বিদেশি ভিসা প্রক্রিয়ায় আর্থিক জামানত বা ‘ভিসা বন্ড’ পাঠানোর বিধান সহজীকরণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে ভিসা আবেদনকারীদের ফেরতযোগ্য সিকিউরিটি ডিপোজিট ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে সরাসরি বিদেশে পাঠানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (১১ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি ডিপার্টমেন্ট-১ এ সংক্রান্ত নতুন সার্কুলার জারি করে এই নির্দেশনা কার্যকর করা হয়। নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, বিদেশি দূতাবাস বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের শর্ত অনুযায়ী ভিসা বন্ড জমা দিতে হলে, অনুমোদিত ব্যাংকগুলো আবেদনকারীর পক্ষে আন্তর্জাতিক কার্ড, ভার্চুয়াল কার্ড কিংবা বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবের মাধ্যমে সেই অর্থ প্রেরণ করতে পারবে। এই অর্থ শুধুমাত্র ভিসা বন্ড বা সিকিউরিটি ডিপোজিট পরিশোধের উদ্দেশ্যেই ব্যবহারযোগ্য হবে। এক্সপোর্টার্স রিটেনশন কোটা (ইআরকিউ) ও রেসিডেন্ট ফরেন কারেন্সি ডিপোজিট (আরএফসিডি) হিসাব থেকেও এ সুবিধা গ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, নতুন এই নির্দেশনার ফলে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় আর্থিক গ্যারান্টি সংক্রান্ত জটিলতা কমবে এবং বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য প্রক্রিয়াটি হবে আরও দ্রুত ও সুশৃঙ্খল।
টানা দরপতনের ধারা ভেঙে দেশের স্বর্ণ ও রুপার বাজারে পুনরায় মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা এসেছে, যা অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারে কাঁচা স্বর্ণের দামের ঊর্ধ্বগতির প্রেক্ষিতে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন নির্ধারিত দামে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি ২ হাজার ১৫৮ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা করা হয়েছে। একই সঙ্গে রুপার দামও ভরিতে ১৭৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৫ হাজার ৬৫৭ টাকায় নির্ধারিত হয়েছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, বাজার পরিস্থিতি ও কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি বিবেচনায় এনে এই সমন্বয় করা হয়েছে এবং তা বুধবার সকাল থেকেই কার্যকর হয়েছে।
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণে বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে কেন্দ্রীয় উপাদান হিসেবে উল্লেখ করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি পল কাপুর। ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আগামী দিনে আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক ভারসাম্য ও কৌশলগত দিকনির্দেশনা অনেকাংশে নির্ভর করবে ঢাকা–ওয়াশিংটন সম্পর্কের ওপর। সিলেক্ট ইউএসএ ইনভেস্টমেন্ট সামিট ২০২৬-এ অংশ নিতে বাংলাদেশ থেকে ২৫ সদস্যের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল যুক্তরাষ্ট্র সফর করলে তাদের সম্মানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। পল কাপুর বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তির ফলে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং অশুল্ক বাধা হ্রাস পেয়েছে। তিনি বোয়িং উড়োজাহাজ ক্রয়ের জন্য বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এটি দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করেছে। অনুষ্ঠানে আরও বলা হয়, বিশ্বব্যাপী অনুষ্ঠিত এ সামিটে শতাধিক দেশের হাজার হাজার প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন, যেখানে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণই মূল আলোচ্য বিষয়।
দেশীয় বাজারে স্বর্ণমূল্যে নতুন করে ঊর্ধ্বগতি পরিলক্ষিত হয়েছে, সর্বশেষ সমন্বয়ের পর আজ থেকে কার্যকর হয়েছে সংশোধিত দর। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) কর্তৃক বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতি ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা বৃদ্ধি করে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা একই দিন সন্ধ্যা ৭টা হতে কার্যকর হয়েছে। স্থানীয় বাজারে তেজাবি (বিশুদ্ধ) স্বর্ণের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এ সমন্বয় করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। নতুন নির্ধারিত দর অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকায়। ২১ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪০৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ ১ লাখ ৬১ হাজার ৬০৫ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে। উল্লেখ্য, একই দিনে সকালে স্বর্ণের দাম হ্রাস করা হয়েছিল, যেখানে ২২ ক্যারেটের ভরি নির্ধারিত ছিল ২ লাখ ৪০ হাজার ৩৩৭ টাকা। পরবর্তী সময়ে পুনরায় ঊর্ধ্বমুখী সমন্বয়ের মাধ্যমে বর্তমান দর কার্যকর করা হয়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরে এ পর্যন্ত স্বর্ণের দাম মোট ৬০ বার সমন্বয় করা হয়েছে—এর মধ্যে ৩৩ বার বৃদ্ধি এবং ২৭ বার হ্রাস পেয়েছে। অপরদিকে, রুপার দামে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি এবং পূর্ব নির্ধারিত দরই বহাল রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বৈশ্বিক বাজারের প্রভাব ও স্থানীয় মূল্যমানের পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় এ ধরনের সমন্বয় অব্যাহত থাকতে পারে।
নীলফামারীর সৈয়দপুরে ইরি-বোরো ধান কাটা ও মাড়াই শুরু হয়েছে পুরোদমে। তবে আকাশে দুর্যোগের শঙ্কায় কৃষকরা দ্রুত ধান কাটতে মাঠে নেমে পড়ায় শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। এতে ধান কাটা-মাড়াইয়ের খরচও বেড়ে গেছে। স্থানীয় কৃষকরা জানান, এক বিঘা (৬০ শতক) জমির ধান কাটতে শ্রমিকদের ৯ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। এরপর মাড়াইয়ে আরও ১২০০ টাকা খরচ হচ্ছে। ফলে মোট ব্যয় মেটাতে কৃষকদের বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। কামারপুকুর ইউনিয়নের কৃষক আমিনুর রহমান বলেন, পাঁচ বিঘা জমিতে আবাদ করলেও দুর্যোগের কারণে দ্রুত ধান কাটতে হচ্ছে। শ্রমিক সংকটের কারণে খরচ বেড়ে গেছে, এতে লাভ প্রায় শূন্য হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের কৃষকরা জানান, শ্রমিকের অভাবে অনেকে হারভেস্টার মেশিন ব্যবহার করছেন। এতে খরচ তুলনামূলক কম হলেও কিছু এলাকায় মেশিন সংকটও রয়েছে। মৌসুমে অনেক রিকশা ও ভ্যানচালকও ধানকাটা শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন। সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীমান ভূষন বলেন, প্রতি মৌসুমেই শ্রমিক সংকট দেখা দেয়। এ সমস্যা সমাধানে সরকারিভাবে হারভেস্টার মেশিন সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রয়োজনে অন্য জেলা থেকেও মেশিন এনে ধান কাটার ব্যবস্থা করা হবে। তিনি কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দেন।
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার পুটিমারী ইউনিয়নের সাহানুর ইসলাম শিক্ষকতার পাশাপাশি মধু চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করছেন। জলঢাকার বগুলাগাড়ী হুসাইনিয়া (রাঃ) কওমিয়া মহিলা হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক হিসেবে স্বল্প বেতনে চার সদস্যের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হওয়ায় প্রায় তিন বছর আগে তিনি মধু চাষ শুরু করেন। এখন এই পেশা থেকেই বাড়তি আয়ের পথ তৈরি হয়েছে তার। সরিষা ক্ষেত, মিষ্টিকুমড়া ক্ষেত, লিচুবাগানসহ বিভিন্ন ফলবাগান ও ফসলের মাঠে মৌবাক্স বসিয়ে মধু সংগ্রহ করেন সাহানুর। নিজ জেলা ছাড়াও ঠাকুরগাঁও ও লালমনিরহাটের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে তিনি মধু সংগ্রহ করেন। পরে স্থানীয় বাজার ও অনলাইনে তা বিক্রি করেন। বর্তমানে তার কাছে ১৫টি মৌবাক্স রয়েছে। এর মধ্যে ১০টি