রায়পুরা উপজেলা-এ ১০ বছরের এক কিশোরীকে মাদ্রাসা শিক্ষক কর্তৃক ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে মামলা গ্রহণ ও তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, গত ২৪ এপ্রিল রাতে জান্নাতুল বুশরা বালিকা মাদ্রাসার মুহতামিম হাফেজ মাওলানা জুনায়েদ আহমদের বিরুদ্ধে মাদ্রাসার ভেতরে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর স্থানীয় পর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং মাদ্রাসায় ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
পরবর্তীতে ২৬ এপ্রিল রায়পুরা থানায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন, যেখানে ‘ধর্ষণের চেষ্ট‘ মামলা নেয়া হয়। তবে মামলার ধরণ ও তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়। অনেকে দাবি করেন, ঘটনাটি ধর্ষণ হওয়া সত্ত্বেও “ধর্ষণের চেষ্টা” হিসেবে মামলা নেওয়া হয়েছে।
রফিকুল ইসলাম নামে একজন তার ফেইসবুক আইডিতে লিখেছেন, "মেডিকেল রিপোর্ট বলছে ধর্ষণ, পুলিশ মামলা নিলো ধর্ষণের চেষ্টা", আগামী ১২ ঘন্টার মধ্যে ধর্ষণের মামলা নিবেন এবং আসামি গ্রেপ্তার করবেন। তা না হলে আগামীকাল দুপুর ১২ টায় থানা ঘেরাও দিবে রায়পুরাবাসী। কথা ক্লিয়ার...
ধর্ষণের ঘটনার প্রায় ৫০ ঘন্টা এবং মামলা দায়েরের ২৪ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারে নি পুলিশ।
অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার না করায় স্থানীয়ভাবে ক্ষোভ বাড়ছে। তবে পুলিশ বলছে, প্রাথমিক জবানবন্দি ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী মামলা গ্রহণ করা হয়েছে এবং পরে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য ভুক্তভোগীকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
রায়পুরা থানা-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মুজিবুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, ভিকটিমের জবানবন্দি অনুযায়ী মামলা নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে অভিযোগের ধরন পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে এলে মেডিকেল পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
শেরপুরের নকলা উপজেলায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) উপজেলার গনপদ্দী ইউনিয়নের খারজান এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। গ্রেফতার ব্যক্তি মো. হাকিম মিয়া (৩৮)। তিনি খারজান এলাকার মৃত আবদুল্লাহ মিয়ার ছেলে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নকলা থানা পুলিশের একটি দল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় হাকিম মিয়ার কাছ থেকে ৬৭৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে হেফাজতে নিয়ে থানায় আনা হয়। নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিপন চন্দ্র গোপ জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি মাদক নির্মূলে পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
রায়পুরায় পৃথক অভিযানে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা ও ইয়াবাসহ তিন কারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (১১ মে) রাত থেকে মঙ্গলবার (১২ মে) পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব মাদক উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন কিশোরগঞ্জের ভৈরবের আলামিন, হবিগঞ্জের মাধবপুরের আব্দুল আজিজ এবং রায়পুরার জুয়েল মিয়া। তাদের কাছ থেকে মোট ৩৫ কেজি গাঁজা ও ১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রতনপুর বাজার, মাহমুদাবাদ এলাকা এবং চরসুবুদ্ধি ইউনিয়নের পৃথক স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে একজনকে ৩০ কেজি গাঁজাসহ, আরেকজনকে ৫ কেজি গাঁজাসহ এবং অপরজনকে ইয়াবাসহ আটক করা হয়। রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান জানান, জেলা পুলিশের নির্দেশনায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে ১৪ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে ঘুরতে নিয়ে গিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে দুই তরুণের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। ঘটনায় একজনকে আটক করেছে পুলিশ, অপর আসামি পলাতক রয়েছে। শনিবার (৯ মে) রাতে ওই কিশোরীকে স্থানীয় দুই তরুণ—নাহিদুল ইসলাম এবং রায়হান শেখ—বেড়ানোর কথা বলে নিয়ে যান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয়দের সহায়তায় মোটরসাইকেলসহ নাহিদুল ইসলামকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। তিনি বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। অপর আসামি রায়হান শেখ পলাতক। ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ঘটনার পর বিষয়টি গোপন রাখতে চাপ প্রয়োগ করা হলেও পরে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। গোয়ালন্দ ঘাট থানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম জানান,কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে এলাকাবাসী মোটরসাইকেলসহ তরুণকে আটক করে পুলিশে দেন। কিশোরীর মা বাদী হয়ে রায়হান ও তাঁর বন্ধু নাহিদুলের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। কিশোরীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আজ সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে। এ ঘটনার প্রধান আসামি রায়হানকে ধরতে পুলিশ কাজ করছে।