অপরাধ

টিকটককে কেন্দ্র করে কিশোর গ্যাংয়ের সংঘর্ষ, এক কিশোর নিহত

Icon
জানিফ হাসান
প্রকাশঃ জুন ২৮, ২০২৫

গত কয়েক দিনের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টিকটকে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মটিতে ভিন্ন ভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও ট্রেন্ডের মধ্যে একদিকে বিনোদনের ছোঁয়া থাকলেও, অন্যদিকে কিছু কিশোর সদস্য একটি গ্যাং আকারে সংগঠিত হয়ে ঐ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অসদুপায়ে প্রবেশ করে। এদিকে, আজ সকালের এক সংঘর্ষের ফলশ্রুতি হিসেবে খবর আসে যে, এই কিশোর গ্যাংয়ের মধ্যে সংঘর্ষে এক কিশোর নিহত হন।

ঘটনার সূত্রে জানা যাচ্ছে, দুটি প্রতিপক্ষের মধ্যে মূলত টিকটকের মাধ্যমে প্রচারিত চ্যালেঞ্জ ও প্রতিযোগিতার জগতে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে শত্রুতা ও দ্বন্দ্ব শুরু হয়। প্রতিপক্ষ দলগুলো নিজেদের মধ্যে অনলাইনে ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতায় জোরালো প্রতিক্রিয়া দেখাতে থাকে। প্রতিবেশি এলাকায় একরাশে ছড়িয়ে পড়া এই দ্বন্দ্ব প্রাথমিক পর্যায়ে তেমন কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে না পারায় অবশেষে মাটি ও গ্যাসে প্রাণের ধারা ছোঁয়াতে দেখা যায়।

প্রথম রিপোর্টে জানানো হয় যে, সংঘর্ষটি শহরের এক জনপ্রিয় প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রাঙ্গণে ঘটেছিল, যেখানে একাধিক কিশোর একে অপরের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালায়। নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, কিন্তু সংঘর্ষের মধ্যে একটা কিশোর গুরুতর আঘাতগ্রস্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। চিকিৎসকের তথ্য অনুসারে, আহত কিশোরটি রক্তক্ষয়নের কারণে প্রাণ হারানোর মুখে পড়েছিল। পুলিশ একটি বিশেষ তদন্ত শুরু করে এবং প্রাথমিক পর্যায়ে ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন মোবাইল ফোন, টিকটকের ভিডিও ফুটেজ ও কথোপকথনের রেকর্ড সংগ্রহ করেছে।

 

সামাজিক প্রতিক্রিয়া ও আইনপ্রয়োগ সংস্থার হস্তক্ষেপ

ঘটনার পরক্ষবর্তী সময়ে সমাজের বিভিন্ন স্তরে প্রতিক্রিয়া চটকদার। পিতামাতা, শিক্ষাবিদ এবং সামাজিক কর্মীরা সক্রিয়ভাবে সামাজিক মাধ্যম ও প্রচলিত গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। একাধারে অভিযোগ উঠছে, টিকটকের মাধ্যমে প্রচারিত অনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও প্রতিযোগিতা কিশোর-কিশোরীদের মানসিক ও শারীরিক নিরাপত্তা ক্ষতির কারণ হিসেবে কাজ করছে।

পুলিশ বিভাগের তরফ থেকে বলেছে, “এই ধরনের অনলাইন প্রতিযোগিতা ও চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে অনেক সময় অ-আবশ্যক উত্তেজনা ও হিংসাত্মক প্রবৃত্তি জাগ্রত হয়। আমাদের পক্ষ থেকে এই বিষয়টি নিয়ে কঠোর তদন্ত চলমান। যারা এ ধরনের কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

উচ্চ ব্যবস্থাপনা থেকে নির্দেশ এসেছে, টিকটকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের উপর নজরদারি বাড়ানো হবে এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিশেষ করে, যুব সমাজে অনলাইনে সৃষ্ট এই ধরনের প্রতিযোগিতা ও সংঘর্ষের প্রভাব দূর করার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পিতামাতা ও কমিউনিটি নেতাদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়েছে।

সামাজিক গবেষণা ও নারী সমাজবিদরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতি কেবল একটি ইন্টারনেট সমস্যা নয়, বরং এটি সমাজের মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও যুব সমাজের চেতনা সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য প্রশ্ন তোলার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। অনেকেই দাবী করছেন, সরকারকে এবং টিকটকের নীতিনির্ধারকদের উচিত, এ ধরনের অনৈতিক ও উত্তেজক বিষয়বস্তুতে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা যাতে ভবিষ্যতে এর পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

এর পাশাপাশি, স্কুল, কলেজ ও কোচিং সেন্টারগুলিতে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মাঝে অনলাইন চ্যালেঞ্জের নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করে, তাদেরকে বৈধ ও সঠিক বিনোদনের মাধ্যম খুঁজে পেতে উৎসাহিত করা হবে।

অপরাধ তদন্ত বিভাগের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, “আমরা প্রাথমিক পর্যায়ে চোখে পড়া সব প্রমাণ ও ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে যাচ্ছি। সংঘর্ষের আসল কারণ, ঘনিষ্ঠ অনলাইন প্রতিযোগিতা থেকে উদ্ভূত উত্তেজনা ও বাস্তব জীবনে আক্রমণের মর্মস্পর্শী প্রভাব স্পষ্ট। যারা এই কার্যক্রমে লিপ্ত রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনী প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।”

শহরের আইন প্রয়োগ সংস্থা ও প্রবাসী সংগঠনগুলিও একাত্মভাবে কাজ করছে, যাতে ভবিষ্যতে অনলাইন প্রতিযোগিতা ও চ্যালেঞ্জ থেকে উদ্ভূত হত্যাকাণ্ড বা আক্রমণ রোধ করা যায়। তরুণ সমাজে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় সবাই মিলে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় নেতারা ও সমাজসেবী।

ছবি: প্রতিনিধি
জামালপুর সাড়ে ২৭ ভরি স্বর্ণ ও ৩ লাখ টাকা প্রতারণা, চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার

  শেরপুরে এক কিশোরীকে টার্গেট করে প্রায় সাড়ে ২৭ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), জামালপুর। শেরপুর সদর থানার মামলা নং-৪২ (তারিখ: ১৭ মার্চ ২০২৬, ধারা ৪২০/৪০৬) অনুযায়ী, ভুক্তভোগী ছাইদুর রহমান অভিযোগ করেন—তার ১৩ বছর বয়সী অষ্টম শ্রেণির কন্যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রভাবিত হয়ে মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। এই সুযোগে “কবিরাজ” পরিচয়ে মো. খুরশেদ নামের এক প্রতারক ইমু অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে। প্রতারক চক্রটি সমস্যার সমাধানের প্রলোভন দেখিয়ে ৬ থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত বিকাশের মাধ্যমে মোট ২ লাখ ৪৩ হাজার ১৫০ টাকা হাতিয়ে নেয়। পরে ১০ মার্চ ঝাড়ফুঁকের কথা বলে সাড়ে ২৭ ভরি স্বর্ণালংকার ও আরও ১ লাখ টাকা নিয়ে নেয়। ঘটনার পর পুনরায় টাকা পাঠাতে গেলে দোকানদারের সন্দেহ হলে বিষয়টি পরিবারের কাছে প্রকাশ পায় এবং প্রতারণার বিষয়টি ধরা পড়ে। তদন্তে নেমে পিবিআই প্রযুক্তির সহায়তায় ৯ এপ্রিল গাজীপুরের শ্রীপুর এলাকা থেকে মুছা মিয়া (২৯) ও রফিকুল ইসলাম (২৮)-কে গ্রেফতার করে। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৫ এপ্রিল ময়মনসিংহের মাসকান্দা এলাকা থেকে চক্রের মূলহোতা মনির হোসেন (২১)-কে আটক করা হয়। মনিরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তার বাড়ির পাশের বাগান থেকে মাটি খুঁড়ে প্রায় ২৫ ভরি ৯ আনা স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬৪ লাখ টাকা। এছাড়া প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। তদন্তে জানা যায়, চক্রটি ইমু ব্যবহার করে বিভিন্ন এলাকায় ব্যক্তিগত সমস্যা সমাধানের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা চালিয়ে আসছিল। পিবিআই জামালপুরের পুলিশ সুপার বলেন, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে চক্রটির মূল রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। তিনি সাধারণ মানুষকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া বিজ্ঞাপন বা তান্ত্রিকের প্রলোভনে পড়ে যাচাই ছাড়া অর্থ লেনদেন না করার আহ্বান জানান।  

