পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য স্বল্পমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকসেল কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। আগামী ১১ মে থেকে এ কার্যক্রম শুরু হয়ে ২১ মে পর্যন্ত (শুক্রবার ব্যতীত) সারাদেশে চলবে।
রোববার (১০ মে) টিসিবির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সরকারি নির্দেশনার অংশ হিসেবে কার্ডধারী নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর পাশাপাশি সাধারণ ভোক্তারাও নির্ধারিত দামে ভর্তুকি মূল্যের পণ্য কিনতে পারবেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকা মহানগরীতে ৫০টি, চট্টগ্রামে ২০টি এবং অন্যান্য বিভাগীয় শহর ও জেলাগুলোতে নির্ধারিত সংখ্যক ট্রাকের মাধ্যমে মোট ৭২০টি ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় কেন্দ্র পরিচালিত হবে। এসব ট্রাক থেকে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সংখ্যক ভোক্তার কাছে পণ্য বিক্রি করা হবে।
টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি ট্রাক থেকে দৈনিক গড়ে প্রায় ৪০০ জন ভোক্তার কাছে ভোজ্যতেল, চিনি ও মসুর ডাল বিক্রি করা হবে। ১০ দিনের এই কর্মসূচিতে প্রায় ২৮.৮০ লাখ উপকারভোগীকে সেবা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নির্ধারিত দামে ১৩০ টাকায় ২ লিটার ভোজ্যতেল, ৮০ টাকায় ১ কেজি চিনি এবং ৭০ টাকায় ২ কেজি মসুর ডাল পাওয়া যাবে।
এছাড়া ঈদ উপলক্ষে মে মাসজুড়ে প্রায় ৭২ লাখ কার্ডধারী পরিবারের মধ্যে মোট প্রায় ৩৪ হাজার ৮৪৮ মেট্রিক টন পণ্য বিতরণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। কার্ডধারীদের জন্য নির্ধারিত কোটা ও মূল্য কাঠামো অপরিবর্তিত থাকবে।
রাজধানীকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজায়নের আওতায় আনতে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মের যৌথ উদ্যোগে ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ১৪ মে বৃহস্পতিবার। আগামীকাল সকাল ১০টায় রাজধানীর নগর ভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মোঃ আবদুস সালাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ইশতিয়াক আজিজ উলফাত এবং সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। এছাড়া অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন ড. কে এম আই মন্টিসহ সংগঠনের সিনিয়র নেতারা। অনুষ্ঠান আয়োজকরা জানিয়েছেন, নগর পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিদের উপস্থিত থেকে সংবাদ কাভারেজ প্রদানের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
দেশে হামের সংক্রমণ ও শিশুমৃত্যু বেড়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে টিকা সরবরাহ ও সরকারি ব্যবস্থাপনায় অবহেলার অভিযোগ উঠেছে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে। প্রতিদিনই নতুন মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। মঙ্গলবার (১২ মে) বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান সিনিয়র সাংবাদিক আনিস আলমগীর। তিনি অভিযোগ করেন, হামের কারণে শিশুমৃত্যুর বিষয়টি আড়াল করতে একটি পক্ষ ‘সাফাই’ দিচ্ছে এবং এদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। তিনি সাবেক প্রেসসচিব শফিকুল আলমসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের আহ্বান জানান এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহানের বিচার দাবি করা আন্দোলনের প্রতি ইঙ্গিত করেন। অন্যদিকে, হামের টিকা কেন সংগ্রহ করা হয়নি—তা তদন্তে আন্তর্জাতিক মানের একটি কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলবে, তবে এ মুহূর্তে জরুরি অবস্থা ঘোষণার প্রয়োজন নেই।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা না থাকলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্স বাতিল করা হবে বলে কঠোর সতর্কতা জানিয়েছেন প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। সোমবার (১১ মে) নগর ভবনে বর্জ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, বাসাবাড়ি থেকে মাসিক ১০০ টাকার বেশি বিল আদায় সম্পূর্ণ অনিয়ম এবং এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি নির্ধারিত নিয়মে প্রতিদিনের বর্জ্য প্রতিদিনই অপসারণ না করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির মুখে পড়তে হবে। সভায় আসন্ন ঈদুল আজহা সামনে রেখে বিশেষ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। কোরবানির পর তিন দিনের মধ্যে পুরো নগরী পরিচ্ছন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সব কর্মী ও ঠিকাদারদের মাঠে থাকতে হবে বলেও জানানো হয়। কোনো এলাকায় বর্জ্য জমে থাকলে তা প্রশাসনিক ব্যর্থতা হিসেবে গণ্য করা হবে। ডিএসসিসি প্রশাসক আরও বলেন, রাস্তা, ড্রেন বা খালে ময়লা ফেলা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে সেবা নয়, বরং নাগরিক দায়িত্ব হিসেবে কঠোরভাবে বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন।