চলমান পাবলিক পরীক্ষার সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে দেশের সব কোচিং সেন্টার আগামী ১৫ আগস্ট ২০২৫ পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সোমবার (২৩ জুন) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে সব জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কোচিং সেন্টারগুলোর মাধ্যমে প্রশ্নফাঁস, গাইড সরবরাহ ও পরীক্ষার্থীদের প্রভাবিত করার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রতি বছর পরীক্ষার সময় এসব সেন্টার সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।
শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন,
“আমরা চাই একটি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ এবং মানসম্মত পরীক্ষা। সেই লক্ষ্যে কোচিং সেন্টার সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা একটি পূর্বপ্রস্তুতির অংশ।”
তিনি আরও বলেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত তদারকিতে থাকবে এবং কেউ যদি নির্দেশনা অমান্য করে কোচিং পরিচালনা করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে সিদ্ধান্তের পরপরই দেশের বিভিন্ন এলাকায় কোচিং সেন্টার মালিকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
ঢাকার একটি বিখ্যাত কোচিং সেন্টারের পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“এতে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হবে। অনেকেই একেবারে পরীক্ষার আগে রিভিশনের জন্য আসে। হুট করে বন্ধ করে দিলে তারা বিপাকে পড়বে।”
তবে সরকার বলছে, পরীক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই সময়সূচি আগে থেকেই ঘোষণা করা হয়েছে।
আগের বছরগুলোতে দেখা গেছে, কোচিং সেন্টার বন্ধের সরকারি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও অনেক প্রতিষ্ঠান গোপনে চালু ছিল। এবারের সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে সরকার অতিরিক্ত নজরদারি চালানোর পরিকল্পনা করেছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) একজন কর্মকর্তা বলেন,
“আমরা সাদা পোশাকে টহল এবং হটলাইন নম্বর চালু রাখছি। কেউ নির্দেশনা অমান্য করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের বিশেষ মাইগ্রেশনের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয় পরিবর্তন ও নতুনভাবে মনোনয়নপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের জন্য চার দফা নির্দেশনা জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিবিষয়ক ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিশেষ মাইগ্রেশনের মাধ্যমে যাদের বিষয় পরিবর্তন হয়েছে বা নতুনভাবে মনোনয়ন পেয়েছেন, তাদের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। নির্দেশনাগুলো হলো— ১. নতুনভাবে বিষয় মনোনয়নপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রীয় ভর্তি ফি পরিশোধ করতে হবে। ২. বিশেষ মাইগ্রেশনের মাধ্যমে বিষয় পরিবর্তন হওয়া শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ নতুন বিভাগের প্রযোজ্য ভর্তি ফি পরিশোধ করতে হবে। ৩. আগামীকাল ২৯ এপ্রিল থেকে ৩০ এপ্রিলের মধ্যে সব প্রযোজ্য ফি অনলাইনে পরিশোধ করে সংশ্লিষ্ট ডিন অফিসে সশরীরে উপস্থিত হয়ে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। ৪. বিস্তারিত তথ্য ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনার জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিটের নোটিশ সেকশন পরিদর্শনের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও ন্যায়সংগত মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে ‘সাইলেন্ট এক্সপেল’ বা ‘নীরব বহিষ্কার’ বিধান কার্যকর করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী, পরীক্ষার হলে অসদুপায় অবলম্বন বা আচরণগত অনিয়মের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে পরীক্ষার্থীকে প্রকাশ্যে বহিষ্কার না করে পরবর্তীতে তার উত্তরপত্র বাতিলের মাধ্যমে এই ব্যবস্থা প্রয়োগ করা হবে। নীতিমালায় উল্লেখ রয়েছে, দায়িত্বরত পরিদর্শক পরীক্ষার শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত হলে পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্র পৃথকভাবে সংরক্ষণ করবেন এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় ‘রিপোর্টেড’ হিসেবে চিহ্নিত করে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে জমা দেবেন। এ ক্ষেত্রে পর্যবেক্ষকের লিখিত প্রতিবেদনে বহিষ্কারের কারণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক। এছাড়া, নীরব বহিষ্কৃত পরীক্ষার্থীদের পরবর্তী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ থাকলেও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তার ফলাফল আইনগতভাবে অকার্যকর গণ্য হবে। পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এ বিধান কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দেশের উচ্চশিক্ষা প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ দুই পদে নতুন নিয়োগের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে সরকার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নতুন উপাচার্য হিসেবে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামকে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পাচ্ছেন ঢাবির সহ–উপাচার্য অধ্যাপক মামুন আহমেদ। সোমবার (১৬ মার্চ) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ তথ্য জানান। অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত ছিলেন। এর আগে ইউজিসির বর্তমান চেয়ারম্যান অধ্যাপক এস এম এ ফায়েজ শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে আবেদন করেন। অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদেও সম্প্রতি পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। গত ২২ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন উপাচার্য নিয়াজ আহমদ খান রাষ্ট্রপতির কাছে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন এবং নিজ বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে ফিরে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর উচ্চশিক্ষা খাতের বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে পুনর্বিন্যাস শুরু হয়। সেই ধারাবাহিকতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউজিসির নেতৃত্বে এই নতুন পরিবর্তন আসছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।