জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্যদের পদত্যাগের পর নতুন আইনি কাঠামো ও সংসদে পাস হওয়া সংশোধনী ঘিরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিদায়ী চেয়ারম্যান বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীসহ কমিশনাররা।
খোলা চিঠিতে তারা বিষয়টি তিনটি অংশে তুলে ধরেন—সংসদে উপস্থাপিত তথ্যের জবাব, সরকারের প্রকৃত আপত্তি চিহ্নিতকরণ এবং ভবিষ্যৎ আইনের মান নির্ধারণ।
সংসদে উপস্থাপিত তথ্যের জবাব
চিঠিতে বলা হয়, সংসদে গুমের সাজা, তদন্তের সময়সীমা ও জরিমানা সংক্রান্ত বিষয়ে ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, বিদ্যমান অধ্যাদেশে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডসহ কঠোর বিধান রয়েছে এবং তদন্ত ও জরিমানা আদায়ের স্পষ্ট কাঠামো নির্ধারিত ছিল, যা পুনর্বহালকৃত ২০০৯ সালের আইনে অনুপস্থিত।
আইনগত কাঠামো ও আইসিটির প্রসঙ্গ
চিঠিতে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন (আইসিটি) কেবল মানবতাবিরোধী অপরাধে প্রযোজ্য, বিচ্ছিন্ন ফৌজদারি গুমের ক্ষেত্রে নয়। ফলে নতুন করে গুম সংক্রান্ত প্রতিকার সীমিত হয়ে পড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
জুলাই সংশ্লিষ্ট সুরক্ষা ও তদন্ত ক্ষমতা
কমিশনের মতে, নতুন কাঠামোতে মানবাধিকার কমিশনের তদন্ত ক্ষমতা বিশেষ করে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তের ক্ষেত্রে সীমিত করা হয়েছে, যা ভুক্তভোগীদের সুরক্ষায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সরকারের আপত্তি প্রসঙ্গে
চিঠিতে বলা হয়, সরকার কমিশনের স্বাধীনতা সীমিত করার চেষ্টা করছে বলে তারা মনে করেন। বিশেষ করে কমিশনকে মন্ত্রণালয়ের অধীন করা, নিরাপত্তা বাহিনীর তদন্তে পূর্বানুমতির শর্ত এবং বাছাই কমিটিতে নির্বাহী প্রভাব বাড়ানোর বিষয়গুলো তারা উল্লেখ করেন।
ভবিষ্যৎ আইনের মান নির্ধারণ
বিদায়ী কমিশনাররা বলেন, নতুন আইন প্রণয়নে অংশীজনদের পরামর্শ থাকলেও, পূর্বের দুর্বল আইন পুনর্বহাল না করে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর মানবাধিকার সুরক্ষা কাঠামো গঠন করা প্রয়োজন ছিল। একইসঙ্গে গুমকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করার ওপর জোর দেন তারা।
রাজধানীকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজায়নের আওতায় আনতে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মের যৌথ উদ্যোগে ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ১৪ মে বৃহস্পতিবার। আগামীকাল সকাল ১০টায় রাজধানীর নগর ভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মোঃ আবদুস সালাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ইশতিয়াক আজিজ উলফাত এবং সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। এছাড়া অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন ড. কে এম আই মন্টিসহ সংগঠনের সিনিয়র নেতারা। অনুষ্ঠান আয়োজকরা জানিয়েছেন, নগর পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিদের উপস্থিত থেকে সংবাদ কাভারেজ প্রদানের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
দেশে হামের সংক্রমণ ও শিশুমৃত্যু বেড়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে টিকা সরবরাহ ও সরকারি ব্যবস্থাপনায় অবহেলার অভিযোগ উঠেছে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে। প্রতিদিনই নতুন মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। মঙ্গলবার (১২ মে) বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান সিনিয়র সাংবাদিক আনিস আলমগীর। তিনি অভিযোগ করেন, হামের কারণে শিশুমৃত্যুর বিষয়টি আড়াল করতে একটি পক্ষ ‘সাফাই’ দিচ্ছে এবং এদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। তিনি সাবেক প্রেসসচিব শফিকুল আলমসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের আহ্বান জানান এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহানের বিচার দাবি করা আন্দোলনের প্রতি ইঙ্গিত করেন। অন্যদিকে, হামের টিকা কেন সংগ্রহ করা হয়নি—তা তদন্তে আন্তর্জাতিক মানের একটি কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলবে, তবে এ মুহূর্তে জরুরি অবস্থা ঘোষণার প্রয়োজন নেই।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা না থাকলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্স বাতিল করা হবে বলে কঠোর সতর্কতা জানিয়েছেন প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। সোমবার (১১ মে) নগর ভবনে বর্জ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, বাসাবাড়ি থেকে মাসিক ১০০ টাকার বেশি বিল আদায় সম্পূর্ণ অনিয়ম এবং এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি নির্ধারিত নিয়মে প্রতিদিনের বর্জ্য প্রতিদিনই অপসারণ না করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির মুখে পড়তে হবে। সভায় আসন্ন ঈদুল আজহা সামনে রেখে বিশেষ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। কোরবানির পর তিন দিনের মধ্যে পুরো নগরী পরিচ্ছন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সব কর্মী ও ঠিকাদারদের মাঠে থাকতে হবে বলেও জানানো হয়। কোনো এলাকায় বর্জ্য জমে থাকলে তা প্রশাসনিক ব্যর্থতা হিসেবে গণ্য করা হবে। ডিএসসিসি প্রশাসক আরও বলেন, রাস্তা, ড্রেন বা খালে ময়লা ফেলা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে সেবা নয়, বরং নাগরিক দায়িত্ব হিসেবে কঠোরভাবে বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন।