লাইফস্টাইল

শহুরে জীবনে গ্রিন লাইফস্টাইল: চাইলেই কি সম্ভব?

Icon
আয়ান তাহরিম
প্রকাশঃ জুন ২৮, ২০২৫
শহুরে জীবনে গ্রিন লাইফস্টাইল: চাইলেই কি সম্ভব?
শহুরে জীবনে গ্রিন লাইফস্টাইল: চাইলেই কি সম্ভব?

শহুরে জীবনে গ্রিন লাইফস্টাইল: চাইলেই কি সম্ভব?

শহর মানেই ব্যস্ততা, কংক্রিটের জঙ্গল, দূষিত বাতাস, এবং অনিয়ন্ত্রিত শব্দ। এই যান্ত্রিক পরিবেশে বসবাস করা মানুষ প্রতিদিন একটু সবুজ, একটু প্রশান্তি খোঁজে। তাই ‘গ্রিন লাইফস্টাইল’ বা পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনের ধারণা শহরের মানুষদের মাঝেও ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই শহুরে বাস্তবতায় আমরা কি সত্যিই গ্রিন লাইফস্টাইল মেনে চলতে পারি?

গ্রিন লাইফস্টাইল মানে শুধু গাছ লাগানো নয়। এটি একটি সামগ্রিক জীবনধারা, যেখানে প্রকৃতি ও পরিবেশের সঙ্গে সহাবস্থানের চেষ্টা থাকে। যেমন—প্লাস্টিক ব্যবহার না করা, পুনর্ব্যবহারযোগ্য জিনিস ব্যবহার করা, গাছ লাগানো, অর্গানিক খাবার খাওয়া, কম দূষণ হয় এমন বাহনে চলাচল করা, বিদ্যুৎ ও পানি সাশ্রয় করা, এমনকি নিজস্ব ছাদে সবজি চাষ করাও এর অংশ হতে পারে।

কিন্তু শহরে এই সবকিছু কি সহজে করা যায়? উত্তরটা একদম সরল নয়। শহরের বাসিন্দাদের জন্য অনেক সময় জায়গার অভাব বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ফ্ল্যাটে থাকলে ছাদে বাগান করা যায় না, রান্নার সময় প্লাস্টিক প্যাকেট এড়ানোও কঠিন হয়ে পড়ে কারণ বাজারে সহজলভ্য জিনিসপত্রের বেশিরভাগই প্লাস্টিক মোড়ানো। তাছাড়া, ব্যস্ত জীবনযাপনের কারণে সময় বের করাও কঠিন হয়ে পড়ে।

তবে আশার কথা হলো, ইচ্ছা থাকলে উপায় বের করা যায়। শহুরে জীবনে কিছু ছোট ছোট অভ্যাস বদলেই শুরু করা যায় সবুজ যাত্রা। যেমন ধরুন, কেউ যদি বাজারের ব্যাগ হিসেবে কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহার করেন, বা পানির বোতল বারবার রিফিল করেন, তবুও তিনি পরিবেশ রক্ষায় অবদান রাখছেন। অফিসে যাওয়ার সময় যদি বাস বা সাইকেল ব্যবহার করা যায়, তাহলেও কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমে।

অনেক শহরেই এখন কমিউনিটি গার্ডেন, ছাদ কৃষি, সোলার প্যানেল স্থাপন, কিংবা জিরো ওয়েস্ট মুভমেন্ট জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। মানুষ নিজেরাই উদ্যোগ নিচ্ছে। ঢাকার মতো ব্যস্ত শহরেও অনেকে নিজেদের ব্যালকনিতে টব বসিয়ে ছোট পরিসরে সবজি ফলাচ্ছেন, কেউ আবার সোলার লাইট ব্যবহার করে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করছেন।

তবে এই চর্চা টেকসই করতে হলে প্রয়োজন নীতিনির্ধারকদের সহায়তা। শহরের পরিকল্পনায় আরও বেশি সবুজ এলাকা, হাঁটার রাস্তা, বাইসাইকেল লেন, এবং রিসাইক্লিং ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্তি জরুরি। সরকার যদি পরিবেশবান্ধব উদ্যোগে ভর্তুকি দেয় বা সচেতনতা বাড়ায়, তাহলে মানুষ আরও সহজে গ্রিন লাইফস্টাইল গ্রহণ করতে পারবে।

শহুরে জীবন যতই ব্যস্ত হোক না কেন, যদি সচেতনতা থাকে এবং ছোট ছোট পরিবর্তনগুলো বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে ‘গ্রিন লাইফস্টাইল’ একেবারেই অসম্ভব নয়। বরং, এটি হতে পারে একটি শান্ত, স্বাস্থ্যকর এবং টেকসই জীবনের সূচনা।

আমাদের সবারই উচিত নিজ নিজ জায়গা থেকে যতটুকু সম্ভব, পরিবেশবান্ধব পন্থায় জীবনযাপন করার চেষ্টা করা। কারণ প্রকৃতি বাঁচলেই আমরা বাঁচব—এই সত্যটা আজ আরও বাস্তব হয়ে উঠেছে।

লাইফস্টাইল

আরও দেখুন
হাম হলে করণীয় কী ?

হাম হলো এক প্রকার সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত নাক ও গলার মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে। রোগটি শিশু, গর্ভবতী মহিলা এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে গুরুতর অসুস্থতা, হাসপাতালে ভর্তি বা মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ায়। হামের কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, সংক্রমিত ব্যক্তির কাশি বা হাঁচি দিয়ে হাম বাতাসের মাধ্যমে দ্রুত ছড়ায়। ভাইরাসের সংস্পর্শে না আসা বা টিকা না নেওয়া ব্যক্তি সহজেই আক্রান্ত হতে পারে। আক্রান্ত হলে উচ্চ জ্বর, কাশি, চোখ লাল হওয়া, নাক দিয়ে পানি পড়া, মুখের ভেতরের ছোট সাদা দাগ এবং শরীরে লাল দাগের র‍্যাশের মতো উপসর্গ দেখা দেয়। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ পরামর্শ দিচ্ছে, রোগের লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে এবং অন্যদের সংক্রমণ এড়াতে মাস্ক ব্যবহার ও ঘন ঘন হাত ধোয়া, ব্যবহৃত টিস্যু ফেলার মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া পানীয়, খাবারের বাসন ভাগ না করা এবং ঘন স্পর্শের পৃষ্ঠ জীবাণুমুক্ত রাখা জরুরি। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, হাম প্রতিরোধে ভ্যাকসিন নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ টিকা নিলে সংক্রমণের ঝুঁকি যথেষ্ট কমে যায়।  

নিখাদ খবর ডেস্ক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0

রমজানের নতুন চাঁদ দেখা গেলে যে বিশেষ দোয়া পাঠ করবেন

ঘুম ঠিক না হলে কী হয়? জানুন সুস্থ থাকার সহজ উপায়

ঘুম ঠিক না হলে কী হয়? জানুন সুস্থ থাকার সহজ উপায়

দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সংকট: জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ

দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সংকট: জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ

বন্ধুতা, সম্পর্ক ও মানসিক সুস্থতা: কীভাবে সামলাবেন ব্যস্ত জীবনে

প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এবার দেশের স্কুল পর্যায়ে রোবটিক্স শিক্ষা চালু করতে উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই পাইলট প্রকল্প হিসেবে রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলের শতাধিক স্কুলে এ পাঠ্যক্রম চালু করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষায় “ভূমিকা ভিত্তিক রোবটিক্স” শীর্ষক একটি সংক্ষিপ্ত সিলেবাস তৈরি করা হয়েছে। এতে থাকবে সহজ প্রোগ্রামিং, সেন্সর ব্যবহার, অটোমেশন ধারণা, এবং ছোটখাটো রোবট তৈরি ও পরিচালনার হাতে-কলমে শিক্ষা।   ভবিষ্যতের কর্মদক্ষতা গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক হাফিজুর রহমান বলেন, “বৈশ্বিক শ্রমবাজারে প্রযুক্তি-ভিত্তিক দক্ষতা সবচেয়ে বেশি চাহিদাসম্পন্ন। আমাদের শিক্ষার্থীরা যাতে পিছিয়ে না পড়ে, সে জন্যই এই প্রস্তুতি।” তিনি আরও জানান, শিক্ষকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও হাতে নেওয়া হয়েছে যাতে তারা ক্লাসে রোবটিক্স বিষয়টি সহজভাবে তুলে ধরতে পারেন।   শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ছে ইতোমধ্যে কিছু বেসরকারি স্কুল পরীক্ষামূলকভাবে রোবটিক্স ক্লাব পরিচালনা করছে, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। রাজধানীর একটি স্কুলের শিক্ষার্থী সানজিদা রহমান জানায়, “আমরা নিজেরাই ছোট একটি রোবট বানিয়েছি, সেটি চলতে পারে এবং নির্দেশ মানতে পারে—এটা ভীষণ রোমাঞ্চকর।”   কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে দেশীয় স্টার্টআপ এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে একাধিক দেশীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। ‘টেকল্যাবস বাংলাদেশ’ নামের একটি স্টার্টআপ ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্কুলে লো-কোস্ট রোবটিক্স কিট সরবরাহ শুরু করেছে।   বিশেষজ্ঞদের মত প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রাথমিক স্তরে রোবটিক্স শিক্ষা ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), মেকাট্রনিক্স এবং অটোমেশন সেক্টরে দক্ষ কর্মশক্তি গড়ার ভিত্তি তৈরি করবে।

জানিফ হাসান জুন ২৮, ২০২৫ 0
শহুরে জীবনে গ্রিন লাইফস্টাইল: চাইলেই কি সম্ভব?

শহুরে জীবনে গ্রিন লাইফস্টাইল: চাইলেই কি সম্ভব?

নতুন প্রজন্মের খাদ্যাভ্যাস: ফাস্টফুড বনাম পুষ্টিকর খাবার

স্মার্টফোন আসক্তি বনাম মানসিক স্বাস্থ্য

স্মার্টফোন আসক্তি বনাম মানসিক স্বাস্থ্য: কিশোর-কিশোরীদের জন্য করণীয়

0 Comments