কৃষি ও জলবায়ু

বরিশালে টানা দুইদিনের বর্ষণে পাকা বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

Icon
বরিশাল
প্রকাশঃ এপ্রিল ২৯, ২০২৬

বরিশালে গত দুইদিন ধরে ব্রজসহ টানা ভারী বর্ষণ ও দমকা হাওয়া অব্যাহত রয়েছে। এতে করে কৃষকের ক্ষেতে পাকা বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল থেকে শুরু হওয়া মুষলধারে বৃষ্টি ও ঘন ঘন বজ্রপাত পুরো এলাকাজুড়ে আতঙ্কের সৃষ্টি করে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) দিনভর বজ্রসহ ভারী বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে খেটে খাওয়া দিনমজুরদের জীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে বরিশাল জেলাজুড়ে বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে গত দুইদিনের ভারী বর্ষণে কৃষকের ক্ষেতে কাটা ধানগুলো পানিতে তলিয়ে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি ভারি বর্ষণের সাথে বজ্রপাত হওয়ায় কৃষকেরা জমিতে যেতে সাহস পাচ্ছেন না। 
সূত্রমতে, গত দুইদিন ধরে ভারি বর্ষণে বোরো ক্ষেতে পানি জমে গেছে। এরসাথে দমকা হাওয়ায় জেলার অধিকাংশ উপজেলার পাকা বোরো ধান নুয়ে পরায় পাকা ধানগুলো পানির সাথে মিশে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। কৃষকেরা জানিয়েছেন, বৃষ্টির সাথে ঘন ঘন বজ্রপাত হওয়ায় অনেকেই ঘরের বাহিরে বের হতে সাহস পাচ্ছেন না। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, কৃষক ও দিনমজুররা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন।
জেলা কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সময়ের অতিরিক্ত বৃষ্টি ফসলের জন্য ক্ষতিকর। বিশেষ করে পাকা বোরো ধানের ক্ষেত ও সবজি ক্ষেতে পানি জমে থাকলে উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সূত্রমতে, বরিশালের বাকেরগঞ্জ, বানারীপাড়া, উজিরপুর, মুলাদী, মেহেন্দীগঞ্জ, হিজলা, বাবুগঞ্জ, আগৈলঝাড়া ও গৌরনদী উপজেলায় টানা দুইদিনের ভারী বর্ষণে বিস্তীর্ণ এলাকায় কয়েক হাজার হেক্টর জমির পাকা বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। এরমধ্যে যেসব কৃষকরা ধান কাটার পর জমিতে রেখেছিলেন তাদের সেই কাটা ধান এখন বৃষ্টির পানির নিচে থাকলেও শ্রমিক সংকট ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে তা ঘরে তুলতে পারছেন না। ফলে কৃষকের চোখের সামনেই ডুবে রয়েছে তাদের হাড়ভাঙা পরিশ্রম আর ঋণের টাকায় বোনা স্বপ্ন। হঠাৎ এমন পরিস্থিতিতে ফসল ঘরে তুলতে না পেরে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। কৃষি বিভাগ থেকে দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ থাকলেও শ্রমিক সংকট ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় তা বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়েছে।
অপরদিকে টানা বর্ষণ ও দমকা হাওয়ার কারণে অধিকাংশ বরিশালের উপজেলায় গাছপালা ভেঙে পরায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের খবরও পাওয়া গেছে। যা জনদুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি ঘন ঘন বজ্রপাতের ঝুঁকি বিবেচনায় স্থানীয় প্রশাসন সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়া এবং নিরাপদস্থানে অবস্থান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আরও কয়েকদিন এমন বৈরী আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। তাই জনসাধারণকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চলার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

কৃষি ও জলবায়ু

আরও দেখুন
ছবি: প্রতিনিধি
সৈয়দপুরে দুর্যোগের শঙ্কা ও শ্রমিক সংকটে বেড়েছে ধান কাটার ব্যয়

