যশোরের শার্শা উপজেলার সীমান্তঘেঁষা বসতপুর গ্রামে পরকীয়া ও অর্থনৈতিক বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডে ইকরামুল কবির (২৫) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রায় ৩৫ দিন নিখোঁজ থাকার পর গোয়ালঘরের মেঝের নিচ থেকে অর্ধগলিত অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, তাকে হত্যার পর মরদেহ গোপন করতে গোয়ালঘরের মাটি খুঁড়ে ঢালাই দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে চারজনকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
নিহত ইকরামুল যশোরের পুটখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ বারোপোতা গ্রামের আব্দুল রশিদের ছেলে। আটক ব্যক্তিরা হলেন—মুনী বেগম (২০), কাকলী বেগম (১৯), ফজলু মোড়ল (৫৫) ও ফরহাদ হোসেন (২৮)।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, বসতপুর পূর্বপাড়ার আল ফুয়াদের স্ত্রী মুন্নীর (২২) সঙ্গে ইকরামুলের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। প্রায় এক মাসের বেশি সময় আগে পাওনা টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে মুন্নীর বাড়িতে গেলে তিনি নিখোঁজ হন। এরপর থেকেই তার কোনো সন্ধান মেলেনি।
পরবর্তীতে নিখোঁজের ঘটনায় সন্দেহ সৃষ্টি হলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং তথ্যপ্রযুক্তি ও জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে আল ফুয়াদকে আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যায় বসতঘরের গোয়ালঘর থেকে মাটি খুঁড়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
শার্শা থানার ওসি মারুফ হোসেন জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেলেও এর পূর্ণাঙ্গ উদ্দেশ্য, পরিকল্পনা ও সম্ভাব্য অন্যান্য জড়িতদের বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
শেরপুরের নকলা উপজেলায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) উপজেলার গনপদ্দী ইউনিয়নের খারজান এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। গ্রেফতার ব্যক্তি মো. হাকিম মিয়া (৩৮)। তিনি খারজান এলাকার মৃত আবদুল্লাহ মিয়ার ছেলে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নকলা থানা পুলিশের একটি দল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় হাকিম মিয়ার কাছ থেকে ৬৭৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে হেফাজতে নিয়ে থানায় আনা হয়। নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিপন চন্দ্র গোপ জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি মাদক নির্মূলে পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
রায়পুরায় পৃথক অভিযানে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা ও ইয়াবাসহ তিন কারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (১১ মে) রাত থেকে মঙ্গলবার (১২ মে) পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব মাদক উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন কিশোরগঞ্জের ভৈরবের আলামিন, হবিগঞ্জের মাধবপুরের আব্দুল আজিজ এবং রায়পুরার জুয়েল মিয়া। তাদের কাছ থেকে মোট ৩৫ কেজি গাঁজা ও ১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রতনপুর বাজার, মাহমুদাবাদ এলাকা এবং চরসুবুদ্ধি ইউনিয়নের পৃথক স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে একজনকে ৩০ কেজি গাঁজাসহ, আরেকজনকে ৫ কেজি গাঁজাসহ এবং অপরজনকে ইয়াবাসহ আটক করা হয়। রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান জানান, জেলা পুলিশের নির্দেশনায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে ১৪ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে ঘুরতে নিয়ে গিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে দুই তরুণের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। ঘটনায় একজনকে আটক করেছে পুলিশ, অপর আসামি পলাতক রয়েছে। শনিবার (৯ মে) রাতে ওই কিশোরীকে স্থানীয় দুই তরুণ—নাহিদুল ইসলাম এবং রায়হান শেখ—বেড়ানোর কথা বলে নিয়ে যান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয়দের সহায়তায় মোটরসাইকেলসহ নাহিদুল ইসলামকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। তিনি বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। অপর আসামি রায়হান শেখ পলাতক। ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ঘটনার পর বিষয়টি গোপন রাখতে চাপ প্রয়োগ করা হলেও পরে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। গোয়ালন্দ ঘাট থানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম জানান,কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে এলাকাবাসী মোটরসাইকেলসহ তরুণকে আটক করে পুলিশে দেন। কিশোরীর মা বাদী হয়ে রায়হান ও তাঁর বন্ধু নাহিদুলের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। কিশোরীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আজ সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে। এ ঘটনার প্রধান আসামি রায়হানকে ধরতে পুলিশ কাজ করছে।