বাগেরহাটের ফকিরহাটে কাঁচামাল ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাত করে টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় দুই ছিনতাইকারীকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ভোরে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের উপজেলার পিলজংগ ইউনিয়নের সুখদাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ছিনতাইকারীদের হামলায় গুরুতর আহত কাঁচামাল ব্যবসায়ী আকবর হোসেন (২৩)কে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি রামপাল উপজেলার শিবনগর এলাকার আ. রাজ্জাকের ছেলে। হামলায় আ. রাজ্জাকও আহত হয়েছেন।
আটককৃতরা হলেন রামপাল উপজেলার ইসলামাবাদ এলাকার মৃত এসকান শেখের ছেলে মিজানুর রহমান শেখ সুমন (৩৬) ও চাকুশ্রী এলাকার ওমর ফারুকের ছেলে মেহেদী হাসান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরে আ. রাজ্জাক ও তার ছেলে আকবর হোসেন ভ্যানযোগে খুলনায় কাঁচামাল আনতে যাচ্ছিলেন। পথে সুখদাড়া এলাকায় পৌঁছালে দুই মোটরসাইকেলে আসা ৩-৪ জনের একটি ছিনতাইকারী দল তাদের গতিরোধ করে। পরে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে টাকা ছিনতাইয়ের চেষ্টা চালায়। বাধা দিলে আকবর হোসেনকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে তার কাছ থেকে প্রায় ৪৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।
ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়ার সময় আকবর হোসেনের বাবা দুই ছিনতাইকারীকে ধরে ফেলেন। এতে তারা মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গেলে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাদের আটক করে এবং গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। তবে অপর সহযোগীরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে একটি ছুরি উদ্ধার করা হলেও ছিনতাই হওয়া টাকা উদ্ধার হয়নি।
আহতের বড় ভাই আলীশাহ শেখ জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
ফকিরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, আটক দুইজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ছিনতাই ও চুরিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
শেরপুরের নকলা উপজেলায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) উপজেলার গনপদ্দী ইউনিয়নের খারজান এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। গ্রেফতার ব্যক্তি মো. হাকিম মিয়া (৩৮)। তিনি খারজান এলাকার মৃত আবদুল্লাহ মিয়ার ছেলে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নকলা থানা পুলিশের একটি দল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় হাকিম মিয়ার কাছ থেকে ৬৭৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে হেফাজতে নিয়ে থানায় আনা হয়। নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিপন চন্দ্র গোপ জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি মাদক নির্মূলে পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
রায়পুরায় পৃথক অভিযানে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা ও ইয়াবাসহ তিন কারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (১১ মে) রাত থেকে মঙ্গলবার (১২ মে) পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব মাদক উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন কিশোরগঞ্জের ভৈরবের আলামিন, হবিগঞ্জের মাধবপুরের আব্দুল আজিজ এবং রায়পুরার জুয়েল মিয়া। তাদের কাছ থেকে মোট ৩৫ কেজি গাঁজা ও ১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রতনপুর বাজার, মাহমুদাবাদ এলাকা এবং চরসুবুদ্ধি ইউনিয়নের পৃথক স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে একজনকে ৩০ কেজি গাঁজাসহ, আরেকজনকে ৫ কেজি গাঁজাসহ এবং অপরজনকে ইয়াবাসহ আটক করা হয়। রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান জানান, জেলা পুলিশের নির্দেশনায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে ১৪ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে ঘুরতে নিয়ে গিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে দুই তরুণের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। ঘটনায় একজনকে আটক করেছে পুলিশ, অপর আসামি পলাতক রয়েছে। শনিবার (৯ মে) রাতে ওই কিশোরীকে স্থানীয় দুই তরুণ—নাহিদুল ইসলাম এবং রায়হান শেখ—বেড়ানোর কথা বলে নিয়ে যান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয়দের সহায়তায় মোটরসাইকেলসহ নাহিদুল ইসলামকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। তিনি বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। অপর আসামি রায়হান শেখ পলাতক। ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ঘটনার পর বিষয়টি গোপন রাখতে চাপ প্রয়োগ করা হলেও পরে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। গোয়ালন্দ ঘাট থানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম জানান,কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে এলাকাবাসী মোটরসাইকেলসহ তরুণকে আটক করে পুলিশে দেন। কিশোরীর মা বাদী হয়ে রায়হান ও তাঁর বন্ধু নাহিদুলের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। কিশোরীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আজ সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে। এ ঘটনার প্রধান আসামি রায়হানকে ধরতে পুলিশ কাজ করছে।