আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেছেন, বিভ্রান্তিকর আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিএনপি দেশ পরিচালনা করতে চায় না। জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে নিয়মতান্ত্রিক ও সাংবিধানিকভাবে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য সরকার বদ্ধপরিকর। জুলাই সনদের প্রতিটি ধারা সাংবিধানিকভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি বলেন, জুলাই যেমন আমাদের জীবনের বাঁক ঘুরিয়ে দিয়েছে। তেমনি ৫২,৭১, ৮২ থেকে ৯০, ২০০৭ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যারা খুন-গুম হয়েছেন, তাদের ত্যাগের স্বীকৃতির জন্য অক্ষরে অক্ষরে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাবে বিএনপি।
সোমবার (১৬ মার্চ) বিকালে ঝিনাইদহের হরিনাকুন্ডু উপজেলার কন্যাদহ গ্রামে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খননকৃত শিরিষকাঠ খাল পুনঃখননের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশের উন্নয়নে খাল খনন কর্মসূচি শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর চালু করেছিলেন উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, দেশব্যাপী খাল খননের মাধ্যমে স্বনির্ভর বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশকে অর্থনৈতিক মুক্তির পথ দেখিয়েছিলেন। এখন সুযোগ্য সন্তান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর পিতার প্রবর্তিত খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালুর মাধ্যমে এ দেশে আবারও উন্নয়ন ও উৎপাদনের ধারা সূচনা করেছেন।
ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মাসউদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে, ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম মোঃ আবু বকর, ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মতিয়ার রহমান, ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ আবু তালিব, ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের প্রশাসক এমএ মজিদ, পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল, বিএনপি নেতা রাশেদ খান, মেহেদী হাসান রনি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। ভোটের কালি শুকানোর আগেই বিএনপি তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লন্ডন থেকে ফিরে বলেছিলেন, আই হ্যাভ এ প্ল্যান। তিনি একে একে তার প্ল্যানগুলো সাধারণ মানুষের কল্যাণে বাস্তবায়ন করে চলেছেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত দশ হাজার টাকার কৃষি ঋণ মওকুফ, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড ও দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হওয়ায় ফ্যাসিস্ট ও নিন্দুকেরা লা জবাব হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এমপি হয়েছেন জনসেবার জন্য, নিজের সেবার জন্য নয়। আর এই কারণেই কোনো মন্ত্রী ও এমপি ঢাকায় ফ্ল্যাট নিচ্ছেন না। তাঁর (প্রধানমন্ত্রী) এই পরিবর্তনের অঙ্গীকার মানুষের মাঝে এক আশার আলো সঞ্চার করেছে। জনআকাঙ্খার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে তিনি এগিয়ে যাচ্ছেন বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসেই কথার ফুলঝুড়ি নয়, প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে দেখিয়ে দিয়েছে। বাংলার রাখাল রাজা তারেক রহমান ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধন করেছেন। সারা বাংলাদেশের ৪ কোটি পরিবারকে এই কার্ড দেওয়া হচ্ছে। সারা দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের টার্গেট নেওয়া হয়েছে। খাল গুলো সতেজ ও কৃষি নির্ভর করে তুলতে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আর এগুলোই হচ্ছে তারেক রহমানের আই হ্যাভ এ প্লেনের অংশ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে আইনমন্ত্রী নিজ হাতে কোদাল ধরে মাটি কেটে শিরিষকাঠ খাল খনন কাজের উদ্বোধন করেন। এসময় দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়। পরে ঝিনাইদহ-২ আসনের প্রয়াত সংসদ সদস্য মসিউর রহমানের মাজার জিয়ারত করেন আইনমন্ত্রী।
রাজধানীকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজায়নের আওতায় আনতে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মের যৌথ উদ্যোগে ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ১৪ মে বৃহস্পতিবার। আগামীকাল সকাল ১০টায় রাজধানীর নগর ভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মোঃ আবদুস সালাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ইশতিয়াক আজিজ উলফাত এবং সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। এছাড়া অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন ড. কে এম আই মন্টিসহ সংগঠনের সিনিয়র নেতারা। অনুষ্ঠান আয়োজকরা জানিয়েছেন, নগর পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিদের উপস্থিত থেকে সংবাদ কাভারেজ প্রদানের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
দেশে হামের সংক্রমণ ও শিশুমৃত্যু বেড়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে টিকা সরবরাহ ও সরকারি ব্যবস্থাপনায় অবহেলার অভিযোগ উঠেছে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে। প্রতিদিনই নতুন মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। মঙ্গলবার (১২ মে) বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান সিনিয়র সাংবাদিক আনিস আলমগীর। তিনি অভিযোগ করেন, হামের কারণে শিশুমৃত্যুর বিষয়টি আড়াল করতে একটি পক্ষ ‘সাফাই’ দিচ্ছে এবং এদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। তিনি সাবেক প্রেসসচিব শফিকুল আলমসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের আহ্বান জানান এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহানের বিচার দাবি করা আন্দোলনের প্রতি ইঙ্গিত করেন। অন্যদিকে, হামের টিকা কেন সংগ্রহ করা হয়নি—তা তদন্তে আন্তর্জাতিক মানের একটি কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলবে, তবে এ মুহূর্তে জরুরি অবস্থা ঘোষণার প্রয়োজন নেই।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা না থাকলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্স বাতিল করা হবে বলে কঠোর সতর্কতা জানিয়েছেন প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। সোমবার (১১ মে) নগর ভবনে বর্জ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, বাসাবাড়ি থেকে মাসিক ১০০ টাকার বেশি বিল আদায় সম্পূর্ণ অনিয়ম এবং এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি নির্ধারিত নিয়মে প্রতিদিনের বর্জ্য প্রতিদিনই অপসারণ না করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির মুখে পড়তে হবে। সভায় আসন্ন ঈদুল আজহা সামনে রেখে বিশেষ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। কোরবানির পর তিন দিনের মধ্যে পুরো নগরী পরিচ্ছন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সব কর্মী ও ঠিকাদারদের মাঠে থাকতে হবে বলেও জানানো হয়। কোনো এলাকায় বর্জ্য জমে থাকলে তা প্রশাসনিক ব্যর্থতা হিসেবে গণ্য করা হবে। ডিএসসিসি প্রশাসক আরও বলেন, রাস্তা, ড্রেন বা খালে ময়লা ফেলা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে সেবা নয়, বরং নাগরিক দায়িত্ব হিসেবে কঠোরভাবে বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন।