সুন্দরবনে জলদস্যুদের তাণ্ডবে জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। গত দুই দিনে দস্যুদের হামলায় অন্তত ২৫ জন বনজীবী অপহৃত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
সোমবার (৪মে) সকাল থেকে মঙ্গলবার (৫ মে) বিকাল পর্যন্ত সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী ও খাল—চুনকুড়ি নদীর গোয়ালবুনিয়া দুনের মুখ, ধানোখালী খাল, মামুন্দো নদীর মাইটভাঙা খাল ও মালঞ্চ নদীর চালতেবাড়ি খাল এলাকা থেকে তাদের অপহরণ করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আলিম ও ডন বাহিনীর পরিচয়ে সশস্ত্র দস্যুরা মাছ, কাঁকড়া ধরা ও মধু সংগ্রহে থাকা নৌকাগুলোতে হামলা চালিয়ে প্রতিটি নৌকা থেকে একজন করে বনজীবীকে জিম্মি করে নিয়ে যায়।

এ পর্যন্ত ১৬ জনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। অপহৃতদের মধ্যে রয়েছেন শ্যামনগরের হুমায়ুন, আব্দুল সালাম, আবুল কালাম, শাহাজান গাজী, সিরাজ গাজী, আবুল বাসার বাবু, আল-আমিন, আল-মামুন, মনিরুল মোল্লা, সঞ্জয় মণ্ডল, হৃদয় মণ্ডল, রবিউল ইসলাম বাবু, রবিউল ইসলাম, শুকুর আলী গাজী, ইব্রাহিম গাজী ও মুরশিদ আলম। নিরাপত্তাজনিত কারণে অন্যদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
অপহরণের পর দস্যুরা কয়েকজনের পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করেছে। এর মধ্যে ইব্রাহিম গাজীর জন্য ৩০ হাজার, মুরশিদের জন্য ১ লাখ এবং আব্দুল সালামের জন্য ২৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের স্বজনদের অভিযোগ, একই বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে অপহরণ ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত। কার্যকর প্রতিরোধ না থাকায় দস্যুরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা মোঃ ফজলুল হক জানান, কয়েকজন বনজীবী অপহরণের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে জিম্মিদের নিরাপত্তার কারণে বিস্তারিত তথ্য গোপন রাখা হচ্ছে।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ খালেদুর রহমান বলেন, অনেক ক্ষেত্রে পরিবারগুলো নিজেরাই সমঝোতার চেষ্টা করে এবং নিরাপত্তার কারণে তথ্য দিতে অনীহা দেখায়। তবুও ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় বনজীবীদের দাবি, সুন্দরবনে নিরাপত্তা জোরদার না হলে জীবিকার জন্য বনে যাওয়া তাদের জন্য দিন দিন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে।
শেরপুরের নকলা উপজেলায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) উপজেলার গনপদ্দী ইউনিয়নের খারজান এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। গ্রেফতার ব্যক্তি মো. হাকিম মিয়া (৩৮)। তিনি খারজান এলাকার মৃত আবদুল্লাহ মিয়ার ছেলে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নকলা থানা পুলিশের একটি দল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় হাকিম মিয়ার কাছ থেকে ৬৭৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে হেফাজতে নিয়ে থানায় আনা হয়। নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিপন চন্দ্র গোপ জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি মাদক নির্মূলে পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
রায়পুরায় পৃথক অভিযানে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা ও ইয়াবাসহ তিন কারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (১১ মে) রাত থেকে মঙ্গলবার (১২ মে) পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব মাদক উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন কিশোরগঞ্জের ভৈরবের আলামিন, হবিগঞ্জের মাধবপুরের আব্দুল আজিজ এবং রায়পুরার জুয়েল মিয়া। তাদের কাছ থেকে মোট ৩৫ কেজি গাঁজা ও ১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রতনপুর বাজার, মাহমুদাবাদ এলাকা এবং চরসুবুদ্ধি ইউনিয়নের পৃথক স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে একজনকে ৩০ কেজি গাঁজাসহ, আরেকজনকে ৫ কেজি গাঁজাসহ এবং অপরজনকে ইয়াবাসহ আটক করা হয়। রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান জানান, জেলা পুলিশের নির্দেশনায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে ১৪ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে ঘুরতে নিয়ে গিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে দুই তরুণের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। ঘটনায় একজনকে আটক করেছে পুলিশ, অপর আসামি পলাতক রয়েছে। শনিবার (৯ মে) রাতে ওই কিশোরীকে স্থানীয় দুই তরুণ—নাহিদুল ইসলাম এবং রায়হান শেখ—বেড়ানোর কথা বলে নিয়ে যান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয়দের সহায়তায় মোটরসাইকেলসহ নাহিদুল ইসলামকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। তিনি বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। অপর আসামি রায়হান শেখ পলাতক। ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ঘটনার পর বিষয়টি গোপন রাখতে চাপ প্রয়োগ করা হলেও পরে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। গোয়ালন্দ ঘাট থানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম জানান,কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে এলাকাবাসী মোটরসাইকেলসহ তরুণকে আটক করে পুলিশে দেন। কিশোরীর মা বাদী হয়ে রায়হান ও তাঁর বন্ধু নাহিদুলের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। কিশোরীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আজ সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে। এ ঘটনার প্রধান আসামি রায়হানকে ধরতে পুলিশ কাজ করছে।