় আলোচনা, অন্যদিকে জীবাণুমুক্ত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই এখন জোরদার চ্যালেঞ্জ।
স্বাস্থ্য ক্ষেত্র সংস্কার কমিশন একটি ঐতিহাসিক রিপোর্ট উপস্থাপন করেছে, যেখানে প্রস্তাব রাখা হয়েছে:
প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ‘সবার জন্য বিনামূল্যে’ নিশ্চিত করতে সাংবিধানিক অধিকার ঘোষণার দাবি ।
স্বতন্ত্র ও স্থায়ী ‘বাংলাদেশ স্বাস্থ্য কমিশন’ গঠনের পরামর্শ, যা জাতীয় স্বাস্থ্যনীতির পরামর্শদাতা ও মান–নিয়ন্ত্রক সংস্থা হবে ।
তবে, বাজেট বরাদ্দ ও বাস্তবায়নের স্পষ্ট পথিকা এখনও তৈরি হয়নি—স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ও আন্তঃমন্ত্রণালয় যৌথ কমিটি জরুরি ।
এ ছাড়াও, কমিশন ১৫% জাতীয় বাজেট স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ, আর রোগ–নিয়ন্ত্রণ ও ঔষধ ও মানবশক্তি বিষয়ে বিশেষ পদক্ষেপের সুপারিশ করেছে ।
জেসোর জেলার একটি পোল্ট্রি খামারে ‘হাইলি প্যাথোজেনিক অ্যাভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা’ (HPAI) শনাক্ত হয়েছে — ৩,৯৭৮টি মুরগির মধ্যে ১,৯০০টি মারা যায়, বাকি বাদী করা হয়েছে ।
এটি পড়ে আদালতকারি ভ্যাকসিনেশন, খামার পর্যবেক্ষণ ও জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি হয়েছে।
দূষণজনিত রোগ: ঢাকা শহরের বায়ুমণ্ডল সাম্প্রতিক হারে “হাজার্ডাস” পর্যায়ে পৌঁছয়, যা সাধারণ মানুষ ও হাঁপানির রোগীদের জন্য বিপজ্জনক—অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আইন–সচেতনার জন্য আবেদন জানিয়েছেন ।
চিকিৎসা ব্যবস্থার ঝুঁকি: উঁচু রক্তচাপ ও NCD–এর কারণে মৃত্যুর হার বেড়ে ৭১%, কিন্তু তিনি শুধু ৪.২% বাজেট বরাদ্দ পাওয়া নিয়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ ।
| বিষয় | অবস্থা |
|---|---|
| প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা | বিনামূল্যে ঘোষণা, আইনকে সাংবিধানিক অধিকার |
| বাংলাদেশ স্বাস্থ্য কমিশন | গঠন প্রস্তাব |
| বাজেট বরাদ্দ | ১৫% দাবি |
| প্রতিষ্ঠিত রোডম্যাপ | এখনও অপেক্ষায় |
| পাখি–ফ্লু | প্রথম প্রাদুর্ভাব, ১,৯০০ মুরগি মারা গিয়েছে |
| পরিবেশমূলক স্বাস্থ্যচ্যালেঞ্জ | দূষণ ভয়াবহ, NCD–সংক্রান্ত মৃত্যুহার ও উদ্বেগ |
স্বাস্থ্য খাতে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের উদ্যোগ সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয়। প্রাথমিক স্বাস্থ্য সবার নাগাল নিশ্চিত না হলে বড় পরিকল্পনার সফলতা অনিশ্চিত। ‘স্বাস্থ্য–কমিশন’ গঠন ও বাজেটে বড় পরিবর্তন আনা গেলে জাতীয় স্বাস্থ্য মানে দীর্ঘমেয়াদি লাভ হবে।
তবে অপরদিকে, নতুন রোগের প্রাদুর্ভাব ও দূষণের মতো অপ্রত্যাশিত হুমকি মোকাবিলার জন্য দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। একাধিক স্তরে প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ না দিলে জনগণের নিরাপদ–সেবা পাওয়া ঝুঁকির সম্মুখীন।
বাংলাদেশ স্বাস্থ্যখাতে বড় পরিবর্তনের মুখে, তবে বাস্তবায়ন ও সময়ানুবর্তী পন্থা নিশ্চিত না হলে সব প্রচেষ্টা বৃথা। সরকারের উচিত দ্রুত রোডম্যাপ প্রকাশ করে জনগণের বিশ্বাস অর্জন করা।
