বরিশালের বাবুগঞ্জে আলোচিত রাইসা মনি হত্যা মামলার অভিযুক্ত পিতা-পুত্র অবশেষে থানায় আত্মসমর্পণ করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ভোর আনুমানিক ৬টার দিকে তারা বাবুগঞ্জ থানায় হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করেন।
জানা গেছে, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত বাবা জালাল শিকদার (৪৫) ও তার ছেলে সিফাত শিকদার (১৫) পলাতক ছিলেন। তারা পার্শ্ববর্তী উজিরপুর উপজেলায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন। সেখান থেকেই তারা বাবুগঞ্জ উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ রিয়াজ হোসেনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন। এ সময় তারা দাবি করেন, তারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন এবং স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করতে চান।
পরবর্তীতে রিয়াজ হোসেনের হস্তক্ষেপে এবং তার মাধ্যমে যোগাযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ভোরে তারা বাবুগঞ্জ থানায় এসে আত্মসমর্পণ করেন।
বাবুগঞ্জ থানা সূত্রে জানা গেছে, আত্মসমর্পণের পর তাদেরকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এদিকে যুবদলের ওই নেতা জানান, রাইসা আক্তারের ঘরে একটি চিরকুট পাওয়া গেছে, যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে—বাবার সঙ্গে অভিমান করে সে নিজেই গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ১৪ মার্চ ২০২৬ বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের উত্তর রাকুদিয়া গ্রামে অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ১০ বছর বয়সী কিশোরী রাইসা আক্তারকে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫ মার্চ তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় ১৭ মার্চ নিহতের বাবা নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে বাবুগঞ্জ থানায় পিতা জালাল শিকদার ও ছেলে সিফাত শিকদারকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়।
এ বিষয়ে বাবুগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মোহাম্মদ এহতেশামুল ইসলাম সাংবাদিকদের আত্মসমর্পণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, যাচাই-বাছাই শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়াও উদ্ধার হওয়া চিরকুটের বিষয়ে তিনি বলেন, এর সত্যতা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
শেরপুরের নকলা উপজেলায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) উপজেলার গনপদ্দী ইউনিয়নের খারজান এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। গ্রেফতার ব্যক্তি মো. হাকিম মিয়া (৩৮)। তিনি খারজান এলাকার মৃত আবদুল্লাহ মিয়ার ছেলে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নকলা থানা পুলিশের একটি দল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় হাকিম মিয়ার কাছ থেকে ৬৭৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে হেফাজতে নিয়ে থানায় আনা হয়। নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিপন চন্দ্র গোপ জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি মাদক নির্মূলে পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
রায়পুরায় পৃথক অভিযানে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা ও ইয়াবাসহ তিন কারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (১১ মে) রাত থেকে মঙ্গলবার (১২ মে) পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব মাদক উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন কিশোরগঞ্জের ভৈরবের আলামিন, হবিগঞ্জের মাধবপুরের আব্দুল আজিজ এবং রায়পুরার জুয়েল মিয়া। তাদের কাছ থেকে মোট ৩৫ কেজি গাঁজা ও ১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রতনপুর বাজার, মাহমুদাবাদ এলাকা এবং চরসুবুদ্ধি ইউনিয়নের পৃথক স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে একজনকে ৩০ কেজি গাঁজাসহ, আরেকজনকে ৫ কেজি গাঁজাসহ এবং অপরজনকে ইয়াবাসহ আটক করা হয়। রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান জানান, জেলা পুলিশের নির্দেশনায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে ১৪ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে ঘুরতে নিয়ে গিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে দুই তরুণের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। ঘটনায় একজনকে আটক করেছে পুলিশ, অপর আসামি পলাতক রয়েছে। শনিবার (৯ মে) রাতে ওই কিশোরীকে স্থানীয় দুই তরুণ—নাহিদুল ইসলাম এবং রায়হান শেখ—বেড়ানোর কথা বলে নিয়ে যান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয়দের সহায়তায় মোটরসাইকেলসহ নাহিদুল ইসলামকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। তিনি বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। অপর আসামি রায়হান শেখ পলাতক। ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ঘটনার পর বিষয়টি গোপন রাখতে চাপ প্রয়োগ করা হলেও পরে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। গোয়ালন্দ ঘাট থানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম জানান,কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে এলাকাবাসী মোটরসাইকেলসহ তরুণকে আটক করে পুলিশে দেন। কিশোরীর মা বাদী হয়ে রায়হান ও তাঁর বন্ধু নাহিদুলের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। কিশোরীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আজ সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে। এ ঘটনার প্রধান আসামি রায়হানকে ধরতে পুলিশ কাজ করছে।