মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রকাশিত অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সর্বশেষ সম্পদ বিবরণীতে দেখা গেছে, এক বছরে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের মোট সম্পদ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, বিপরীতে তাঁর স্ত্রীর সম্পদ কমেছে।
সরকারি হিসাবে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত অধ্যাপক ইউনূসের মোট সম্পদ ছিল ১৪ কোটি ১ লাখ টাকার কিছু বেশি, যা ২০২৫ সালের ৩০ জুনে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ কোটি ৬২ লাখ টাকার বেশি। সঞ্চয়পত্র নগদায়ন, ব্যাংক আমানত বৃদ্ধি এবং উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া শেয়ার থেকে এই সম্পদ বৃদ্ধি হয়েছে বলে বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়। অন্যদিকে একই সময়ে তাঁর স্ত্রী আফরোজী ইউনূসের মোট সম্পদ প্রায় ৮৪ লাখ টাকা কমে এক কোটি ২৭ লাখ টাকায় নেমে এসেছে। অধ্যাপক ইউনূসের কোনো দায় নেই, তবে তাঁর স্ত্রীর নামে প্রায় ১৭ লাখ টাকার দায় রয়েছে।
বিবরণী অনুযায়ী, প্রধান উপদেষ্টার আর্থিক সম্পদ, নন-ফিন্যান্সিয়াল সম্পদ এবং দেশের বাইরে থাকা সম্পদ—সব ক্ষেত্রেই সামান্য থেকে মাঝারি হারে বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। বিপরীতে তাঁর স্ত্রীর আর্থিক সম্পদ উল্লেখযোগ্যভাবে কমলেও স্থাবর সম্পদের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানায়, ২০২৪ সালের আগস্টে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা সব উপদেষ্টার সম্পদ বিবরণী প্রকাশের অঙ্গীকার করেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমান উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের পাশাপাশি তাঁদের স্বামী–স্ত্রীদের সম্পদের হিসাবও প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, অর্থ, পরিকল্পনা, আইন, পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র, শিক্ষা, বাণিজ্যসহ অধিকাংশ উপদেষ্টার সম্পদ গত এক বছরে বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি সম্পদ বৃদ্ধি পেয়েছে গৃহায়ণ ও স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানের, যা উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সম্পদের কারণে হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। অপরদিকে পরিবেশ ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক উপদেষ্টাদের ক্ষেত্রে সম্পদ হ্রাসের তথ্যও উঠে এসেছে।
সব মিলিয়ে, প্রকাশিত সম্পদ বিবরণী অন্তর্বর্তী সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাজধানীকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজায়নের আওতায় আনতে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মের যৌথ উদ্যোগে ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ১৪ মে বৃহস্পতিবার। আগামীকাল সকাল ১০টায় রাজধানীর নগর ভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মোঃ আবদুস সালাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ইশতিয়াক আজিজ উলফাত এবং সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। এছাড়া অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন ড. কে এম আই মন্টিসহ সংগঠনের সিনিয়র নেতারা। অনুষ্ঠান আয়োজকরা জানিয়েছেন, নগর পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিদের উপস্থিত থেকে সংবাদ কাভারেজ প্রদানের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
দেশে হামের সংক্রমণ ও শিশুমৃত্যু বেড়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে টিকা সরবরাহ ও সরকারি ব্যবস্থাপনায় অবহেলার অভিযোগ উঠেছে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে। প্রতিদিনই নতুন মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। মঙ্গলবার (১২ মে) বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান সিনিয়র সাংবাদিক আনিস আলমগীর। তিনি অভিযোগ করেন, হামের কারণে শিশুমৃত্যুর বিষয়টি আড়াল করতে একটি পক্ষ ‘সাফাই’ দিচ্ছে এবং এদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। তিনি সাবেক প্রেসসচিব শফিকুল আলমসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের আহ্বান জানান এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহানের বিচার দাবি করা আন্দোলনের প্রতি ইঙ্গিত করেন। অন্যদিকে, হামের টিকা কেন সংগ্রহ করা হয়নি—তা তদন্তে আন্তর্জাতিক মানের একটি কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলবে, তবে এ মুহূর্তে জরুরি অবস্থা ঘোষণার প্রয়োজন নেই।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা না থাকলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্স বাতিল করা হবে বলে কঠোর সতর্কতা জানিয়েছেন প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। সোমবার (১১ মে) নগর ভবনে বর্জ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, বাসাবাড়ি থেকে মাসিক ১০০ টাকার বেশি বিল আদায় সম্পূর্ণ অনিয়ম এবং এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি নির্ধারিত নিয়মে প্রতিদিনের বর্জ্য প্রতিদিনই অপসারণ না করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির মুখে পড়তে হবে। সভায় আসন্ন ঈদুল আজহা সামনে রেখে বিশেষ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। কোরবানির পর তিন দিনের মধ্যে পুরো নগরী পরিচ্ছন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সব কর্মী ও ঠিকাদারদের মাঠে থাকতে হবে বলেও জানানো হয়। কোনো এলাকায় বর্জ্য জমে থাকলে তা প্রশাসনিক ব্যর্থতা হিসেবে গণ্য করা হবে। ডিএসসিসি প্রশাসক আরও বলেন, রাস্তা, ড্রেন বা খালে ময়লা ফেলা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে সেবা নয়, বরং নাগরিক দায়িত্ব হিসেবে কঠোরভাবে বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন।