প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নগরীর সকল সড়কে নিজের ছবি ব্যবহার করে টানানো ডিজিটাল বিলবোর্ড ও ব্যানার অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন। কর্মকর্তারা জানান, মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে গুলশান থেকে বের হওয়ার সময় হাতিরঝিল সংলগ্ন পুলিশ প্লাজার সামনে নিজের ছবি সংবলিত ব্যানার দেখে প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিক বিরক্তি প্রকাশ করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে তা সরানোর নির্দেশ দেন।
তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, কোনো ব্যক্তি বা সংস্থা যেন ব্যক্তিগত স্বার্থে বা অভিনন্দনের জন্য সরকারি বা নগর অঞ্চলে তার ছবি ব্যবহার না করে। এর আগে বিজয় সরণি এলাকা দিয়ে যাত্রার সময় একটি এলইডি স্ক্রিনে প্রদর্শিত অভিনন্দন বার্তা বন্ধ করার নির্দেশ দেন।
সেই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী কোস্টগার্ড ও প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা জোরদার, জলদস্যুতা রোধ, মানবপাচার ও অবৈধ চোরাচালান বন্ধের জন্য নিয়মিত টহল চালাতে। এছাড়া দেশের মৎস্য সম্পদ রক্ষা ও জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার বাড়ানোর কথাও বলেছেন।
রাজধানীর যানজট পরিস্থিতি নিয়েও তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। প্রটোকল বা রাস্তা বন্ধ না করে সাধারণ ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলার ফলে গত ১৪ দিনে রাজধানীর গড় গতিবেগ ৪.৫ কিমি/ঘন্টা থেকে বেড়ে ৫.৩ কিমি/ঘন্টা হয়েছে। একই সময়ে প্রধানমন্ত্রীর বাজার পর্যবেক্ষণের কারণে মোটা চালের দাম নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি রোধে প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।
রাজধানীকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজায়নের আওতায় আনতে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মের যৌথ উদ্যোগে ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ১৪ মে বৃহস্পতিবার। আগামীকাল সকাল ১০টায় রাজধানীর নগর ভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মোঃ আবদুস সালাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ইশতিয়াক আজিজ উলফাত এবং সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। এছাড়া অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন ড. কে এম আই মন্টিসহ সংগঠনের সিনিয়র নেতারা। অনুষ্ঠান আয়োজকরা জানিয়েছেন, নগর পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিদের উপস্থিত থেকে সংবাদ কাভারেজ প্রদানের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
দেশে হামের সংক্রমণ ও শিশুমৃত্যু বেড়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে টিকা সরবরাহ ও সরকারি ব্যবস্থাপনায় অবহেলার অভিযোগ উঠেছে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে। প্রতিদিনই নতুন মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। মঙ্গলবার (১২ মে) বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান সিনিয়র সাংবাদিক আনিস আলমগীর। তিনি অভিযোগ করেন, হামের কারণে শিশুমৃত্যুর বিষয়টি আড়াল করতে একটি পক্ষ ‘সাফাই’ দিচ্ছে এবং এদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। তিনি সাবেক প্রেসসচিব শফিকুল আলমসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের আহ্বান জানান এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহানের বিচার দাবি করা আন্দোলনের প্রতি ইঙ্গিত করেন। অন্যদিকে, হামের টিকা কেন সংগ্রহ করা হয়নি—তা তদন্তে আন্তর্জাতিক মানের একটি কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলবে, তবে এ মুহূর্তে জরুরি অবস্থা ঘোষণার প্রয়োজন নেই।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা না থাকলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্স বাতিল করা হবে বলে কঠোর সতর্কতা জানিয়েছেন প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। সোমবার (১১ মে) নগর ভবনে বর্জ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, বাসাবাড়ি থেকে মাসিক ১০০ টাকার বেশি বিল আদায় সম্পূর্ণ অনিয়ম এবং এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি নির্ধারিত নিয়মে প্রতিদিনের বর্জ্য প্রতিদিনই অপসারণ না করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির মুখে পড়তে হবে। সভায় আসন্ন ঈদুল আজহা সামনে রেখে বিশেষ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। কোরবানির পর তিন দিনের মধ্যে পুরো নগরী পরিচ্ছন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সব কর্মী ও ঠিকাদারদের মাঠে থাকতে হবে বলেও জানানো হয়। কোনো এলাকায় বর্জ্য জমে থাকলে তা প্রশাসনিক ব্যর্থতা হিসেবে গণ্য করা হবে। ডিএসসিসি প্রশাসক আরও বলেন, রাস্তা, ড্রেন বা খালে ময়লা ফেলা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে সেবা নয়, বরং নাগরিক দায়িত্ব হিসেবে কঠোরভাবে বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন।