মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) আওতাধীন দেশের সব স্কুল ও কলেজে ধাপে ধাপে ‘বৈজ্ঞানিক লাইফস্টাইল ডেভেলপমেন্ট ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম’ চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ১০ দফা নির্দেশনা জারি করেছে মাউশি।
মাউশির পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী বেসরকারি সংস্থা কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন প্রণীত একটি ম্যানুয়াল অনুসরণ করে শিক্ষকদের ও শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে একদিনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে। এ বিষয়ে মাউশি ও কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য নিম্নোক্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে—
• প্রশিক্ষণের শিরোনাম: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘বৈজ্ঞানিক লাইফস্টাইল ডেভেলপমেন্ট এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম’।
• শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী মাউশি ও কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুসারে মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিজ নিজ ভেন্যুতে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
• শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবী প্রশিক্ষকদের সঙ্গে সমন্বয় করে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য একদিনের প্রশিক্ষণের আয়োজন করবেন।
• প্রশিক্ষণ শেষে দৈনিক অনুশীলন কার্যক্রম বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে প্রশিক্ষণ ম্যানুয়ালের পরিশিষ্ট–২(গ) অনুযায়ী প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে একটি মনিটরিং পুল গঠন করতে হবে।
• ম্যানুয়ালের পরিশিষ্ট–২ অনুযায়ী পরিচালনা ও বাস্তবায়ন গাইডলাইনের কাউন্সেলিং সেবা এবং অন্যান্য নির্দেশনা শিক্ষার্থীদের দৈনিক অনুশীলন কার্যক্রমের সঙ্গে প্রয়োজন অনুসারে বাস্তবায়ন করা হবে।
• প্রশিক্ষণ ম্যানুয়ালের পরিশিষ্ট–২ ও ৪ এ বর্ণিত নীতিমালা অনুযায়ী মনিটরিং পুল তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
• মনিটরিং পুলের কার্যক্রম ম্যানুয়াল ও নির্ধারিত গাইডলাইনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে এবং এর বাইরে কোনো কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়া যাবে না।
• প্রতি বছর নতুন ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাচভিত্তিক প্রশিক্ষণ আয়োজন করা যেতে পারে।
• অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে সচেতনতা তৈরির অংশ হিসেবে প্রয়োজনবোধে অভিভাবকদেরও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে।
• সংশ্লিষ্ট অঞ্চল, জেলা, উপজেলা ও থানা পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে প্রতিষ্ঠান প্রধানরা এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবেন এবং প্রয়োজনে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সমন্বয়কের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে।
• প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও পরবর্তী অনুশীলনের মনিটরিংয়ে বাংলাদেশ স্কাউটসের সদস্যরা (স্কুলে স্কাউটস ও কলেজে রোভার স্কাউটস) স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে অংশগ্রহণ করবেন।
মাউশি জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা, জীবনযাপনে বৈজ্ঞানিক অভ্যাস গড়ে তোলা এবং সুস্থ সামাজিক পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রাজধানীকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজায়নের আওতায় আনতে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মের যৌথ উদ্যোগে ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ১৪ মে বৃহস্পতিবার। আগামীকাল সকাল ১০টায় রাজধানীর নগর ভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মোঃ আবদুস সালাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ইশতিয়াক আজিজ উলফাত এবং সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। এছাড়া অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন ড. কে এম আই মন্টিসহ সংগঠনের সিনিয়র নেতারা। অনুষ্ঠান আয়োজকরা জানিয়েছেন, নগর পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিদের উপস্থিত থেকে সংবাদ কাভারেজ প্রদানের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
দেশে হামের সংক্রমণ ও শিশুমৃত্যু বেড়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে টিকা সরবরাহ ও সরকারি ব্যবস্থাপনায় অবহেলার অভিযোগ উঠেছে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে। প্রতিদিনই নতুন মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। মঙ্গলবার (১২ মে) বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান সিনিয়র সাংবাদিক আনিস আলমগীর। তিনি অভিযোগ করেন, হামের কারণে শিশুমৃত্যুর বিষয়টি আড়াল করতে একটি পক্ষ ‘সাফাই’ দিচ্ছে এবং এদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। তিনি সাবেক প্রেসসচিব শফিকুল আলমসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের আহ্বান জানান এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহানের বিচার দাবি করা আন্দোলনের প্রতি ইঙ্গিত করেন। অন্যদিকে, হামের টিকা কেন সংগ্রহ করা হয়নি—তা তদন্তে আন্তর্জাতিক মানের একটি কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলবে, তবে এ মুহূর্তে জরুরি অবস্থা ঘোষণার প্রয়োজন নেই।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা না থাকলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্স বাতিল করা হবে বলে কঠোর সতর্কতা জানিয়েছেন প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। সোমবার (১১ মে) নগর ভবনে বর্জ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, বাসাবাড়ি থেকে মাসিক ১০০ টাকার বেশি বিল আদায় সম্পূর্ণ অনিয়ম এবং এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি নির্ধারিত নিয়মে প্রতিদিনের বর্জ্য প্রতিদিনই অপসারণ না করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির মুখে পড়তে হবে। সভায় আসন্ন ঈদুল আজহা সামনে রেখে বিশেষ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। কোরবানির পর তিন দিনের মধ্যে পুরো নগরী পরিচ্ছন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সব কর্মী ও ঠিকাদারদের মাঠে থাকতে হবে বলেও জানানো হয়। কোনো এলাকায় বর্জ্য জমে থাকলে তা প্রশাসনিক ব্যর্থতা হিসেবে গণ্য করা হবে। ডিএসসিসি প্রশাসক আরও বলেন, রাস্তা, ড্রেন বা খালে ময়লা ফেলা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে সেবা নয়, বরং নাগরিক দায়িত্ব হিসেবে কঠোরভাবে বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন।