শেরপুরের নকলা উপজেলায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) উপজেলার গনপদ্দী ইউনিয়নের খারজান এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। গ্রেফতার ব্যক্তি মো. হাকিম মিয়া (৩৮)। তিনি খারজান এলাকার মৃত আবদুল্লাহ মিয়ার ছেলে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নকলা থানা পুলিশের একটি দল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় হাকিম মিয়ার কাছ থেকে ৬৭৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে হেফাজতে নিয়ে থানায় আনা হয়। নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিপন চন্দ্র গোপ জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি মাদক নির্মূলে পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
জামালপুরের মাদারগঞ্জে র্যাব ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযানে ৪৬ বস্তা সরকারি চাল জব্দ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে উপজেলার সিধুলী ইউনিয়নের শ্যামগঞ্জ কালিবাড়ী বাজারে ব্যবসায়ী সাজেলের গুদামে অভিযান চালিয়ে এসব চাল উদ্ধার করা হয়। প্রশাসন সূত্র জানায়, সরকারি প্রকল্পের চাল অবৈধভাবে মজুতের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৪ ও উপজেলা প্রশাসন যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। এসময় গুদাম থেকে প্রায় ৪২ হাজার টাকা মূল্যের ৪৬ বস্তা চাল জব্দ করা হয়। তবে অভিযানের খবর টের পেয়ে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী কৌশলে পালিয়ে যান। মাদারগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাসেল দিও বলেন, সরকারি চাল খোলা বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে গুদামজাত করা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এ ঘটনায় পলাতক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। উদ্ধার করা চাল সরকারি হেফাজতে রাখা হয়েছে।
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ফুলসূতী ইউনিয়নের কাজিকান্দা গ্রামে ঘাস কাটাকে কেন্দ্র করে দুই ভাইয়ের বিরোধের জেরে বড় ভাইয়ের হাতের কব্জি কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত তোতা বিশ্বাসের ছেলে সোলেমান বিশ্বাস (৫৫) ও তার ছোট ভাই আমির বিশ্বাসের (৫০) মধ্যে ঘাস কাটা নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বিরোধ তীব্র হলে আমির বিশ্বাস ধারালো দা দিয়ে সোলেমানের হাতে কোপ দেন। এতে তার হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা গুরুতর আহত সোলেমান বিশ্বাসকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগীর পরিবার নগরকান্দা থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। নগরকান্দা থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুর রাজ্জাক জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি। স্থানীয়রা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মোটরসাইকেলে ঘুরে সংঘবদ্ধভাবে ছিনতাইয়ের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারদের মধ্যে দুইজন আপন ভাই এবং অপরজন তাদের বোনজামাই। অভিযানের সময় পুলিশের গুলিতে চক্রের এক সদস্য আহত হন। এ সময় তাদের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র ও ছিনতাই করা মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তাররা হলেন- পলাশ, সাকিব ও বিপ্লব হোসেন। পলাশ ও সাকিবের বাড়ি গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানার হেমাদিঘী টিএনটি মোল্লা গ্যারেজ এলাকায়। বিপ্লব তাদের বোনজামাই বলে জানিয়েছে পুলিশ। সোমবার (১১ মে) ভোরে রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় পুলিশের গুলিতে চক্রের এক সদস্য আহত হন।
রায়পুরায় পৃথক অভিযানে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা ও ইয়াবাসহ তিন কারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (১১ মে) রাত থেকে মঙ্গলবার (১২ মে) পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব মাদক উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন কিশোরগঞ্জের ভৈরবের আলামিন, হবিগঞ্জের মাধবপুরের আব্দুল আজিজ এবং রায়পুরার জুয়েল মিয়া। তাদের কাছ থেকে মোট ৩৫ কেজি গাঁজা ও ১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রতনপুর বাজার, মাহমুদাবাদ এলাকা এবং চরসুবুদ্ধি ইউনিয়নের পৃথক স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে একজনকে ৩০ কেজি গাঁজাসহ, আরেকজনকে ৫ কেজি গাঁজাসহ এবং অপরজনকে ইয়াবাসহ আটক করা হয়। রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান জানান, জেলা পুলিশের নির্দেশনায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বাগেরহাটের সুন্দরবনে বিশেষ অভিযানে কুখ্যাত বনদস্যু ‘মেজ জাহাঙ্গীর বাহিনী’র প্রধান মো. জাহিদুল ইসলাম ওরফে মেজ জাহাঙ্গীরকে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পরে মংলা কোস্ট গার্ড বেইসে প্রেস ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। কোস্ট গার্ড জানায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে সোমবার গভীর রাতে শিবসা নদীর আদাচাই ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন কালীর খাল এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মেজ জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধান জাহিদুল ইসলামকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে দুটি একনলা বন্দুক ও পাঁচ রাউন্ড তাজা কার্তুজ জব্দ করা হয়েছে। কোস্ট গার্ডের তথ্য অনুযায়ী, আটক জাহিদুল ইসলাম (৫৬) নড়াইল জেলার নড়াগাতী থানার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে ডাকাতি, জেলেদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়সহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। কোস্ট গার্ড আরও জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলায় জমি ও ফসলের ভাগাভাগি নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে ছেলের হাতে বাবা ও ভাই নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১২ মে) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার ফতেজংপুর ইউনিয়নের মন্ডলপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন ওই এলাকার মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে শহিদুল ইসলাম দুলু (৭০) এবং তার ছেলে কাবিল (৩২)। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শহিদুল ইসলামের দুই স্ত্রীর সন্তানদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি ধান ভাগ করে দিলেও ভুট্টা ক্ষেতের সমান ভাগ নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ঘটনার দিন সকালে ভুট্টা ক্ষেতের অংশ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ছোট স্ত্রীর ছেলে সাকিব (১৮) ও সাদিকুল (৩০) লোহার রড দিয়ে বাবা শহিদুল ইসলাম এবং বড় স্ত্রীর ছেলে কাবিলকে আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই শহিদুল ইসলাম নিহত হন। গুরুতর আহত কাবিলকে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিরিরবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুন নবী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার পর অভিযুক্ত দুই ভাই পলাতক রয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত লোহার রড উদ্ধার করা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে।
বৈবাহিক প্রতারণা, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং মিথ্যা তথ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড অর্জনের অভিযোগ উঠেছে হুমায়ুন কবির নামের এক প্রবাসীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তার স্ত্রী ইয়াদি রাজ্জাক ঢাকার মার্কিন দূতাবাসে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযুক্ত হুমায়ুন কবির ও অভিযোগকারী ইয়াদি রাজ্জাক—উভয়ের বাড়ি নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে। অভিযোগপত্র ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালে সিভিল ম্যারেজের মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়। ইয়াদির দাবি, বিয়ের পর থেকেই তিনি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছেন। ২০০৮ সালে নির্যাতনের অভিযোগে হুমায়ুন কবির গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, দাম্পত্য সম্পর্ক চলমান থাকা অবস্থায় তিনি বাংলাদেশে একাধিক বিয়ে করেন এবং ২০১৭ সালে গোপনে আরেকটি বিয়ে করে দুই সন্তানের জনক হন। বর্তমানে তিনি অন্য এক নারীকে স্ত্রী পরিচয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগ পত্র ইয়াদি রাজ্জাক দাবি করেন, হুমায়ুন কবির তার কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে টাকা নিয়ে তা অন্যত্র ব্যবহার করেছেন এবং ২০০৮ সাল থেকে কোনো ভরণপোষণ দেননি। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ফিজিওথেরাপিস্ট হিসেবে কর্মরত। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ করলে তাকে ব্যক্তিগত আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। ইয়াদির ভাষ্য অনুযায়ী, হুমায়ুন কবির তাকে জানিয়েছেন যে শুধুমাত্র গ্রিন কার্ড পাওয়ার উদ্দেশ্যেই তিনি তাকে বিয়ে করেছিলেন এবং জালিয়াতির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হওয়ার চেষ্টা করেছেন। ভুক্তভোগী নারী ২০২০ সালের ২৪ নভেম্বর থেকে স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন বলে দাবি করেন। তিনি দূতাবাস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে গ্রিন কার্ড বাতিলসহ ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে অভিযুক্তের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। নোয়াখালী পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে ১৪ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে ঘুরতে নিয়ে গিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে দুই তরুণের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। ঘটনায় একজনকে আটক করেছে পুলিশ, অপর আসামি পলাতক রয়েছে। শনিবার (৯ মে) রাতে ওই কিশোরীকে স্থানীয় দুই তরুণ—নাহিদুল ইসলাম এবং রায়হান শেখ—বেড়ানোর কথা বলে নিয়ে যান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয়দের সহায়তায় মোটরসাইকেলসহ নাহিদুল ইসলামকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। তিনি বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। অপর আসামি রায়হান শেখ পলাতক। ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ঘটনার পর বিষয়টি গোপন রাখতে চাপ প্রয়োগ করা হলেও পরে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। গোয়ালন্দ ঘাট থানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম জানান,কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে এলাকাবাসী মোটরসাইকেলসহ তরুণকে আটক করে পুলিশে দেন। কিশোরীর মা বাদী হয়ে রায়হান ও তাঁর বন্ধু নাহিদুলের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। কিশোরীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আজ সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে। এ ঘটনার প্রধান আসামি রায়হানকে ধরতে পুলিশ কাজ করছে।
যশোরের শার্শা উপজেলার সীমান্তঘেঁষা বসতপুর গ্রামে পরকীয়া ও অর্থনৈতিক বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডে ইকরামুল কবির (২৫) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রায় ৩৫ দিন নিখোঁজ থাকার পর গোয়ালঘরের মেঝের নিচ থেকে অর্ধগলিত অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, তাকে হত্যার পর মরদেহ গোপন করতে গোয়ালঘরের মাটি খুঁড়ে ঢালাই দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে চারজনকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। নিহত ইকরামুল যশোরের পুটখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ বারোপোতা গ্রামের আব্দুল রশিদের ছেলে। আটক ব্যক্তিরা হলেন—মুনী বেগম (২০), কাকলী বেগম (১৯), ফজলু মোড়ল (৫৫) ও ফরহাদ হোসেন (২৮)। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, বসতপুর পূর্বপাড়ার আল ফুয়াদের স্ত্রী মুন্নীর (২২) সঙ্গে ইকরামুলের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। প্রায় এক মাসের বেশি সময় আগে পাওনা টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে মুন্নীর বাড়িতে গেলে তিনি নিখোঁজ হন। এরপর থেকেই তার কোনো সন্ধান মেলেনি। পরবর্তীতে নিখোঁজের ঘটনায় সন্দেহ সৃষ্টি হলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং তথ্যপ্রযুক্তি ও জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে আল ফুয়াদকে আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যায় বসতঘরের গোয়ালঘর থেকে মাটি খুঁড়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শার্শা থানার ওসি মারুফ হোসেন জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেলেও এর পূর্ণাঙ্গ উদ্দেশ্য, পরিকল্পনা ও সম্ভাব্য অন্যান্য জড়িতদের বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
আলোচিত পাঁচ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত ফোরকানকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হলেও এখনো তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ফোরকান গাজীপুরের কাপাসিয়ায় এক প্রবাসীর বাড়িতে ভাড়া থাকতো। স্ত্রী আর তিন সন্তান নিয়ে ছোট্ট এক সংসার ছিল তার। প্রাইভেট কার চালিয়ে মোটামুটি ভালোই চলছিল সবকিছু। কিন্তু ধীরে ধীরে ফোরকান মাদকে জড়িয়ে পড়ে। সংসারের টাকা মাদকে উড়াতে শুরু করে, স্ত্রীকে মা'রধ'র করতো, যৌতুকের টাকা আনার জন্য চাপ দিতো। এলাকাবাসী বহুবার মিটমাট করলেও বদলায়নি সে। গতকাল রাতে চাকরির কথা বলে শালাকে বাসায় ডাকে ফোরকান। এরপর গভীর রাতে স্ত্রী, তিন সন্তান ও শালাকে নির্মমভাবে খুন করে সে৷ ছোট ছোট নিষ্পাপ বাচ্চাগুলোকেও রেহাই দেয়নি সে। তার ছোট মেয়ের বয়স ছিলো মাত্র ২ বছর৷ সবশেষে নিজের ছোট ভাই এর স্ত্রীকে ফোন দিয়ে বলে “টাকা দিতে পারে না, তাই সব কয়টারে শেষ কইরা দিছি।” এরপর পালিয়ে যায়।
রাজশাহী মহানগরীতে চোরাই মোটরসাইকেলসহ দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) এর গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. বাধন হোসেন সৌরভ (২১) ও মো. পলাশ (২৪)। পুলিশ জানায়, ৬ মে দিবাগত রাতে পৃথক অভিযানে রাজপাড়া থানার লক্ষীপুর কাঁচাবাজার এলাকা থেকে সৌরভকে এবং কাশিয়াডাঙ্গা থানার বালিয়া এলাকা থেকে পলাশকে গ্রেপ্তার করা হয়। সৌরভের ভাড়া বাসা থেকে একটি লাল রঙের চোরাই Bajaj Discover 125 মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে পলাশকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে রাজশাহী ও আশপাশের এলাকায় মোটরসাইকেল চুরি করে বিক্রি করে আসছিল। পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার দুই আসামির বিরুদ্ধেই বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
চিকিৎসার আড়ালে এক শিক্ষার্থীকে ধারাবাহিক যৌন নির্যাতনের অভিযোগে বগুড়ায় এক কথিত কবিরাজকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ—ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (৫ মে) সন্ধ্যায় শহরের নামাজগড় এলাকা থেকে অভিযুক্ত হাকিম রেজাউল করিম-কে আটক করা হয় বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি দীর্ঘদিন ধরে “ঝাড়ফুঁক ও কবিরাজি চিকিৎসা”র আড়ালে একটি চেম্বারে ভুক্তভোগীকে একাধিকবার শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন বলে দাবি করা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রাজশাহীর একটি কওমি মাদ্রাসার ছাত্রী। অভিযোগে আরও বলা হয়, চিকিৎসার নাম করে তাকে একটি নির্জন কক্ষে নিয়ে গিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রলোভনের মাধ্যমে এই অপরাধ সংঘটিত হয়। ঘটনার পর ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে এবং তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, মেডিকেল ও ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট সংগ্রহ করা হয়েছে এবং তদন্তে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। তদন্তের পর চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
মেহেরপুরে পারিবারিক বিরোধ ও পূর্ব শত্রুতার জেরে এক রিকশাচালককে তার খালাতো ভাই ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে শেখ পাড়া, মেহেরপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত গোলাম হোসেন (৪৫) ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন এবং পরে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল-এ নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের বরাতে জানা যায়, পারিবারিক বিরোধ এবং পূর্বের একটি ঘটনার জের ধরে অভিযুক্ত কালু আকস্মিকভাবে পেছন থেকে হামলা চালায়। এ সময় নিহতের স্ত্রী ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেন। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক ও ব্যক্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা চলছিল, যা শেষ পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডে রূপ নেয়। মেহেরপুর সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি আত্মগোপনে রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
নেত্রকোণায় শিশু ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার প্রধান আসামি সেই মাদরাসা শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। র্যাব-১৪ জানায়, অভিযুক্ত আমান উল্লাহ সাগর-কে ভোররাতে গৌরীপুর উপজেলা এলাকা থেকে আটক করা হয় এবং পরবর্তীতে তাকে মদন থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ভুক্তভোগী নাবালিকা একই প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত অবস্থায় অভিযুক্ত শিক্ষক কর্তৃক যৌন নির্যাতনের শিকার হয় এবং পরবর্তীতে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। চিকিৎসা পরীক্ষায় তার গর্ভধারণের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানা যায়, মেয়েটি ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে দায়ের করা এজাহারের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্তাধীন রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সকল প্রমাণ সংগ্রহ করে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সুন্দরবনে জলদস্যুদের তাণ্ডবে জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। গত দুই দিনে দস্যুদের হামলায় অন্তত ২৫ জন বনজীবী অপহৃত হয়েছেন বলে জানা গেছে। সোমবার (৪মে) সকাল থেকে মঙ্গলবার (৫ মে) বিকাল পর্যন্ত সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী ও খাল—চুনকুড়ি নদীর গোয়ালবুনিয়া দুনের মুখ, ধানোখালী খাল, মামুন্দো নদীর মাইটভাঙা খাল ও মালঞ্চ নদীর চালতেবাড়ি খাল এলাকা থেকে তাদের অপহরণ করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আলিম ও ডন বাহিনীর পরিচয়ে সশস্ত্র দস্যুরা মাছ, কাঁকড়া ধরা ও মধু সংগ্রহে থাকা নৌকাগুলোতে হামলা চালিয়ে প্রতিটি নৌকা থেকে একজন করে বনজীবীকে জিম্মি করে নিয়ে যায়। এ পর্যন্ত ১৬ জনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। অপহৃতদের মধ্যে রয়েছেন শ্যামনগরের হুমায়ুন, আব্দুল সালাম, আবুল কালাম, শাহাজান গাজী, সিরাজ গাজী, আবুল বাসার বাবু, আল-আমিন, আল-মামুন, মনিরুল মোল্লা, সঞ্জয় মণ্ডল, হৃদয় মণ্ডল, রবিউল ইসলাম বাবু, রবিউল ইসলাম, শুকুর আলী গাজী, ইব্রাহিম গাজী ও মুরশিদ আলম। নিরাপত্তাজনিত কারণে অন্যদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। অপহরণের পর দস্যুরা কয়েকজনের পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করেছে। এর মধ্যে ইব্রাহিম গাজীর জন্য ৩০ হাজার, মুরশিদের জন্য ১ লাখ এবং আব্দুল সালামের জন্য ২৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের স্বজনদের অভিযোগ, একই বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে অপহরণ ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত। কার্যকর প্রতিরোধ না থাকায় দস্যুরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা মোঃ ফজলুল হক জানান, কয়েকজন বনজীবী অপহরণের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে জিম্মিদের নিরাপত্তার কারণে বিস্তারিত তথ্য গোপন রাখা হচ্ছে। শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ খালেদুর রহমান বলেন, অনেক ক্ষেত্রে পরিবারগুলো নিজেরাই সমঝোতার চেষ্টা করে এবং নিরাপত্তার কারণে তথ্য দিতে অনীহা দেখায়। তবুও ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় বনজীবীদের দাবি, সুন্দরবনে নিরাপত্তা জোরদার না হলে জীবিকার জন্য বনে যাওয়া তাদের জন্য দিন দিন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে।
খুলনায় সশস্ত্র হামলার একাধিক ঘটনায় গুরুতর আহত এক যুবককে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সেও গুলিবর্ষণের অভিযোগ উঠেছে—ঘটনাটি নিয়ে পৃথকভাবে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সোমবার (৬ মে) নগরীর লবণচরা থানা এলাকা-সংলগ্ন কোবা মসজিদের কাছে রাজু হাওলাদার (৩৮) গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ নেওয়া হলে বিষয়টি প্রকাশ পায়। চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে রাতের দিকে রূপসা উপজেলা-এর কুদির বটতলা এলাকায় পৌঁছালে আবারও দুর্বৃত্তরা অ্যাম্বুলেন্স লক্ষ্য করে গুলি চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চালক দ্রুত কাটাখালী হাইওয়ে থানা-এ আশ্রয় নেন। পরে পুলিশি নিরাপত্তায় পুনরায় যাত্রা শুরু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগীর ওপর হামলার সুনির্দিষ্ট স্থান ও সময় এখনো নিশ্চিত নয়। প্রাথমিক তথ্যে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকার তথ্যও উঠে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, ঘটনার পেছনের উদ্দেশ্য ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
বরিশালের উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অভিযান চালিয়ে দালালচক্রের তিন সদস্যকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মহেশ্বর মন্ডল-এর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন রীনা খানম, তাসলিমা আক্তার ও নাসরিন আক্তার। এর মধ্যে নাসরিন আক্তারকে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অপর দুইজন রীনা খানম ও তাসলিমা আক্তারকে ৩০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। উজিরপুর মডেল থানার ওসি রাকিবুল ইসলাম জানান, দণ্ডপ্রাপ্তদের আদালতের মাধ্যমে বরিশাল কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতাল এলাকায় সক্রিয় একটি সংঘবদ্ধ দালালচক্র রোগী ও তাদের স্বজনদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে বিভ্রান্ত করে নির্দিষ্ট ক্লিনিক ও চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার নামে অর্থ আদায় করছিল। অভিযোগের ভিত্তিতে আকস্মিক অভিযানে গিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থল থেকে তাদের হাতেনাতে আটক করেন। এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
সুন্দরবন সংলগ্ন একটি ইকো রিসোর্টে পর্যটকদের ওপর হামলা ও লুটপাটের চেষ্টার ঘটনায় দ্রুত অভিযান চালিয়ে দুই সন্দেহভাজনকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৪ মে) ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে খুলনার দাকোপ উপজেলার ঢাংমারী খাল সংলগ্ন সুন্দরী ইকো রিসোর্টে অবস্থানরত পর্যটকদের লক্ষ্য করে একদল দুষ্কৃতিকারী হামলার চেষ্টা চালায়। তারা রিসোর্টের জানালার গ্রিল ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে কর্তৃপক্ষ বিষয়টি টের পেয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এতে দুষ্কৃতিকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই কোস্ট গার্ডকে অবহিত করা হলে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন বিকেলে কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ঢাংমারী খাল এলাকা থেকে রাজন সরদার (২৫) ও রতন সরদার (১৪) নামে দুইজনকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা চুরি ও ছিনতাইয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানায় কোস্ট গার্ড। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের দাকোপ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, উপকূলীয় এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে পরিচয়ের সূত্র ধরে এক স্কুলছাত্রকে আবাসিক হোটেলে নিয়ে যৌন নিপীড়ন ও ভিডিও ধারণের অভিযোগে সুনামগঞ্জে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম আকাশ চন্দ্র দাস শাওন ওরফে ইশান (২২)। তিনি সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা-এর গৌরারং ইউনিয়নের বাসিন্দা। রোববার রাতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ভুক্তভোগী নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীর সঙ্গে টিকটকের মাধ্যমে আকাশের পরিচয় গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে সম্পর্কের আড়ালে তাকে শহরের একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে গিয়ে যৌন নির্যাতন করা হয় এবং ঘটনাটির ভিডিও মোবাইলে ধারণ করা হয়। এরপর ওই ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে অভিযুক্ত আবারও তাকে অন্য একটি হোটেলে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করে এবং পরে তাকে সেখানে ফেলে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় মামলা দায়ের করলে তদন্তে নামে পুলিশ। পরবর্তীতে র্যাবের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার কাছ থেকে ভিডিও সংরক্ষিত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং জব্দকৃত আলামত ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে এবং অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
আদালতের আদেশ অমান্য, অভিযোগকারীকে ডেকে এনে হুমকি, সিন্ডিকেট বাণিজ্য, মিথ্যা তথ্য প্রদান, অনিয়ম ও দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগে অভিযুক্ত নরসিংদীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) মাহমুদা বেগমকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে তাকে দুই দফা বদলির আদেশ জারি করে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বদলির আদেশ জারির পরও নরসিংদীতে বহাল থাকার চেষ্টা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দেয়। গত ১৯ এপ্রিল তাকে পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে পদায়ন করা হলেও ২৭ এপ্রিল সেই আদেশ বাতিল করে পরিকল্পনা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়। পরবর্তীতে ২৮ এপ্রিল আবার আদেশ পরিবর্তন করে তাকে নরসিংদীতেই বহাল রাখা হয়। এদিকে, তারা নানা অনিয়মের প্রতিকার ও বিচার চেয়ে গত ১৯ এপ্রিল শত শত নরনারী রাস্তায় নেমে বিক্ষোভের পর জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের ভিতরে ঢুকে মানববন্ধন করে। এসময় সরকারি কর্মকর্তাদের আশ্বাসে ভুক্তভোগীরা বাড়ি ফিরে যান। রাতেই তার বদলির আদেশ জারি করে জনপ্রশাসন। অভিযোগ রয়েছে এরপর তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে নিজের কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছেন। এমনকি গত ছয় মাসে এককভাবে সরকারের প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় করেছেন বলেও প্রচার করা হয়, যা প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে। দীর্ঘ অনুসন্ধানে জানা যায়, হাইকোর্টের রায় থাকা সত্ত্বেও স্থাপনার বিল পরিশোধ না করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। অভিযোগের অনুলিপি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), ডিজিএফআই, এনএসআই, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং জেলা প্রশাসক, নরসিংদী বরাবর পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, আব্দুর রউফ গাজী নামে এক আবেদনকারীর স্থাপনার বিল পরিশোধে গড়িমসি করা হয় এবং তাকে একটি বিতর্কিত ব্যবসায়িক চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব দেয় এই এডিসি। এতে রাজি না হওয়ায় বিল আটকে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। একই ধরনের অভিযোগ করেছেন হারুনুর রশীদ খান ও শামসুল আলম খান। তাদের দাবি, ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত (এলএ কেইস নং ১৫/২০২১-২০২২) স্থাপনার বিল প্রদানে অনিয়ম করা হয়েছে। এছাড়া, পূর্বে নিষ্পত্তি হওয়া একটি আবেদন পুনরায় গ্রহণ করে বিল প্রদানে টালবাহানা করা হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। এছাড়াও জামালপুরে এসিল্যান্ড ও নেত্রকোনায় ইউএনও থাকার সময় নানা অনিয়ম ও হুমকির কারণে সংবাদের শিরোনাম হন তিনি। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে এডিসি মাহমুদা বেগম কোন সদুত্তর দিতে পারেন নি। অন্যদিকে, অভিযোগ রয়েছে—তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করার পর আব্দুল বাতেন (৭৫) নামে এক ব্যক্তিকে তার খাসকামরায় ডেকে এনে ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরবর্তীতে ভয়ে এই ভুক্তভোগী মারা যান। সামসু উদ্দিন নামেও এক ভুক্তভোগী বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছেন এই এডিসির বিরুদ্ধে। প্রতিকার না পেয়ে ভয়ে এখন আর কেউ মুখ খুলতে চায়না। আসলে এই এডিসির খুঁটির জোড় কোথায় এবং আর কত নির্যাতনের শিকার হলে পরে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এমন প্রশ্নই তাড়া করে বেড়াচ্ছে ভুক্তভোগীদের মাঝে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।