তানিয়া আক্তার এপ্রিল ১৬, ২০২৬ 0
ছবি: প্রতিনিধি

পুলিশী পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে পিকআপ চালক আটক

যাত্রাবাড়ীর ‘সিরিয়াল রেপিস্ট’ রাব্বি গ্রেফতার

ছবি: প্রতিনিধি

নীলফামারীতে মন্দিরের কাছে কৃষকের গলাকাটা লাশ

ছবি: প্রতিনিধি
যাত্রাবাড়ীতে একই পরিবারের চারজনকে কুপিয়ে জখম, নিহত ১

  রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন কাজলা ভাঙ্গা প্রেস এলাকায় আর্থিক লেনদেনজনিত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংস ঘটনায় এক কলেজছাত্রী নিহত ও একই পরিবারের আরও তিন সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ভোরে সংঘটিত এ ঘটনায় নিহত দিয়া আক্তার (২০) ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত মৌসুমী আক্তার (৩৫), মুয়াজ (১৫) ও জয়া (১২) বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রাথমিক তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, অভিযুক্ত আবু মুসা নামে এক ব্যক্তি পাওনা অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে ভোরে নবীউল্লাহর বাসায় উপস্থিত হন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হলে তা দ্রুত সহিংসতায় রূপ নেয়। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে এলোপাতাড়ি হামলার ঘটনা ঘটে, যার ফলে পরিবারের একাধিক সদস্য গুরুতরভাবে আহত হন। ঘটনার পর অভিযুক্তকেও আহত অবস্থায় উদ্ধার করে একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট থানায় বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রেক্ষিতে দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত অব্যাহত আছে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৪, ২০২৬ 0
ছবি: প্রতিনিধি

রংপুরে পুলিশ হত্যার দায়ে একজনের মৃত্যুদন্ড

সিকেডি হাসপাতালে চাঁদাবাজির অভিযোগে যুবদল নেতাসহ ৭ গ্রেফতার

বসুরহাটে স-মিল ভাঙচুর ও লুট, মির্জা কাদের-বুলবুলসহ ৪৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ছবি: প্রতিনিধি
সাবেক সেনাকে হামলার ঘটনায় মাদক ব্যবসায়ী নুরু বিশ্বাস গ্রেফতার

                                ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় মাদক সেবন ও ব্যবসায় বাধা দেয়ায় সাবেক সেনা মো. শহিদুল সোহেলের ওপর হামলার ঘটনায় পুলিশ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) নুরু বিশ্বাস (৩৫) নামে এক মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে। অভিযান গট্টি ইউনিয়নের রঘুয়ারকান্দী এলাকা থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজে নুরুকে হামলার নেতৃত্ব দিতে দেখা গেছে। ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার মো. মাহমুদুল হাসান জানান, “অভিযান চালিয়ে হামলার মূল হোতা নুরুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।” ঘটনার সময় বুধবার (৮ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সালথা বাজারের জননী সুপার মার্কেটের দোতলায় একটি ক্লিনিকের অফিস কক্ষে শহিদুল সোহেলের ওপর হামলা করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শহিদুলের বড় ভাই বাদী হয়ে সালথা থানায় মামলা করেছেন।  

ফরিদপুর প্রতিনিধি> এপ্রিল ৯, ২০২৬ 0

স্বামীর নির্যাতনে স্ত্রী নিহত

ছবি: প্রতিনিধি

জামালপুরে জাল টাকার জালিয়াত চক্রের সদস্য গ্রেফতার

মো. আনোয়ার হোসাইন

ব্যর্থতার দায় মাথায় নিয়ে বিদায় নিচ্ছে ডিসি আনোয়ার

0 Comments