আগামী ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রথম দিন থেকেই সরকারের নীতি ও কার্যক্রম নিয়ে সংসদে সরব হওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, নির্বাচনী অনিয়ম, জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটসহ জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট নানা ইস্যুতে সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে চায় তারা।
বিরোধী দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজপথের আন্দোলনের পরিবর্তে সংসদীয় কার্যক্রমের মাধ্যমেই সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলা হবে। এ লক্ষ্যে দলের সংসদ সদস্যদের জন্য ইতোমধ্যে ওরিয়েন্টেশন ও প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে সংসদীয় বিধি-বিধান, বিল ও বাজেট প্রক্রিয়া এবং বিরোধী দলের কৌশলগত ভূমিকা নিয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
দলটির নেতারা জানিয়েছেন, সরকারের যে কোনো ইতিবাচক উদ্যোগে তারা সমর্থন জানাবেন। তবে জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত বা নীতিগত অসংগতি দেখা দিলে সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে এবং প্রয়োজন হলে বিরোধী দলের সাংবিধানিক ভূমিকা পালন করা হবে।
অন্যদিকে সরকারি দলও সংসদে সম্ভাব্য সমালোচনা মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানা গেছে। সংসদ সদস্যদের তথ্যভিত্তিক বক্তব্য উপস্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং সংসদীয় রীতি অনুসরণ করে সব প্রশ্নের জবাব দিতে মন্ত্রিসভা ও সংসদ নেতৃত্ব প্রস্তুত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আগামী ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেছেন। সেদিন বেলা ১১টায় অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। প্রথম বৈঠকে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন, শোক প্রস্তাব গ্রহণ এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণসহ সংসদীয় আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সংসদের সূচনা থেকেই সরকার ও বিরোধী দলের সক্রিয় অবস্থানের কারণে অধিবেশনটি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ ও প্রাণবন্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজধানীকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজায়নের আওতায় আনতে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মের যৌথ উদ্যোগে ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ১৪ মে বৃহস্পতিবার। আগামীকাল সকাল ১০টায় রাজধানীর নগর ভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মোঃ আবদুস সালাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ইশতিয়াক আজিজ উলফাত এবং সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। এছাড়া অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন ড. কে এম আই মন্টিসহ সংগঠনের সিনিয়র নেতারা। অনুষ্ঠান আয়োজকরা জানিয়েছেন, নগর পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিদের উপস্থিত থেকে সংবাদ কাভারেজ প্রদানের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
দেশে হামের সংক্রমণ ও শিশুমৃত্যু বেড়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে টিকা সরবরাহ ও সরকারি ব্যবস্থাপনায় অবহেলার অভিযোগ উঠেছে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে। প্রতিদিনই নতুন মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। মঙ্গলবার (১২ মে) বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান সিনিয়র সাংবাদিক আনিস আলমগীর। তিনি অভিযোগ করেন, হামের কারণে শিশুমৃত্যুর বিষয়টি আড়াল করতে একটি পক্ষ ‘সাফাই’ দিচ্ছে এবং এদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। তিনি সাবেক প্রেসসচিব শফিকুল আলমসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের আহ্বান জানান এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহানের বিচার দাবি করা আন্দোলনের প্রতি ইঙ্গিত করেন। অন্যদিকে, হামের টিকা কেন সংগ্রহ করা হয়নি—তা তদন্তে আন্তর্জাতিক মানের একটি কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলবে, তবে এ মুহূর্তে জরুরি অবস্থা ঘোষণার প্রয়োজন নেই।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা না থাকলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্স বাতিল করা হবে বলে কঠোর সতর্কতা জানিয়েছেন প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। সোমবার (১১ মে) নগর ভবনে বর্জ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, বাসাবাড়ি থেকে মাসিক ১০০ টাকার বেশি বিল আদায় সম্পূর্ণ অনিয়ম এবং এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি নির্ধারিত নিয়মে প্রতিদিনের বর্জ্য প্রতিদিনই অপসারণ না করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির মুখে পড়তে হবে। সভায় আসন্ন ঈদুল আজহা সামনে রেখে বিশেষ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। কোরবানির পর তিন দিনের মধ্যে পুরো নগরী পরিচ্ছন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সব কর্মী ও ঠিকাদারদের মাঠে থাকতে হবে বলেও জানানো হয়। কোনো এলাকায় বর্জ্য জমে থাকলে তা প্রশাসনিক ব্যর্থতা হিসেবে গণ্য করা হবে। ডিএসসিসি প্রশাসক আরও বলেন, রাস্তা, ড্রেন বা খালে ময়লা ফেলা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে সেবা নয়, বরং নাগরিক দায়িত্ব হিসেবে কঠোরভাবে বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন।