হাদি হত্যা মামলার তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদকে ঘিরে ‘লোকেশন বিভ্রান্তি’ সংক্রান্ত প্রশ্ন। ভারতে অবস্থান করেই দুবাইয়ে থাকার ভান করে ভিডিও তৈরি করা হয়েছিল কি না—এমন প্রশ্নে আদালত প্রাঙ্গণে নীরব থাকেন তিনি।
রোববার (২২ মার্চ) পশ্চিমবঙ্গের বিধাননগর আদালতে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে হাজির করা হলে আদালত তাদের ১৪ দিনের পুলিশ রিমান্ড শেষে জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে আদালত জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ)-কে কারাগারে থেকেই জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি প্রদান করেন।
আদালতে তোলার আগে নিয়ম অনুযায়ী অভিযুক্তদের শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে আদালতে হাজির করা হয়।
তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়, রিমান্ড চলাকালে জিজ্ঞাসাবাদে সীমান্ত অতিক্রম, আত্মগোপনের স্থান এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ঘটনাটির সঙ্গে একটি বৃহৎ সংগঠিত নেটওয়ার্ক জড়িত থাকার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে উল্লেখ করা হয়।
আদালত চত্বরে সাংবাদিকদের একাধিক প্রশ্নের মুখে ফয়সাল ও আলমগীর নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন এবং তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ বলে উল্লেখ করেন। তবে পালিয়ে যাওয়ার কারণ কিংবা দুবাই-সংক্রান্ত ভিডিও তৈরির বিষয়ে সরাসরি প্রশ্ন করা হলে ফয়সাল কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।
উল্লেখ্য, গত ৮ মার্চ পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ সীমান্ত এলাকা থেকে বিশেষ টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) এই দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে আদালত তাদের পুলিশ রিমান্ডে পাঠায়, যেখানে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও পলায়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য উদঘাটনের দাবি করে তদন্তকারীরা।
মামলার প্রেক্ষাপটে জানা যায়, গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পুরানা পল্টন এলাকায় নির্বাচনি প্রচারণাকালে সশস্ত্র হামলায় গুরুতর আহত হন শরিফ ওসমান হাদি। পরবর্তীতে বিদেশে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হলে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়।
বর্তমানে তদন্ত সংস্থা ঘটনাটিকে আন্তঃসীমান্ত অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে গভীর অনুসন্ধান চালাচ্ছে। কারা এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছে এবং এতে আর কারা জড়িত—তা নিরূপণে আইনানুগ প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
রাজধানীকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজায়নের আওতায় আনতে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মের যৌথ উদ্যোগে ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ১৪ মে বৃহস্পতিবার। আগামীকাল সকাল ১০টায় রাজধানীর নগর ভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মোঃ আবদুস সালাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ইশতিয়াক আজিজ উলফাত এবং সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। এছাড়া অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন ড. কে এম আই মন্টিসহ সংগঠনের সিনিয়র নেতারা। অনুষ্ঠান আয়োজকরা জানিয়েছেন, নগর পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিদের উপস্থিত থেকে সংবাদ কাভারেজ প্রদানের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
দেশে হামের সংক্রমণ ও শিশুমৃত্যু বেড়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে টিকা সরবরাহ ও সরকারি ব্যবস্থাপনায় অবহেলার অভিযোগ উঠেছে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে। প্রতিদিনই নতুন মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। মঙ্গলবার (১২ মে) বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান সিনিয়র সাংবাদিক আনিস আলমগীর। তিনি অভিযোগ করেন, হামের কারণে শিশুমৃত্যুর বিষয়টি আড়াল করতে একটি পক্ষ ‘সাফাই’ দিচ্ছে এবং এদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। তিনি সাবেক প্রেসসচিব শফিকুল আলমসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের আহ্বান জানান এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহানের বিচার দাবি করা আন্দোলনের প্রতি ইঙ্গিত করেন। অন্যদিকে, হামের টিকা কেন সংগ্রহ করা হয়নি—তা তদন্তে আন্তর্জাতিক মানের একটি কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলবে, তবে এ মুহূর্তে জরুরি অবস্থা ঘোষণার প্রয়োজন নেই।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা না থাকলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্স বাতিল করা হবে বলে কঠোর সতর্কতা জানিয়েছেন প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। সোমবার (১১ মে) নগর ভবনে বর্জ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, বাসাবাড়ি থেকে মাসিক ১০০ টাকার বেশি বিল আদায় সম্পূর্ণ অনিয়ম এবং এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি নির্ধারিত নিয়মে প্রতিদিনের বর্জ্য প্রতিদিনই অপসারণ না করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির মুখে পড়তে হবে। সভায় আসন্ন ঈদুল আজহা সামনে রেখে বিশেষ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। কোরবানির পর তিন দিনের মধ্যে পুরো নগরী পরিচ্ছন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সব কর্মী ও ঠিকাদারদের মাঠে থাকতে হবে বলেও জানানো হয়। কোনো এলাকায় বর্জ্য জমে থাকলে তা প্রশাসনিক ব্যর্থতা হিসেবে গণ্য করা হবে। ডিএসসিসি প্রশাসক আরও বলেন, রাস্তা, ড্রেন বা খালে ময়লা ফেলা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে সেবা নয়, বরং নাগরিক দায়িত্ব হিসেবে কঠোরভাবে বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন।