দুয়ারে কড়া নাড়ছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনে সারাদেশে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯২টিতে প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি। সংসদ সদস্য হতে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন প্রায় আড়াই হাজার প্রার্থী। এর মধ্যে মোট এক হাজার ৮৪২ জন বৈধ প্রার্থী রয়েছেন। যার মধ্যে ৫০১ জনের সম্পদ কোটি টাকার বেশি। বিএনপির কোটিপতি প্রার্থী ২১২ জন। জামায়াতে ইসলামী থেকে ৬৪ জন কোটিপতি প্রার্থী। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ৩৫, জাতীয় পার্টির ৩০, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ১২, গণঅধিকার পরিষদ, এনসিপি ও আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি) পাঁচজন করে এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের চারজন প্রার্থী কোটিপতি। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী ৫৮ জন এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলের ৭১ জন প্রার্থী কোটিপতি।
প্রার্থীদের শির ভাগই চালচলনে বিলাসী ও বিত্তবান। চলাফেরা করেন দামি গাড়িতে। এবারও হলফনামায় দেওয়া অনেক প্রার্থীর বার্ষিক আয় বা সম্পদের বিবরণ বাস্তবসম্মত কিনা, এমন প্রশ্ন সামনে আসছে। প্রার্থীদের হলফনামায় থাকা তথ্য নির্বাচন কমিশন সঠিকভাবে যাচাই করে না, অতীতে এমন অভিযোগ থাকলেও এবার এখান থেকে বেরিয়ে আসার কথা জানিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। কিন্তু হলফনামায় দেওয়া তথ্যের যথার্থতা এবং এর যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে অতীতের মতোই প্রশ্ন তুলেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের অনেকে।
তারা বলছেন, বাৎসরিক আয়-ব্যয় এবং সম্পদের যে হিসেব প্রার্থীরা দেন তার বেশিরভাগই ত্রুটিপূর্ণ। হলফনামা দেওয়ার প্রক্রিয়াটি কেবলই যেন আনুষ্ঠানিকতা। এর মধ্য দিয়ে সঠিক তথ্য উঠে আসেনা।
যদিও নির্বাচন আইন এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, কেউ যদি ভুল তথ্য দেয় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানান নির্বাচন কমিশনের সাবেক কর্মকর্তা ও নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য জেসমিন টুলি। তিনি বলছেন, সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ বা আরপিওতে হলফনামায় অসত্য তথ্য দেওয়া হলে প্রার্থিতা বাতিল করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে নির্বাচন কমিশনকে।
এছাড়া নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, হলফনামায় দেওয়া তথ্য মিথ্যা বা ভুল প্রমাণিত হলে দণ্ডবিধি অনুযায়ী জেল জরিমানার বিধান রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সম্পদ দেখিয়েছেন ফেনী-৩ আসনের আবদুল আউয়াল মিন্টু। স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে তার সম্পদমূল্য ৫০৭ কোটি ৮০ লাখ ১৮ হাজার ১৭১ টাকা। স্ত্রী নাসরিন ফাতেমা আউয়ালের সম্পদ যোগ করলে তা দাঁড়ায় ৬০৭ কোটি চার লাখ ৬৬ হাজার ৮৬৯ টাকা। হলফনামার তথ্যানুযায়ী, বিএনপিতে রয়েছেন সর্বোচ্চ কোটিপতি প্রার্থী। বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে এ রকম শতকোটি টাকার বেশি সম্পদের মালিক রয়েছেন আরও অন্তত ছয়জন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী, যার সম্পদের পরিমাণ ৩৬৫ কোটি ৫ লাখ ২৮ হাজার ৮৩৬ টাকা। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামান, যার সম্পদ ২৬৫ কোটি ৩ লাখ ২ হাজার ৯৫৭ টাকা। চতুর্থ স্থানে কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনের বিএনপির প্রার্থী জাকারিয়া তাহের, যার সম্পদ ২০৪ কোটি ৬২ লাখ ৯ হাজার ৪৩০ টাকা। এরপর লক্ষ্মীপুর-১ আসনের ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মো. জাকির হোসেন পাটওয়ারী ১২৬ কোটি ৪৭ লাখ ৫৫ হাজার ৭৩৬ টাকা এবং চাঁদপুর-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী মো. হারুনুর রশিদ ১১৮ কোটি ২৩ লাখ ৩৫ হাজার ৩৬৯ টাকা) অবস্থান করছেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের হাতে নগদ পৌনে ৪ কোটি টাকা, মোট সম্পদ ৫৩ কোটি ১৬ লাখ টাকা এবং তিনি আয়কর দিয়েছেন ৩ কোটি ৫৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। কোটি টাকার নিচে সম্পদ আছে ৪৬ জনের। পেশার দিক থেকে সর্বোচ্চ ১৭০ জন ব্যবসায়ী রয়েছেন। এ ছাড়া আইনজীবী ২৯, প্রকৌশলী ২৪, শিক্ষক ২০, চিকিৎসক ১১ ও কৃষিজীবী চারজন। চাকরি অথবা পেশা থেকে অবসর নিয়েছেন আটজন। এ ছাড়া গৃহিণী বা অন্য পেশায় আছেন মাত্র দুজন।
বিএনপির পরেই কোটিপতির তালিকায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় নাগরিক পার্টি, জাতীয় পার্টি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও রয়েছেন।
ইসির হলফনামায় দেখে গেছে, বিভাগওয়ারী সর্বোচ্চ কোটিপতি রয়েছে ঢাকায় ১৪৩ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ১১৪ জন, রংপুর বিভাগে ৫১ জন, রাজশাহীতে ৪৭, খুলনায় ৪০, বরিশালে ৩৯, সিলেটে ৩৭ এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ৩০ জন প্রার্থীর কোটি টাকার বেশি সম্পদ আছে।
ঢাকায় ৫১, চট্টগ্রামে ৩৬ এবং কুমিল্লা জেলায় ২১ জন প্রার্থীর কোটি টাকার বেশি সম্পদ রয়েছে। এছাড়া নোয়াখালীতে ১৭, ময়মনসিংহে ১৬, নারায়ণগঞ্জে ১৫ এবং সিলেটে ১৩ প্রার্থী আছেন যাদের সম্পদ কোটি টাকার বেশি। বরিশাল, টাঙ্গাইল ও নরসিংদী জেলায় ১২ জন করে কোটিপতি প্রার্থী রয়েছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ১১, বগুড়া ১০, গাজীপুর ১০, রংপুর ৯, সুনামগঞ্জ ৯, চাঁদপুর ৮, গাইবান্ধা ৮, দিনাজপুর ৮, মাদারীপুর ৮ এবং মৌলভীবাজার ৮ জন প্রার্থী কোটিপতি।
বাগেরহাট, লালমনিরহাট, হবিগঞ্জ, রাজশাহী, ফেনী, নেত্রকোনা, নীলফামারী, খুলনা, গোপালগঞ্জ, নওগাঁ ও ঝালকাঠিতে ৭ জন করে প্রার্থী কোটি টাকার বেশি সম্পদের মালিক। জামালপুর, কক্সবাজার, নাটোর, ফরিদপুর, ভোলা, মানিকগঞ্জ, যশোর, লক্ষ্মীপুর ও সিরাজগঞ্জে ৬ জন করে, শরীয়তপুর, পিরোজপুর, পাবনা, পটুয়াখালী, কুড়িগ্রাম ও কুষ্টিয়ায় ৫ জন করে, কিশোরগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও, নড়াইল, বরগুনা ও মুন্সিগঞ্জে ৪ জন করে এবং রাজবাড়ী, সাতক্ষীরা, পঞ্চগড় ও ঝিনাইদহে ৩ জন করে প্রার্থী কোটিপতি। মেহেরপুর, মাগুরা ও জয়পুরহাটে ২ জন করে, আর রাঙামাটি, শেরপুর, খাগড়াছড়ি ও চুয়াডাঙ্গায় একজন করে কোটিপতি প্রার্থী রয়েছেন। জেলা হিসেবে বান্দরবানে কোনো কোটিপতি প্রার্থী নেই।
হলফনামা অনুযায়ী তারেক রহমান ২০২৫-২৬ আয়কর বর্ষে তাঁর আয় দেখিয়েছেন ছয় লাখ ৭৬ হাজার টাকা। সম্পদের পরিমাণ এক কোটি ৯৭ লাখ টাকা। তিনি কোনো স্বীকৃত পেশার সঙ্গে যুক্ত না থাকায় শেয়ার, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানতের বিপরীতে আয় দেখিয়েছেন।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. মোহাম্মদ শফিকুর রহমান পেশায় চিকিৎসক। তিনি বছরে আয় দেখিয়েছেন তিন লাখ ৬০ হাজার টাকা। অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের গত এক বছরে আয় ছিল ১৩ লাখ ৫১ টাকা। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ৩২ লাখ ১৬ হাজার টাকা। বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের বছরে আয় আট লাখ ৬৩ হাজার টাকা। রংপুর-৩ আসনের প্রার্থী জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের আয় দেখিয়েছেন চার লাখ টাকা।
যাঁরা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন এবং বিলাসবহুল জীবন যাপন করেন। প্রতিদিনই তাঁরা বিপুল অর্থ খরচ করেন। অথচ হলফনামায় এর প্রতিফলন তেমন একটা দেখা যায়নি।
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে জানা যায়, বিএনপির সানজিদা ইসলামের বার্ষিক আয় পাঁচ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। ঢাকা-১২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. সাইফুল আলমের দেখানো তথ্য অনুযায়ী তাঁর মাসিক আয় আট হাজার ৫০০ টাকারও কম। একই দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের গত এক বছরে আয় চার লাখ ৬৭ হাজার টাকা।
এদিকে স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে দেখা যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামীকে। এর আগে বিএনপির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে একত্রে হেঁটেছে জামায়াত। ইতঃপূর্বে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বাইরে বড় কোনো রাজনৈতিক শক্তির বলয় দেখেনি বাংলাদেশ। আওয়ামী লীগ কার্যত মাঠশূন্য হওয়ার পর বিএনপির জন্য মাঠ ফাঁকা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নতুন রাজনীতিতে বড় চ্যালেঞ্জিং জায়গা দখল করে নিয়েছে জামায়াত। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কার্যক্রম শুরুর প্রথম দিকে দ্রুত নির্বাচনের বিষয়ে কিছুটা অনীহা ছিল জামায়াতের। আগে পুরোপুরি সংস্কার ও জুলাই গণহত্যার বিচার, তারপর নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছিল দলটি। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে চিন্তাভাবনার পরিবর্তন আসে জামায়াতের। তবে ভোটের মাঠে সম্প্রতি কিছু নেতা বা প্রার্থীর বেফাঁস বক্তব্যে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে জামায়াতকে। সম্প্রতি জামায়াত ঘরানার কয়েকজন ইসলামি বক্তার বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক দেখা দিলে দল থেকে তাদের ডেকে সতর্ক করা হয়েছে। সম্প্রতি দলের পক্ষ থেকে ‘বিশিষ্ট দাঈ ও ওয়ায়েজ সম্মেলন’ আয়োজন করা হয়। সেখানে সারাদেশ থেকে শতাধিক জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা উপস্থিত হন। তাদের মধ্যে বিতর্কিত বক্তব্যে শীর্ষে থাকা মাওলানা তারেক মনোয়ার ও মুফতি আমীর হামজাও ছিলেন। সেখানে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান তাদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ময়দানে এমন কোনো বক্তব্য দেওয়া যাবে না যাতে সমালোচনা সৃষ্টি হয়। সর্বোচ্চ সতর্ক থেকে কথাবার্তা বলতে হবে। মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করা যাবে না।তারপরও থেমে নেই তারা।
রাজধানীকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজায়নের আওতায় আনতে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মের যৌথ উদ্যোগে ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ১৪ মে বৃহস্পতিবার। আগামীকাল সকাল ১০টায় রাজধানীর নগর ভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মোঃ আবদুস সালাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ইশতিয়াক আজিজ উলফাত এবং সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। এছাড়া অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন ড. কে এম আই মন্টিসহ সংগঠনের সিনিয়র নেতারা। অনুষ্ঠান আয়োজকরা জানিয়েছেন, নগর পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিদের উপস্থিত থেকে সংবাদ কাভারেজ প্রদানের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
দেশে হামের সংক্রমণ ও শিশুমৃত্যু বেড়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে টিকা সরবরাহ ও সরকারি ব্যবস্থাপনায় অবহেলার অভিযোগ উঠেছে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে। প্রতিদিনই নতুন মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। মঙ্গলবার (১২ মে) বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান সিনিয়র সাংবাদিক আনিস আলমগীর। তিনি অভিযোগ করেন, হামের কারণে শিশুমৃত্যুর বিষয়টি আড়াল করতে একটি পক্ষ ‘সাফাই’ দিচ্ছে এবং এদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। তিনি সাবেক প্রেসসচিব শফিকুল আলমসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের আহ্বান জানান এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহানের বিচার দাবি করা আন্দোলনের প্রতি ইঙ্গিত করেন। অন্যদিকে, হামের টিকা কেন সংগ্রহ করা হয়নি—তা তদন্তে আন্তর্জাতিক মানের একটি কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলবে, তবে এ মুহূর্তে জরুরি অবস্থা ঘোষণার প্রয়োজন নেই।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা না থাকলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্স বাতিল করা হবে বলে কঠোর সতর্কতা জানিয়েছেন প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। সোমবার (১১ মে) নগর ভবনে বর্জ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, বাসাবাড়ি থেকে মাসিক ১০০ টাকার বেশি বিল আদায় সম্পূর্ণ অনিয়ম এবং এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি নির্ধারিত নিয়মে প্রতিদিনের বর্জ্য প্রতিদিনই অপসারণ না করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির মুখে পড়তে হবে। সভায় আসন্ন ঈদুল আজহা সামনে রেখে বিশেষ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। কোরবানির পর তিন দিনের মধ্যে পুরো নগরী পরিচ্ছন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সব কর্মী ও ঠিকাদারদের মাঠে থাকতে হবে বলেও জানানো হয়। কোনো এলাকায় বর্জ্য জমে থাকলে তা প্রশাসনিক ব্যর্থতা হিসেবে গণ্য করা হবে। ডিএসসিসি প্রশাসক আরও বলেন, রাস্তা, ড্রেন বা খালে ময়লা ফেলা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে সেবা নয়, বরং নাগরিক দায়িত্ব হিসেবে কঠোরভাবে বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন।