জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কঠোর বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থান চলাকালে আন্দোলনকারী ও সাধারণ নাগরিকদের ওপর যারা সশস্ত্র হামলায় জড়িত ছিল, তারা যে পরিচয় বা বাহিনীর পোশাকেই থাকুক না কেন—আইনের দৃষ্টিতে সবাই অপরাধী। তিনি বলেন, এসব ঘটনায় দায়েরকৃত মামলাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন হবে এবং বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে স্বাধীনভাবে পরিচালিত হবে।
সোমবার (৩০ মার্চ) সংসদে বিভিন্ন সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে এবং কিছু মামলায় তদন্ত ও অভিযোগপত্র দাখিলের কাজ চলমান। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালসহ সংশ্লিষ্ট আদালতে বিচারিক কার্যক্রম চলছে এবং সরকার এতে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না।
জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা প্রদানে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে, যা সংসদে আইন হিসেবে পাসের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
এছাড়া অতীতের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও গায়েবি মামলাগুলো পুনর্বিবেচনার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। জানান, জেলা পর্যায়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই শেষে আইনগত বিধান অনুযায়ী মামলা প্রত্যাহারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
‘মব কালচার’ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দেশে কোনো ধরনের গণপিটুনি বা বিশৃঙ্খল জনতাভিত্তিক সহিংসতা সহ্য করা হবে না। জনস্বার্থে দাবি-দাওয়া জানাতে গণতান্ত্রিক পদ্ধতি অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি মহাসড়ক অবরোধসহ বিশৃঙ্খল কর্মকাণ্ড বন্ধে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেন।
পুলিশ প্রশাসনের জবাবদিহিতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশ্নে তিনি স্বীকার করেন, প্রয়োজনীয় বাজেট ও সম্পদের ঘাটতি রয়েছে। তবে দুর্নীতিমুক্ত ও পেশাদার পুলিশ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি।
রাজধানীকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজায়নের আওতায় আনতে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মের যৌথ উদ্যোগে ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ১৪ মে বৃহস্পতিবার। আগামীকাল সকাল ১০টায় রাজধানীর নগর ভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মোঃ আবদুস সালাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ইশতিয়াক আজিজ উলফাত এবং সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। এছাড়া অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন ড. কে এম আই মন্টিসহ সংগঠনের সিনিয়র নেতারা। অনুষ্ঠান আয়োজকরা জানিয়েছেন, নগর পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিদের উপস্থিত থেকে সংবাদ কাভারেজ প্রদানের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
দেশে হামের সংক্রমণ ও শিশুমৃত্যু বেড়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে টিকা সরবরাহ ও সরকারি ব্যবস্থাপনায় অবহেলার অভিযোগ উঠেছে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে। প্রতিদিনই নতুন মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। মঙ্গলবার (১২ মে) বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান সিনিয়র সাংবাদিক আনিস আলমগীর। তিনি অভিযোগ করেন, হামের কারণে শিশুমৃত্যুর বিষয়টি আড়াল করতে একটি পক্ষ ‘সাফাই’ দিচ্ছে এবং এদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। তিনি সাবেক প্রেসসচিব শফিকুল আলমসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের আহ্বান জানান এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহানের বিচার দাবি করা আন্দোলনের প্রতি ইঙ্গিত করেন। অন্যদিকে, হামের টিকা কেন সংগ্রহ করা হয়নি—তা তদন্তে আন্তর্জাতিক মানের একটি কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলবে, তবে এ মুহূর্তে জরুরি অবস্থা ঘোষণার প্রয়োজন নেই।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা না থাকলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্স বাতিল করা হবে বলে কঠোর সতর্কতা জানিয়েছেন প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। সোমবার (১১ মে) নগর ভবনে বর্জ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, বাসাবাড়ি থেকে মাসিক ১০০ টাকার বেশি বিল আদায় সম্পূর্ণ অনিয়ম এবং এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি নির্ধারিত নিয়মে প্রতিদিনের বর্জ্য প্রতিদিনই অপসারণ না করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির মুখে পড়তে হবে। সভায় আসন্ন ঈদুল আজহা সামনে রেখে বিশেষ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। কোরবানির পর তিন দিনের মধ্যে পুরো নগরী পরিচ্ছন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সব কর্মী ও ঠিকাদারদের মাঠে থাকতে হবে বলেও জানানো হয়। কোনো এলাকায় বর্জ্য জমে থাকলে তা প্রশাসনিক ব্যর্থতা হিসেবে গণ্য করা হবে। ডিএসসিসি প্রশাসক আরও বলেন, রাস্তা, ড্রেন বা খালে ময়লা ফেলা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে সেবা নয়, বরং নাগরিক দায়িত্ব হিসেবে কঠোরভাবে বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন।