বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস এন্ড সার্জনস আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের ঠিকাদার নিয়োগে ভয়াবহ জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। অবৈধভাবে কাজ পাইয়ে দিতে পরিবর্তন করা হয় দরপত্রের শর্তাবলি। ভুয়া অভিজ্ঞতার সনদ দিয়ে পাওয়া কাজ তড়িঘড়ি করে শুরু করেছে নকশা চূড়ান্ত হওয়ার আগেই।
ভুয়া অভিজ্ঞতার সনদের কপি ও নানা অনিয়মের প্রমানপত্রসহ এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন সংস্থা দুদক-এ অভিযোগও করা হয়েছে। গত ২১ মার্চ ২০২৪ সালে এ অভিযোগ করা হয়। সরকার পরিবর্তনের পর এ অভিযোগের আর হদিশ খুঁজে পাওয়া যায়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পতিত হাসিনা সরকার পতনের আগে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ৩০০ কোটি টাকার কাজ বাগিয়ে নেয় হাসান অ্যান্ড সন্স লিমিটেড -(এইচএসএল)- এমএসএ (জেবি) কে সহায়তা করে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী শেখ সেলিম। সহায়তা করে হাতিয়ে নেন মোটা অঙ্কের টাকা। স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ১৫০০ আসন বিশিষ্ট অডিটোরিয়ামসহ ৩টি বেইজমেন্ট, ১২ তলা ভবন নির্মাণের জন্য দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় ২০২৩ সালের ১৪ অক্টোবর।
সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের জন্য সারসংক্ষেপ তৈরি করে পাঠানো হয় গত ২৯ নভেম্বর। অর্থাৎ দেড় মাসের মধ্যেই সম্পন্ন করা হয়েছে দরপত্র বাছাই, ই-টেন্ডার, দরপত্র মূল্যায়ন, সুপারিশসহ যাবতীয় সব কাজ।
অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে এগিয়ে নেওয়া হয় দরপত্রটি। বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস (বিসিপিএস)-এর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় ভবন নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০৩ কোটি টাকা।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এ ধরনের বড় অঙ্কের প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান থেকে শুরু করে মূল্যায়ন ও সুপারিশ পর্যন্ত যাবতীয় কাজ শেষ করতে তিন থেকে চার মাস সময় লেগে যায়।
কিন্তু এই দরপত্রের ক্ষেত্রে দেড় মাসের মধ্যেই সবকিছু সম্পন্ন করে ফেলে। তড়িঘড়ি করে মন্ত্রিসভার অনুমোদন দেয় তোড়জোড় করে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস এর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ (১ম সংশোধিত) প্রকল্পের আওতায় ভবনটি নির্মাণ হবে। ১২ তলাবিশিষ্ট এই মাল্টিপারপাস ভবনে থাকছে ৩টি বেসমেন্টসহ ১ হাজার ৫০০ আসনবিশিষ্ট মিলনায়তন। দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী কাজটি করবে এইচএসএল-এমএসই (জেভি)। ১৫০০ আসনের ভবনের জন্য অভিজ্ঞতা চাওয়া হয় ২৫০ আসনের কাজের।
নথিপত্র থেকে জানা গেছে, গণপূর্তের ঠিকাদার হাসান অ্যান্ড সন্সের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাজের কোন অভিজ্ঞতা না থাকায় ভুয়া অভিজ্ঞতার সনদ দিয়েছে। এতে সহায়তা করেছে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন। ভবনের নকশা অনুমোদনের আগেই শুরু করেছে নির্মাণ কাজ। প্রকল্প পরিচালক ভবনের নকশা এবং ড্রয়িং অনুমোদনে অনীহা প্রকাশ করলে স্বাস্থ্য ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মরিয়া হয়ে ওঠেন নকশা অনুমোদনে।
দরপত্র প্রকাশের আগের তারিখে নকশা অনুমোদনের দায়িত্ব পড়ে আনোয়ার হোসেন ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী রফিকুল ইসলামের উপর। পরবর্তীতে বিদ্বেষমূলক ঊর্ধ্বতনদের চাপে নকশা অনুমোদনে বাধ্য হয় প্রকল্প পরিচালক।
০৫ আগস্টের পর শেখ সেলিমের বাসার ধ্বংসস্তূপে মিলেছে স্বাস্থ্য, স্থানীয় সরকার, সড়ক পরিবহণসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঠিকাদারি কাজের নথি।
এসকল বড় অংশই ছিল তাঁর নিয়ন্ত্রণেই। বিশেষ করে বৃহত্তর ফরিদপুর, খুলনা, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের সব উন্নয়নকাজ নিজ হাতে ভাগবাঁটোয়ারা করতেন। বিনিময়ে ঠিকাদারদের কাছ থেকে নিতেন মোটা অঙ্কের কমিশন। একটি নথিতে দেখা গেছে, এমএসই এর মালিক মাহবুবের কাছ থেকেও তিনি প্রতিমাসে বিপুল পরিমাণ অর্থ নিতেন।
এ বিষয়ে এইচএসএল এর পার্টনার এমএসই'র ঠিকাদার মাহবুবের কাছে জানতে চাইলে প্রথমে তিনি বলেন,
“এই কাজে জয়েন্ট ভেঞ্চারে তার নাম শুধু কাগজে কলমে। কার্যত এই কাজে তাঁর কোনো পার্টনারশিপ নেই। তবে সরেজমিনে মহাখালিতে অবস্থিত বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস সার্জনসের কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, এইচএসএল এর পাশাপাশি সেখানে তারও সাইড অফিস রয়েছে। এ অফিসে কাজ করছেন তার লোকজন। তার অফিসে কর্মরত নাফিস হায়দার স্বীকার করেন, তিনি ঠিকাদার খন্দকার মাহবুবের অধীনে এখানে কাজ দেখভাল করছেন।”
তাদের সাথে কথা বলে তাদের সামনেই ভবন নির্মাণের ভিডিও করার সময় এইচএসএল এর এক কর্মচারী ভিডিও করতে এ প্রতিবেদককে বাধা দেয়। এক পর্যায়ে তিনি মোবাইলে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে।পরবর্তীতে ঠিকাদার খন্দকার মাহবুবকে ফোন করে কেন মিথ্যা কথা বলছেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আর কোনো সদ উত্তর দিতে পারেননি। এক পর্যায়ে তিনি রিপোর্ট না করার জন্য অনুরোধ করে বলেন, “আমরা এনডিই'র সাথে কনটেস্ট করে ফাস্ট লোয়েস্ট হয়ে অনেক লেসে কাজটি নিয়েছি।” কাজটি শেষ করতে আরো দুই থেকে আড়াই বছর লাগবে উল্লেখ করে, তিনি এক পর্যায়ে এ প্রতিবেদকের সাথে দেখা করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
শেরপুরে এক কিশোরীকে টার্গেট করে প্রায় সাড়ে ২৭ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), জামালপুর। শেরপুর সদর থানার মামলা নং-৪২ (তারিখ: ১৭ মার্চ ২০২৬, ধারা ৪২০/৪০৬) অনুযায়ী, ভুক্তভোগী ছাইদুর রহমান অভিযোগ করেন—তার ১৩ বছর বয়সী অষ্টম শ্রেণির কন্যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রভাবিত হয়ে মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। এই সুযোগে “কবিরাজ” পরিচয়ে মো. খুরশেদ নামের এক প্রতারক ইমু অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে। প্রতারক চক্রটি সমস্যার সমাধানের প্রলোভন দেখিয়ে ৬ থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত বিকাশের মাধ্যমে মোট ২ লাখ ৪৩ হাজার ১৫০ টাকা হাতিয়ে নেয়। পরে ১০ মার্চ ঝাড়ফুঁকের কথা বলে সাড়ে ২৭ ভরি স্বর্ণালংকার ও আরও ১ লাখ টাকা নিয়ে নেয়। ঘটনার পর পুনরায় টাকা পাঠাতে গেলে দোকানদারের সন্দেহ হলে বিষয়টি পরিবারের কাছে প্রকাশ পায় এবং প্রতারণার বিষয়টি ধরা পড়ে। তদন্তে নেমে পিবিআই প্রযুক্তির সহায়তায় ৯ এপ্রিল গাজীপুরের শ্রীপুর এলাকা থেকে মুছা মিয়া (২৯) ও রফিকুল ইসলাম (২৮)-কে গ্রেফতার করে। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৫ এপ্রিল ময়মনসিংহের মাসকান্দা এলাকা থেকে চক্রের মূলহোতা মনির হোসেন (২১)-কে আটক করা হয়। মনিরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তার বাড়ির পাশের বাগান থেকে মাটি খুঁড়ে প্রায় ২৫ ভরি ৯ আনা স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬৪ লাখ টাকা। এছাড়া প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। তদন্তে জানা যায়, চক্রটি ইমু ব্যবহার করে বিভিন্ন এলাকায় ব্যক্তিগত সমস্যা সমাধানের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা চালিয়ে আসছিল। পিবিআই জামালপুরের পুলিশ সুপার বলেন, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে চক্রটির মূল রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। তিনি সাধারণ মানুষকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া বিজ্ঞাপন বা তান্ত্রিকের প্রলোভনে পড়ে যাচাই ছাড়া অর্থ লেনদেন না করার আহ্বান জানান।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন কাজলা ভাঙ্গা প্রেস এলাকায় আর্থিক লেনদেনজনিত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংস ঘটনায় এক কলেজছাত্রী নিহত ও একই পরিবারের আরও তিন সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ভোরে সংঘটিত এ ঘটনায় নিহত দিয়া আক্তার (২০) ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত মৌসুমী আক্তার (৩৫), মুয়াজ (১৫) ও জয়া (১২) বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রাথমিক তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, অভিযুক্ত আবু মুসা নামে এক ব্যক্তি পাওনা অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে ভোরে নবীউল্লাহর বাসায় উপস্থিত হন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হলে তা দ্রুত সহিংসতায় রূপ নেয়। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে এলোপাতাড়ি হামলার ঘটনা ঘটে, যার ফলে পরিবারের একাধিক সদস্য গুরুতরভাবে আহত হন। ঘটনার পর অভিযুক্তকেও আহত অবস্থায় উদ্ধার করে একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট থানায় বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রেক্ষিতে দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত অব্যাহত আছে।
ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় মাদক সেবন ও ব্যবসায় বাধা দেয়ায় সাবেক সেনা মো. শহিদুল সোহেলের ওপর হামলার ঘটনায় পুলিশ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) নুরু বিশ্বাস (৩৫) নামে এক মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে। অভিযান গট্টি ইউনিয়নের রঘুয়ারকান্দী এলাকা থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজে নুরুকে হামলার নেতৃত্ব দিতে দেখা গেছে। ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার মো. মাহমুদুল হাসান জানান, “অভিযান চালিয়ে হামলার মূল হোতা নুরুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।” ঘটনার সময় বুধবার (৮ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সালথা বাজারের জননী সুপার মার্কেটের দোতলায় একটি ক্লিনিকের অফিস কক্ষে শহিদুল সোহেলের ওপর হামলা করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শহিদুলের বড় ভাই বাদী হয়ে সালথা থানায় মামলা করেছেন।