জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনাকে কেন্দ্র করে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম আন্দোলন-সংগ্রামে বিএনপির নেতৃত্ব ও কৃতিত্বের দাবি তুলে বক্তব্য দিলে বিরোধী দলের সদস্যরা তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানান এবং বক্তব্যের কিছু অংশ কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবি তোলেন।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হলে আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন—১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং সাম্প্রতিক জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলনের ‘ফলাফল’ বিএনপির রাজনৈতিক অর্জনের অংশ হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত। তিনি দাবি করেন, এসব আন্দোলনের ‘ট্রফি’ একমাত্র বিএনপির কাছেই রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় যে পরিবর্তন এসেছে, তা বিএনপির নেতৃত্বের প্রতিফলন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান বিদেশে গিয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনী সময়সূচি নির্ধারণ করেছেন—যা রাজনৈতিক নেতৃত্বের বাস্তব প্রতিফলন নির্দেশ করে।
এ বক্তব্যের সময় বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা একাধিকবার আপত্তি জানিয়ে হট্টগোল সৃষ্টি করেন। বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের কিছু অংশকে ‘তথ্যগতভাবে অসত্য’ আখ্যা দিয়ে তা সংসদের কার্যবিবরণী (এক্সপাঞ্জ) থেকে বাদ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক দাবি জানান।
স্পিকার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বলেন, কার্যপ্রণালি অনুযায়ী বক্তব্য পর্যালোচনা করে অসংসদীয় বা অসত্য তথ্য পাওয়া গেলে তা কার্যবিবরণী থেকে অপসারণ করা হবে।
বিতর্কের এক পর্যায়ে প্রতিমন্ত্রী ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি মন্তব্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়। স্পিকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে সংসদ সদস্যদের শালীনতা বজায় রাখার আহ্বান জানান এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে মতবিনিময়ের সুযোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন।
পরবর্তী পর্যায়ে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বক্তব্য প্রদানকালে শফিকুর রহমান বলেন, তাঁদের দল গঠনমূলক বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে; তবে জনস্বার্থবিরোধী বা অসত্য বক্তব্যের বিরুদ্ধে সংসদীয় বিধি অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।
সংসদীয় কার্যপ্রণালি অনুযায়ী, আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে মতপার্থক্য থাকলেও তা যুক্তিতর্কের মাধ্যমে উপস্থাপন করার সুযোগ রয়েছে। এ লক্ষ্যে স্পিকার সংসদ সদস্যদের সংযত থেকে বক্তব্য প্রদানের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন।
রাজধানীকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজায়নের আওতায় আনতে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মের যৌথ উদ্যোগে ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ১৪ মে বৃহস্পতিবার। আগামীকাল সকাল ১০টায় রাজধানীর নগর ভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মোঃ আবদুস সালাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ইশতিয়াক আজিজ উলফাত এবং সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। এছাড়া অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন ড. কে এম আই মন্টিসহ সংগঠনের সিনিয়র নেতারা। অনুষ্ঠান আয়োজকরা জানিয়েছেন, নগর পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিদের উপস্থিত থেকে সংবাদ কাভারেজ প্রদানের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
দেশে হামের সংক্রমণ ও শিশুমৃত্যু বেড়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে টিকা সরবরাহ ও সরকারি ব্যবস্থাপনায় অবহেলার অভিযোগ উঠেছে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে। প্রতিদিনই নতুন মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। মঙ্গলবার (১২ মে) বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান সিনিয়র সাংবাদিক আনিস আলমগীর। তিনি অভিযোগ করেন, হামের কারণে শিশুমৃত্যুর বিষয়টি আড়াল করতে একটি পক্ষ ‘সাফাই’ দিচ্ছে এবং এদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। তিনি সাবেক প্রেসসচিব শফিকুল আলমসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের আহ্বান জানান এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহানের বিচার দাবি করা আন্দোলনের প্রতি ইঙ্গিত করেন। অন্যদিকে, হামের টিকা কেন সংগ্রহ করা হয়নি—তা তদন্তে আন্তর্জাতিক মানের একটি কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলবে, তবে এ মুহূর্তে জরুরি অবস্থা ঘোষণার প্রয়োজন নেই।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা না থাকলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্স বাতিল করা হবে বলে কঠোর সতর্কতা জানিয়েছেন প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। সোমবার (১১ মে) নগর ভবনে বর্জ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, বাসাবাড়ি থেকে মাসিক ১০০ টাকার বেশি বিল আদায় সম্পূর্ণ অনিয়ম এবং এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি নির্ধারিত নিয়মে প্রতিদিনের বর্জ্য প্রতিদিনই অপসারণ না করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির মুখে পড়তে হবে। সভায় আসন্ন ঈদুল আজহা সামনে রেখে বিশেষ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। কোরবানির পর তিন দিনের মধ্যে পুরো নগরী পরিচ্ছন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সব কর্মী ও ঠিকাদারদের মাঠে থাকতে হবে বলেও জানানো হয়। কোনো এলাকায় বর্জ্য জমে থাকলে তা প্রশাসনিক ব্যর্থতা হিসেবে গণ্য করা হবে। ডিএসসিসি প্রশাসক আরও বলেন, রাস্তা, ড্রেন বা খালে ময়লা ফেলা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে সেবা নয়, বরং নাগরিক দায়িত্ব হিসেবে কঠোরভাবে বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন।