দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চর আমখাওয়া ইউনিয়নের চর মাদার এলাকায় সড়ক না থাকায় দুই শতাধিক বাসিন্দা দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। এলাকাবাসীর দাবি, একটি কাঁচা বা পাকা সড়ক নির্মাণ এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ৩০ বছর আগে ওই এলাকার মধ্য দিয়ে একটি সড়ক থাকলেও জনবসতি বাড়ার পর সেটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে এবং পরবর্তীতে কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে পুরো মহল্লার অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল হলেও সড়ক না থাকায় কৃষিপণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। এমনকি জরুরি পরিস্থিতিতে রোগী পরিবহন, লাশ বহন এবং দৈনন্দিন যাতায়াতেও চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গলিপথই এখন একমাত্র চলাচলের মাধ্যম। চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আনিছা জানায়, জন্মের পর থেকে এলাকায় কোনো চলাচলযোগ্য সড়ক দেখেনি। রিকশাচালক সিজান মিয়া বলেন, জীবিকার জন্য রিকশা চালালেও সড়ক না থাকায় বাড়িতে রিকশা নেওয়া সম্ভব হয় না।
চর আমখাওয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জিয়াউল ইসলাম বলেন, কয়েক বছর আগে এলাকাবাসী সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়ে আবেদন করেন। তবে সেখানে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, সড়কের জন্য জমি বরাদ্দ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, বন্ধ হয়ে যাওয়া পুরোনো মানচিত্রভুক্ত সড়কটি পুনরায় সংস্কার করে দ্রুত চলাচলের উপযোগী করা হোক, যাতে দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগের অবসান ঘটে।
বাগেরহাটের শরণখোলা এলাকার শেলারচরের সিঙেরটেকে বুধবার (১৩ মে) সকালে বনরক্ষীদের সঙ্গে বনদস্যু বাহিনীর বন্দুকযুদ্ধ হয়। দস্যুরা পালিয়ে যায়, কিন্তু তাদের ট্রলার, অস্ত্রসহ চার অপহৃত জেলকে বন বিভাগ জব্দ করে। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের শেলারচর টহল ফাঁড়ি ও স্মার্ট টিম যৌথ অভিযান চালায়। সন্দেহজনক ট্রলার দেখে থামার সঙ্কেত দিলে দস্যুরা গুলি চালায়। পাল্টা গুলিতে লড়াইয়ের পর তারা ট্রলার ফেলে পালায়। ট্রলার থেকে উদ্ধার হন হাসান (৩০), মাসুম (২৫), ইরাক শেখ (২৮) ও নাছিম (২৫)—শরণখোলা ও খুলনার বটিয়াঘাটার বাসিন্দা। তারা শিকলবন্দী ছিল। মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে শরীফ বাহিনী অপহরণ করেছিল বলে জানা গেছে। জব্দ হয় এক বন্দুক, এক রাউন্ড কার্তুজ ও চার ওয়াকিটকি। শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম জানান, জব্দ সম্পদ বন বিভাগের হেফাজতে রয়েছে। দস্যুদের ধরতে সুন্দরবনে তল্লাশি চলছে।
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের বিভিন্ন কর্মসূচির সুফল তুলে ধরে পঞ্চগড়ে প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) দুপুরে জেলা প্রশাসন ও জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ অনুষ্ঠান হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোছা. শুকরিয়া পারভীন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জেলা তথ্য কর্মকর্তা উজ্জ্বল কুমার শীল। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সীমা শারমিন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা, পঞ্চগড় প্রেসক্লাবের সভাপতি মোশাররফ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক সরকার হায়দারসহ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। প্রেস ব্রিফিংয়ে ফ্যামিলি কার্ড, খাল পুনঃখনন, বৃক্ষরোপণ, নারীদের জন্য বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থা, কৃষক কার্ড ও কৃষিঋণ মওকুফ কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। এসময় জানানো হয়, ১৪ এপ্রিল কৃষক কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে ২০ হাজার ৬৭১ জন কৃষক এ সুবিধা পাবেন। এছাড়া আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার মৃত ও ভরাট খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। এতে ১২ লাখ কৃষকের ঋণ পরিশোধে সরকারের ব্যয় হয়েছে এক হাজার ৫৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।
চট্টগ্রাম নগরীর সাগরিকা ফ্লাইওভারে ঝুলন্ত অবস্থায় কাউসার আহমেদ (২৭) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি আকবর শাহ থানা ছাত্রলীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। মঙ্গলবার (১২ মে) ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় পাহাড়তলী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, কাউসারকে হত্যা করে মরদেহ ফ্লাইওভারে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে মরদেহে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। নিহত ব্যক্তি একটি কারখানায় নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ও মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন বলে পরিবার জানিয়েছে। পাহাড়তলী থানার ওসি নুরুল আবছার জানান, স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং অপমৃত্যু হিসেবে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।