  নীলফামারীর সৈয়দপুরে ইরি-বোরো ধান কাটা ও মাড়াই শুরু হয়েছে পুরোদমে। তবে আকাশে দুর্যোগের শঙ্কায় কৃষকরা দ্রুত ধান কাটতে মাঠে নেমে পড়ায় শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। এতে ধান কাটা-মাড়াইয়ের খরচও বেড়ে গেছে। স্থানীয় কৃষকরা জানান, এক বিঘা (৬০ শতক) জমির ধান কাটতে শ্রমিকদের ৯ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। এরপর মাড়াইয়ে আরও ১২০০ টাকা খরচ হচ্ছে। ফলে মোট ব্যয় মেটাতে কৃষকদের বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। কামারপুকুর ইউনিয়নের কৃষক আমিনুর রহমান বলেন, পাঁচ বিঘা জমিতে আবাদ করলেও দুর্যোগের কারণে দ্রুত ধান কাটতে হচ্ছে। শ্রমিক সংকটের কারণে খরচ বেড়ে গেছে, এতে লাভ প্রায় শূন্য হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের কৃষকরা জানান, শ্রমিকের অভাবে অনেকে হারভেস্টার মেশিন ব্যবহার করছেন। এতে খরচ তুলনামূলক কম হলেও কিছু এলাকায় মেশিন সংকটও রয়েছে। মৌসুমে অনেক রিকশা ও ভ্যানচালকও ধানকাটা শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন। সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীমান ভূষন বলেন, প্রতি মৌসুমেই শ্রমিক সংকট দেখা দেয়। এ সমস্যা সমাধানে সরকারিভাবে হারভেস্টার মেশিন সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রয়োজনে অন্য জেলা থেকেও মেশিন এনে ধান কাটার ব্যবস্থা করা হবে। তিনি কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দেন।  

সৈয়দপুর, নীলফামারী মে ১৩, ২০২৬ 0

বাগেরহাটে বোরো ধান কাটার মৌসুমে ভারী বৃষ্টিপাত, শঙ্কায় কৃষকরা

বরিশালে টানা দুইদিনের বর্ষণে পাকা বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

মোরেলগঞ্জে স্বল্প খরচে অধিক লাভবানে স্বপ্ন বুনছেন চাষিরা

ছবি: প্রতিনিধি
মধু চাষে মধুর জীবন গড়ছেন শিক্ষক সাহানুর

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার পুটিমারী ইউনিয়নের সাহানুর ইসলাম শিক্ষকতার পাশাপাশি মধু চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করছেন। জলঢাকার বগুলাগাড়ী হুসাইনিয়া (রাঃ) কওমিয়া মহিলা হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক হিসেবে স্বল্প বেতনে চার সদস্যের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হওয়ায় প্রায় তিন বছর আগে তিনি মধু চাষ শুরু করেন। এখন এই পেশা থেকেই বাড়তি আয়ের পথ তৈরি হয়েছে তার। সরিষা ক্ষেত, মিষ্টিকুমড়া ক্ষেত, লিচুবাগানসহ বিভিন্ন ফলবাগান ও ফসলের মাঠে মৌবাক্স বসিয়ে মধু সংগ্রহ করেন সাহানুর। নিজ জেলা ছাড়াও ঠাকুরগাঁও ও লালমনিরহাটের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে তিনি মধু সংগ্রহ করেন। পরে স্থানীয় বাজার ও অনলাইনে তা বিক্রি করেন। বর্তমানে তার কাছে ১৫টি মৌবাক্স রয়েছে। এর মধ্যে ১০টি এপিস মেলিফেরা এবং ৫টি এপিস সেরেনা প্রজাতির মৌমাছি রয়েছে। এপিস সেরেনা জাতের মধুর কেজি বাজারে প্রায় ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা, আর এপিস মেলিফেরা প্রজাতির মধু ৮০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হয়। সম্প্রতি কিশোরগঞ্জ উপজেলার একটি লিচুবাগানে বসানো ১০টি মৌবাক্স থেকে হারভেস্টিং মেশিনে প্রায় ৭ কেজি মধু সংগ্রহ করেন তিনি, যার বাজারমূল্য প্রায় ৭ হাজার টাকা। এটি লিচু ও মিষ্টিকুমড়া ফুলের সমন্বিত মধু। সাহানুর ইসলাম বলেন, “মধু চাষে খরচ খুব কম। মৌসুমে তেমন খরচ লাগে না। বর্ষাকালে মৌমাছিকে বাঁচিয়ে রাখতে কিছুটা চিনি দিতে হয়। তবে মৌমাছির সংখ্যা বাড়লে মধু উৎপাদনও বাড়ে।” তিনি আরও জানান, মৌমাছি শুধু মধুই দেয় না, পরাগায়নের মাধ্যমে ফল ও সবজির ফলনও বাড়ায়। তিন কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে বিভিন্ন ফসলের জমিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। স্থানীয় মিষ্টিকুমড়া চাষি সহিদুল ইসলাম জানান, “মৌচাষের কারণে জমিতে পরাগায়ন ভালো হয়। গত বছর ৪০ শতক জমি থেকে প্রায় ৮০ হাজার টাকা লাভ করেছি। এবার লক্ষাধিক টাকা লাভের আশা করছি।” এ বিষয়ে আবু মো. মঞ্জুর রহমান বলেন, জেলায় বর্তমানে ২৭ জন মৌচাষি রয়েছেন। মৌচাষের ফলে বিভিন্ন ফল ও সবজি চাষে ফলন বাড়ছে। ভবিষ্যতে এ খাতে আরও প্রণোদনা দেওয়া হলে উৎপাদন বাড়বে এবং অর্গানিক মধু রপ্তানির সম্ভাবনাও তৈরি হবে।

নীলফামারী প্রতিনিধি> মার্চ ১২, ২০২৬ 0
ছবি: প্রতিনিধি

ঠাকুরগাঁওয়ের লিচুতে এবার ২০ হাজার টনের স্বপ্ন

ছবি: প্রতিনিধি

মৌ মৌ গন্ধে সুরভিত করে তুলেছে সজনে ফুল, বাড়ছে বাণিজ্যিক চাষ

ছবি: প্রতিনিধি

নীলফামারীতে নিজের নামে উদ্ভাবিত মাল্টার জাত দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে চান রাজু

ছবি: প্রতিনিধি
দেবীগঞ্জে গম ও ভুট্টা চাষে নতুন সম্ভাবনা, গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাফল্য

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে অবস্থিত বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট (BWMRI) নতুন পরিকল্পনার মাধ্যমে গম চাষে ইঁদুর দমন ও উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে। ২০২৫–২৬ মৌসুমে বীজ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্লক-৩ এলাকায় বারি গম-৩৩ জাতের প্রজনন বীজ ৪.৮০ হেক্টর, বারি গম-৩০ এবং বারি গম-৩২ যথাক্রমে ৫.৫ হেক্টর জমিতে বপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে হাইব্রিড ভুট্টা-২, বারি খই ভুট্টা-১ (০.৭৫ হেক্টর) ও বারি মিষ্টি ভুট্টা-১ (০.৮০ হেক্টর) চাষ করা হচ্ছে। দেবীগঞ্জ বীজ উৎপাদন কেন্দ্রের কর্মকর্তা ড. মোঃ ইলিয়াছ হোসেন জানান, “লাইন বা সারিভিত্তিক নালাভিত্তিক চাষাবাদ বীজের অপচয় কমায়, সেচ ও সার ব্যবস্থাপনায় সুবিধা দেয় এবং ফলন বৃদ্ধি করে। সঠিক জাত ও সময়ে বপন করলে কৃষকরা বেশি ফলন পাবেন। বারি গম-৩৩ জাতে প্রতি কেজিতে ৫০–৫৫ মিলিগ্রাম জিঙ্ক ব্যবহার করা হয়, যা পুষ্টি বৃদ্ধিতে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সহায়ক।” BWMRI-এর নতুন উদ্ভাবিত জাত ও প্রযুক্তি বিএডিসি (BADC) মাধ্যমে কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই উদ্যোগ দেশের গম উৎপাদনে মানসম্মত ও উচ্চ ফলনশীল বীজ সরবরাহ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।  

আমির খসরু লাবলু জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0
ছবি: প্রতিনিধি

মালচিং পদ্ধতিতে ক্যাপসিকাম চাষ করে জীবন বদলাতে চান সুমন

ছবি: প্রতিনিধি

সাতক্ষীরায় এবছর লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে সরিষা ও মধু আহরণ

নীলফামারীতে আলুখেতে লেটব্রাইট রোগ, দিশাহারা চাষিরা

0 Comments