সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক–এর বিরুদ্ধে দায়ের করা অস্ত্র আইনের মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়েছে আদালত। ঢাকার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-৪ আগামী ২১ জুন পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করেছেন।
রোববার (১০ মে) বিচারক মঈন উদ্দিন চৌধুরীর আদালতে মামলাটির চার্জগঠন বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এদিন কারাগার থেকে আনিসুল হককে আদালতে হাজির করা হয়।
শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার সুমন হোসেন আদালতের কাছে সময় প্রার্থনা করে বলেন, সরকার পরিবর্তনের পর আনিসুল হকের বাসভবনে লুটপাটের ঘটনা ঘটে এবং তার বৈধ লাইসেন্সধারী অস্ত্রও তখন হারিয়ে যায়। এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্য সংগ্রহে সময় প্রয়োজন বলে আদালতকে অবহিত করা হয়। তবে রাষ্ট্রপক্ষ সময়ের আবেদনের বিরোধিতা করে।
উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ২১ জুন শুনানির নতুন তারিখ ধার্য করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, আনিসুল হকের নামে বনানী থানার অধীনে একটি বৈধ পিস্তলের লাইসেন্স ছিল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য ইস্যুকৃত আগ্নেয়াস্ত্র থানায় জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি অস্ত্রটি জমা দেননি কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিতও করেননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ১৯(১) ধারায় বনানী থানায় মামলা দায়ের করা হয়। তদন্ত শেষে পুলিশ সম্প্রতি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট রাজধানীর সদরঘাট এলাকা থেকে আনিসুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি একাধিক হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার অবস্থায় কারাগারে রয়েছেন।
রাজধানীকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজায়নের আওতায় আনতে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মের যৌথ উদ্যোগে ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ১৪ মে বৃহস্পতিবার। আগামীকাল সকাল ১০টায় রাজধানীর নগর ভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মোঃ আবদুস সালাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ইশতিয়াক আজিজ উলফাত এবং সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। এছাড়া অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন ড. কে এম আই মন্টিসহ সংগঠনের সিনিয়র নেতারা। অনুষ্ঠান আয়োজকরা জানিয়েছেন, নগর পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিদের উপস্থিত থেকে সংবাদ কাভারেজ প্রদানের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
দেশে হামের সংক্রমণ ও শিশুমৃত্যু বেড়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে টিকা সরবরাহ ও সরকারি ব্যবস্থাপনায় অবহেলার অভিযোগ উঠেছে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে। প্রতিদিনই নতুন মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। মঙ্গলবার (১২ মে) বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান সিনিয়র সাংবাদিক আনিস আলমগীর। তিনি অভিযোগ করেন, হামের কারণে শিশুমৃত্যুর বিষয়টি আড়াল করতে একটি পক্ষ ‘সাফাই’ দিচ্ছে এবং এদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। তিনি সাবেক প্রেসসচিব শফিকুল আলমসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের আহ্বান জানান এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহানের বিচার দাবি করা আন্দোলনের প্রতি ইঙ্গিত করেন। অন্যদিকে, হামের টিকা কেন সংগ্রহ করা হয়নি—তা তদন্তে আন্তর্জাতিক মানের একটি কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলবে, তবে এ মুহূর্তে জরুরি অবস্থা ঘোষণার প্রয়োজন নেই।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা না থাকলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্স বাতিল করা হবে বলে কঠোর সতর্কতা জানিয়েছেন প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। সোমবার (১১ মে) নগর ভবনে বর্জ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, বাসাবাড়ি থেকে মাসিক ১০০ টাকার বেশি বিল আদায় সম্পূর্ণ অনিয়ম এবং এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি নির্ধারিত নিয়মে প্রতিদিনের বর্জ্য প্রতিদিনই অপসারণ না করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির মুখে পড়তে হবে। সভায় আসন্ন ঈদুল আজহা সামনে রেখে বিশেষ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। কোরবানির পর তিন দিনের মধ্যে পুরো নগরী পরিচ্ছন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সব কর্মী ও ঠিকাদারদের মাঠে থাকতে হবে বলেও জানানো হয়। কোনো এলাকায় বর্জ্য জমে থাকলে তা প্রশাসনিক ব্যর্থতা হিসেবে গণ্য করা হবে। ডিএসসিসি প্রশাসক আরও বলেন, রাস্তা, ড্রেন বা খালে ময়লা ফেলা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে সেবা নয়, বরং নাগরিক দায়িত্ব হিসেবে কঠোরভাবে বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন।