স্বাস্থ্য

মেটালযুক্ত ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমে স্বাস্থ্যঝুঁকি, হুঁশিয়ারি বিশেষজ্ঞদের

Icon
জানিফ হাসান
প্রকাশঃ জুন ৯, ২০২৫

দেশে ব্যাপকভাবে প্রচলিত ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমে মেটাল বা ভারী ধাতব উপাদান ব্যবহারের কারণে ত্বক ও কিডনিসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা সর্তকতা জারি করেছেন এবং দ্রুত নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (DGDA) এক পরীক্ষায় দেখা গেছে, বাজারে পাওয়া বেশ কিছু নামিদামি ফেয়ারনেস ক্রিমে পারদ (Mercury), সিসা (Lead), আরসেনিক (Arsenic) এবং ক্যাডমিয়াম (Cadmium)-এর মতো ক্ষতিকর উপাদান অনুমোদিত সীমার বহু গুণ বেশি পরিমাণে রয়েছে।

 

চিকিৎসকদের উদ্বেগ
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগের অধ্যাপক ডা. ফারহানা পারভীন বলেন, “এসব ক্রিমের ব্যবহারে ত্বক ফর্সা হওয়া তো দূরের কথা, বরং তা ত্বকের স্থায়ী ক্ষত, চুলকানি, ফুসকুড়ি ও পিগমেন্টেশনের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে এগুলো কিডনি ও স্নায়ুতন্ত্রের ওপরও প্রভাব ফেলে।”

তিনি আরও জানান, অনেক নারী দীর্ঘদিন এসব ক্রিম ব্যবহারের পর ত্বকের স্বাভাবিক রঙ হারিয়ে ফেলছেন, আবার কেউ কেউ গুরুতর সংক্রমণের শিকার হচ্ছেন।

 

বাজারে অনিয়ন্ত্রিত পণ্য
বাজারে অনেক পণ্য বিদেশি ব্র্যান্ডের নামে বাজারজাত করা হলেও তাদের যথাযথ নিবন্ধন নেই। কিছু ক্রিমের গায়ে উপাদানের উল্লেখ থাকলেও তা ভুয়া বা ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়।

 

ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতা
নারায়ণগঞ্জের গার্মেন্টসকর্মী সালমা খাতুন বলেন, “টিভি বিজ্ঞাপনে দেখে একটা ক্রিম কিনেছিলাম। কয়েকদিন ব্যবহারের পর মুখে জ্বালা-পোড়া শুরু হয়। পরে ডাক্তার দেখিয়ে জানতে পারি তাতে ক্ষতিকর রাসায়নিক ছিল।”

 

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ত্বক ফর্সাকারী পণ্যে আকৃষ্ট না হয়ে প্রাকৃতিক পরিচর্যায় গুরুত্ব দেওয়া উচিত। ত্বক ভিন্ন ভিন্ন কারণে কালচে হতে পারে—তাই সঠিক রোগ নির্ণয় ছাড়া যেকোনো ক্রিম ব্যবহার বিপজ্জনক।

 

সরকারি অবস্থান
ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, ইতোমধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং অচিরেই বাজার থেকে ক্ষতিকর ক্রিমগুলো জব্দ করা হবে। পাশাপাশি, ভোক্তাদের সচেতন করার জন্য গণমাধ্যমে প্রচার চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

স্বাস্থ্য

আরও দেখুন
হাম ও উপসর্গে গতো ২৪ ঘণ্টায় আরও ৯ শিশুর মৃত্যু

দেশে হাম ও হামের উপসর্গজনিত পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক আকার নিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৯ শিশু মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একই সময়ে সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১০৫ জনে এবং পরীক্ষায় ৮৭ শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিষ্ঠানটির তথ্যানুযায়ী, গত দেড় মাসে সারাদেশে হাম ও হামের উপসর্গে মোট ৪২৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যু ৬৮ এবং উপসর্গজনিত মৃত্যু ৩৫৬। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে আক্রান্ত হয়েছে ৭ হাজার ২৪ শিশু, আর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৫১ হাজার ৫৬৭ শিশু। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সর্বোচ্চ চাপ রয়েছে ঢাকা বিভাগে, যেখানে এখন পর্যন্ত ২৭ হাজার ৯৩২ জন আক্রান্ত এবং ১৮৬ শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। তথ্যের হিসাব ১৫ মার্চ সকাল থেকে ১২ মে সকাল পর্যন্ত সময়ের।  

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0

হাম ও উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু

গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু

হামের উপসর্গে বেড়েই চলেছে মৃত্যুঝুঁকি, আরও ৫ শিশুর মৃত্যু

২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে ৪ শিশুর মৃত্যু, শনাক্ত আরও ১৬৫

দেশব্যাপী সংক্রামক রোগ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে, হাম সংশ্লিষ্ট উপসর্গে শিশুমৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। রোববার (১৯ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে জারিকৃত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম-সন্দেহে আরও চার শিশুর মৃত্যু নথিভুক্ত হয়েছে; তবে উক্ত সময়সীমায় নিশ্চিতভাবে হামজনিত মৃত্যুর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।  একই সময়ে নতুন করে ১৬৫ জনের মধ্যে হাম শনাক্ত হয়েছে এবং উপসর্গজনিত কারণে ১ হাজার ১৯৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে নিশ্চিতভাবে হামজনিত মৃত্যু দাঁড়িয়েছে ৩৮ জনে। পাশাপাশি হাম-সন্দেহে ১৮১ শিশুর মৃত্যুর ঘটনা রেকর্ডভুক্ত হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে মোট ৩ হাজার ৪৪৩ জনকে নিশ্চিতভাবে হাম আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে এবং সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ২৩ হাজার ৬০৬ জনে দাঁড়িয়েছে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৯, ২০২৬ 0

ফরিদপুরে ২৪ ঘণ্টায় হামে নতুন শনাক্ত ২৩, মোট মৃত্যু ৪

গত ৩১ দিনে হাম ও উপসর্গে প্রাণ হারালো ২০০ শিশু

খুলনায় হামে নতুন শনাক্ত ৭৪, মোট আক্রান্ত ৩৬২

ছবি: প্রতিনিধি
বাগেরহাটে শিশু ওয়ার্ডে রোগীর চাপ দ্বিগুণ, হামের উপসর্গে ভর্তি ৪

  বাগেরহাট ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে রোগীর চাপ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। যেখানে ৪০ শয্যা রয়েছে, বর্তমানে ৮৪ জন শিশু ভর্তি রয়েছে। এদের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে চারজন শিশুকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে রাখা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মৌসুমি রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি এবং নতুন নতুন শিশুদের প্রতিদিন ভর্তি হওয়ায় শয্যা সংকট তৈরি হয়েছে। অনেক শিশুকে মেঝেতে রাখা হচ্ছে এবং অভিভাবকদের ভিড়ও বেড়ে যাওয়ায় ওয়ার্ডের পরিবেশ আরও সংকটাপন্ন হয়ে উঠেছে। এতে চিকিৎসক ও নার্সদের কাজের চাপ বেড়েছে। শিশু ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র নার্সরা জানিয়েছেন, রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়ে যাওয়ায় চাপ থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসক ও নার্সরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। রোগীর স্বজনরা জানিয়েছেন, চিকিৎসা সেবা সন্তোষজনক হলেও খাবারের ব্যবস্থা সব শিশুদের জন্য সম্ভব হচ্ছে না, তাই অনেককে বাইরে থেকে খাবার আনার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বাগেরহাট জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার বলেন, “বর্তমানে ৪০ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে ৮৪ জন শিশু ভর্তি রয়েছে। অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। প্রতিদিন ২৫০ জনের খাবার তৈরি করা হয়, তাই সব রোগীকে সরাসরি খাবার দেওয়া সম্ভব নয়।” হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, অতিরিক্ত চাপ থাকা সত্ত্বেও শিশুদের চিকিৎসাসেবা অব্যাহত থাকবে।  

বাগেরহাট এপ্রিল ৮, ২০২৬ 0

অবিবাহিত তরুণ-তরুণীদের  মধ্যে বাড়ছে এইচআইভি সংক্রমণ, প্রয়োজন সচেতনতা

ফেরদৌস আরা

শোক সংবাদ

স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বড় রূপান্তর: ‘স্বাস্থ্য–খাত সংস্কার’ ও শরীরে ‘পাখি–ফ্লু’ আঘাত

0 Comments