দেশে হাম ও হামের উপসর্গজনিত পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক আকার নিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৯ শিশু মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একই সময়ে সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১০৫ জনে এবং পরীক্ষায় ৮৭ শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিষ্ঠানটির তথ্যানুযায়ী, গত দেড় মাসে সারাদেশে হাম ও হামের উপসর্গে মোট ৪২৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যু ৬৮ এবং উপসর্গজনিত মৃত্যু ৩৫৬। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে আক্রান্ত হয়েছে ৭ হাজার ২৪ শিশু, আর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৫১ হাজার ৫৬৭ শিশু। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সর্বোচ্চ চাপ রয়েছে ঢাকা বিভাগে, যেখানে এখন পর্যন্ত ২৭ হাজার ৯৩২ জন আক্রান্ত এবং ১৮৬ শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। তথ্যের হিসাব ১৫ মার্চ সকাল থেকে ১২ মে সকাল পর্যন্ত সময়ের।
দেশব্যাপী সংক্রামক রোগ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে, হাম সংশ্লিষ্ট উপসর্গে শিশুমৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। রোববার (১৯ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে জারিকৃত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম-সন্দেহে আরও চার শিশুর মৃত্যু নথিভুক্ত হয়েছে; তবে উক্ত সময়সীমায় নিশ্চিতভাবে হামজনিত মৃত্যুর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। একই সময়ে নতুন করে ১৬৫ জনের মধ্যে হাম শনাক্ত হয়েছে এবং উপসর্গজনিত কারণে ১ হাজার ১৯৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে নিশ্চিতভাবে হামজনিত মৃত্যু দাঁড়িয়েছে ৩৮ জনে। পাশাপাশি হাম-সন্দেহে ১৮১ শিশুর মৃত্যুর ঘটনা রেকর্ডভুক্ত হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে মোট ৩ হাজার ৪৪৩ জনকে নিশ্চিতভাবে হাম আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে এবং সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ২৩ হাজার ৬০৬ জনে দাঁড়িয়েছে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
বাগেরহাট ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে রোগীর চাপ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। যেখানে ৪০ শয্যা রয়েছে, বর্তমানে ৮৪ জন শিশু ভর্তি রয়েছে। এদের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে চারজন শিশুকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে রাখা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মৌসুমি রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি এবং নতুন নতুন শিশুদের প্রতিদিন ভর্তি হওয়ায় শয্যা সংকট তৈরি হয়েছে। অনেক শিশুকে মেঝেতে রাখা হচ্ছে এবং অভিভাবকদের ভিড়ও বেড়ে যাওয়ায় ওয়ার্ডের পরিবেশ আরও সংকটাপন্ন হয়ে উঠেছে। এতে চিকিৎসক ও নার্সদের কাজের চাপ বেড়েছে। শিশু ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র নার্সরা জানিয়েছেন, রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়ে যাওয়ায় চাপ থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসক ও নার্সরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। রোগীর স্বজনরা জানিয়েছেন, চিকিৎসা সেবা সন্তোষজনক হলেও খাবারের ব্যবস্থা সব শিশুদের জন্য সম্ভব হচ্ছে না, তাই অনেককে বাইরে থেকে খাবার আনার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বাগেরহাট জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার বলেন, “বর্তমানে ৪০ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে ৮৪ জন শিশু ভর্তি রয়েছে। অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। প্রতিদিন ২৫০ জনের খাবার তৈরি করা হয়, তাই সব রোগীকে সরাসরি খাবার দেওয়া সম্ভব নয়।” হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, অতিরিক্ত চাপ থাকা সত্ত্বেও শিশুদের চিকিৎসাসেবা অব্যাহত থাকবে।