দেশে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটের প্রেক্ষাপটে ব্যক্তিগত গাড়ির মালিকদের মধ্যে বিকল্প জ্বালানিতে রূপান্তরের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষত সিএনজি ও এলপিজি কনভারশন এখন ব্যয় সাশ্রয়ের কার্যকর উপায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে পরিচালন খরচ ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে আসছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে এলপিজি (লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস) ব্যবহার দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, ইঞ্জিনের দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা, হালকা সিলিন্ডার, সহজলভ্যতা এবং অপেক্ষাকৃত স্বাচ্ছন্দ্যময় ড্রাইভিং অভিজ্ঞতার কারণে গ্রাহকদের একটি বড় অংশ সিএনজির পরিবর্তে এলপিজির দিকে ঝুঁকছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে ৭০ শতাংশের বেশি ব্যবহারকারী এলপিজিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, যেখানে প্রতি লিটার অকটেনের দাম প্রায় ১২০ টাকা, সেখানে সমপরিমাণ এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে প্রায় অর্ধেক মূল্যে। ফলে দৈনিক দীর্ঘ দূরত্বে চলাচলকারী গাড়ির ক্ষেত্রে এই রূপান্তর আর্থিকভাবে লাভজনক হিসেবে প্রতীয়মান হচ্ছে।
রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় বেসরকারি ও অনুমোদিত ওয়ার্কশপগুলোতে এই কনভারশন সেবা প্রদান করা হচ্ছে। এলপিজি কনভারশনে ব্যয় ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত এবং সিএনজির ক্ষেত্রে ৭০ হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ। সরকারি সংস্থার মাধ্যমে তুলনামূলক কম খরচে এই সেবা পাওয়া গেলেও নিরাপত্তা মান বজায় রাখা বাধ্যতামূলক।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, মানহীন যন্ত্রাংশ ব্যবহার বা অননুমোদিত স্থাপনায় কনভারশন করলে তা আইনগত দায় ও নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ ক্ষেত্রে অনুমোদিত কেন্দ্র ও মানসম্মত সরঞ্জাম ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
রাজধানীকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজায়নের আওতায় আনতে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মের যৌথ উদ্যোগে ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ১৪ মে বৃহস্পতিবার। আগামীকাল সকাল ১০টায় রাজধানীর নগর ভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মোঃ আবদুস সালাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ইশতিয়াক আজিজ উলফাত এবং সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। এছাড়া অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন ড. কে এম আই মন্টিসহ সংগঠনের সিনিয়র নেতারা। অনুষ্ঠান আয়োজকরা জানিয়েছেন, নগর পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিদের উপস্থিত থেকে সংবাদ কাভারেজ প্রদানের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
দেশে হামের সংক্রমণ ও শিশুমৃত্যু বেড়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে টিকা সরবরাহ ও সরকারি ব্যবস্থাপনায় অবহেলার অভিযোগ উঠেছে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে। প্রতিদিনই নতুন মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। মঙ্গলবার (১২ মে) বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান সিনিয়র সাংবাদিক আনিস আলমগীর। তিনি অভিযোগ করেন, হামের কারণে শিশুমৃত্যুর বিষয়টি আড়াল করতে একটি পক্ষ ‘সাফাই’ দিচ্ছে এবং এদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। তিনি সাবেক প্রেসসচিব শফিকুল আলমসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের আহ্বান জানান এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহানের বিচার দাবি করা আন্দোলনের প্রতি ইঙ্গিত করেন। অন্যদিকে, হামের টিকা কেন সংগ্রহ করা হয়নি—তা তদন্তে আন্তর্জাতিক মানের একটি কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলবে, তবে এ মুহূর্তে জরুরি অবস্থা ঘোষণার প্রয়োজন নেই।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা না থাকলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্স বাতিল করা হবে বলে কঠোর সতর্কতা জানিয়েছেন প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। সোমবার (১১ মে) নগর ভবনে বর্জ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, বাসাবাড়ি থেকে মাসিক ১০০ টাকার বেশি বিল আদায় সম্পূর্ণ অনিয়ম এবং এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি নির্ধারিত নিয়মে প্রতিদিনের বর্জ্য প্রতিদিনই অপসারণ না করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির মুখে পড়তে হবে। সভায় আসন্ন ঈদুল আজহা সামনে রেখে বিশেষ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। কোরবানির পর তিন দিনের মধ্যে পুরো নগরী পরিচ্ছন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সব কর্মী ও ঠিকাদারদের মাঠে থাকতে হবে বলেও জানানো হয়। কোনো এলাকায় বর্জ্য জমে থাকলে তা প্রশাসনিক ব্যর্থতা হিসেবে গণ্য করা হবে। ডিএসসিসি প্রশাসক আরও বলেন, রাস্তা, ড্রেন বা খালে ময়লা ফেলা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে সেবা নয়, বরং নাগরিক দায়িত্ব হিসেবে কঠোরভাবে বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন।