তারাবি নামাজ পড়তে যাওয়ার পথে হাতুড়িপেটা করে মোস্তফা কামাল নামে এক কৃষককে হত্যা করা হয়েছে।
নিহত মোস্তফা কামাল (৪৫) মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার কাজিরহাট থানার ধর্মগঞ্জ গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে মেহেন্দিগঞ্জের কাজিরহাট থানার ওসি মো. নবীউল হাসান জানান, হত্যাকাণ্ডের পর পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে বৃহস্পতিবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
এর আগে বুধবার দিবাগত গভীর রাতে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোস্তফা কামালের মৃত্যু হয়েছে।
নিহতের স্ত্রী আঁখি বেগম জানান, দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে নিহত মোস্তফা কামালের সাথে প্রতিপক্ষ সিদ্দিকুর রহমান, শাহাবুদ্দিন হাওলাদার ও নাসির হাওলাদারদের বিরোধ চলে আসছিল।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাত আটটার দিকে তারাবি নামাজ আদায়ের জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে পার্শ্ববর্তী বাজারের মসজিদের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন মোস্তফা কামাল।
এসময় মাঠে ওঁৎ পেতে থাকা প্রতিপক্ষরা তার ওপর অতর্কিত হামলা করে। একপর্যায় হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে মাথা এবং হাতসহ তার শরীরের বিভিন্ন অংশ ভেঙে দেয়।
মুমূর্ষু অবস্থায় রাতেই মোস্তফা কামালকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা রাত একটার দিকে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
কাজিরহাট থানার ওসি মো. নবীউল হাসান জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৪ জনকে নামধারী এবং সাতজন অজ্ঞাতসহ মোট ২১ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন নিহতের স্ত্রী আঁখি বেগম।
ওই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নান্নু রাঢ়ী, কাশেম রাঢ়ী, জসিম খান, মিন্টু হাওলাদার ও সিয়াম হাওলাদারকে ঘটনার রাতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শেরপুরের নকলা উপজেলায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) উপজেলার গনপদ্দী ইউনিয়নের খারজান এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। গ্রেফতার ব্যক্তি মো. হাকিম মিয়া (৩৮)। তিনি খারজান এলাকার মৃত আবদুল্লাহ মিয়ার ছেলে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নকলা থানা পুলিশের একটি দল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় হাকিম মিয়ার কাছ থেকে ৬৭৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে হেফাজতে নিয়ে থানায় আনা হয়। নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিপন চন্দ্র গোপ জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি মাদক নির্মূলে পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
রায়পুরায় পৃথক অভিযানে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা ও ইয়াবাসহ তিন কারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (১১ মে) রাত থেকে মঙ্গলবার (১২ মে) পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব মাদক উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন কিশোরগঞ্জের ভৈরবের আলামিন, হবিগঞ্জের মাধবপুরের আব্দুল আজিজ এবং রায়পুরার জুয়েল মিয়া। তাদের কাছ থেকে মোট ৩৫ কেজি গাঁজা ও ১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রতনপুর বাজার, মাহমুদাবাদ এলাকা এবং চরসুবুদ্ধি ইউনিয়নের পৃথক স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে একজনকে ৩০ কেজি গাঁজাসহ, আরেকজনকে ৫ কেজি গাঁজাসহ এবং অপরজনকে ইয়াবাসহ আটক করা হয়। রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান জানান, জেলা পুলিশের নির্দেশনায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে ১৪ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে ঘুরতে নিয়ে গিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে দুই তরুণের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। ঘটনায় একজনকে আটক করেছে পুলিশ, অপর আসামি পলাতক রয়েছে। শনিবার (৯ মে) রাতে ওই কিশোরীকে স্থানীয় দুই তরুণ—নাহিদুল ইসলাম এবং রায়হান শেখ—বেড়ানোর কথা বলে নিয়ে যান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয়দের সহায়তায় মোটরসাইকেলসহ নাহিদুল ইসলামকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। তিনি বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। অপর আসামি রায়হান শেখ পলাতক। ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ঘটনার পর বিষয়টি গোপন রাখতে চাপ প্রয়োগ করা হলেও পরে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। গোয়ালন্দ ঘাট থানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম জানান,কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে এলাকাবাসী মোটরসাইকেলসহ তরুণকে আটক করে পুলিশে দেন। কিশোরীর মা বাদী হয়ে রায়হান ও তাঁর বন্ধু নাহিদুলের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। কিশোরীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আজ সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে। এ ঘটনার প্রধান আসামি রায়হানকে ধরতে পুলিশ কাজ করছে।