এপিস মেলিফেরা এবং ৫টি এপিস সেরেনা প্রজাতির মৌমাছি রয়েছে। এপিস সেরেনা জাতের মধুর কেজি বাজারে প্রায় ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা, আর এপিস মেলিফেরা প্রজাতির মধু ৮০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হয়। সম্প্রতি কিশোরগঞ্জ উপজেলার একটি লিচুবাগানে বসানো ১০টি মৌবাক্স থেকে হারভেস্টিং মেশিনে প্রায় ৭ কেজি মধু সংগ্রহ করেন তিনি, যার বাজারমূল্য প্রায় ৭ হাজার টাকা। এটি লিচু ও মিষ্টিকুমড়া ফুলের সমন্বিত মধু। সাহানুর ইসলাম বলেন, “মধু চাষে খরচ খুব কম। মৌসুমে তেমন খরচ লাগে না। বর্ষাকালে মৌমাছিকে বাঁচিয়ে রাখতে কিছুটা চিনি দিতে হয়। তবে মৌমাছির সংখ্যা বাড়লে মধু উৎপাদনও বাড়ে।” তিনি আরও জানান, মৌমাছি শুধু মধুই দেয় না, পরাগায়নের মাধ্যমে ফল ও সবজির ফলনও বাড়ায়। তিন কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে বিভিন্ন ফসলের জমিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। স্থানীয় মিষ্টিকুমড়া চাষি সহিদুল ইসলাম জানান, “মৌচাষের কারণে জমিতে পরাগায়ন ভালো হয়। গত বছর ৪০ শতক জমি থেকে প্রায় ৮০ হাজার টাকা লাভ করেছি। এবার লক্ষাধিক টাকা লাভের আশা করছি।” এ বিষয়ে আবু মো. মঞ্জুর রহমান বলেন, জেলায় বর্তমানে ২৭ জন মৌচাষি রয়েছেন। মৌচাষের ফলে বিভিন্ন ফল ও সবজি চাষে ফলন বাড়ছে। ভবিষ্যতে এ খাতে আরও প্রণোদনা দেওয়া হলে উৎপাদন বাড়বে এবং অর্গানিক মধু রপ্তানির সম্ভাবনাও তৈরি হবে।
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে অবস্থিত বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট (BWMRI) নতুন পরিকল্পনার মাধ্যমে গম চাষে ইঁদুর দমন ও উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে। ২০২৫–২৬ মৌসুমে বীজ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্লক-৩ এলাকায় বারি গম-৩৩ জাতের প্রজনন বীজ ৪.৮০ হেক্টর, বারি গম-৩০ এবং বারি গম-৩২ যথাক্রমে ৫.৫ হেক্টর জমিতে বপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে হাইব্রিড ভুট্টা-২, বারি খই ভুট্টা-১ (০.৭৫ হেক্টর) ও বারি মিষ্টি ভুট্টা-১ (০.৮০ হেক্টর) চাষ করা হচ্ছে। দেবীগঞ্জ বীজ উৎপাদন কেন্দ্রের কর্মকর্তা ড. মোঃ ইলিয়াছ হোসেন জানান, “লাইন বা সারিভিত্তিক নালাভিত্তিক চাষাবাদ বীজের অপচয় কমায়, সেচ ও সার ব্যবস্থাপনায় সুবিধা দেয় এবং ফলন বৃদ্ধি করে। সঠিক জাত ও সময়ে বপন করলে কৃষকরা বেশি ফলন পাবেন। বারি গম-৩৩ জাতে প্রতি কেজিতে ৫০–৫৫ মিলিগ্রাম জিঙ্ক ব্যবহার করা হয়, যা পুষ্টি বৃদ্ধিতে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সহায়ক।” BWMRI-এর নতুন উদ্ভাবিত জাত ও প্রযুক্তি বিএডিসি (BADC) মাধ্যমে কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই উদ্যোগ দেশের গম উৎপাদনে মানসম্মত ও উচ্চ ফলনশীল বীজ সরবরাহ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তামিল চলচ্চিত্র শিল্পে দীর্ঘদিনের প্রদর্শনী নীতিতে বড় পরিবর্তন আনলেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়। দক্ষিণি অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণন অভিনীত নতুন সিনেমা ‘কারুপ্পু ’ মুক্তিকে ঘিরে বিশেষ প্রদর্শনীর সময়সূচিতে শিথিলতা দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, এতদিন রাজ্যে ভোর বা সকালের বিশেষ শো প্রদর্শনের অনুমতি না থাকলেও নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সিনেমাটির প্রথম শো সকাল ৯টা থেকে শুরু হবে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই বিজয়ের অন্যতম আলোচিত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন এ ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন ভক্ত ও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে এটিকে তামিল সিনেমার প্রদর্শনী সংস্কৃতিতে নতুন অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করছেন। এদিকে বিজয় ও তৃষাকে ঘিরে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের গুঞ্জনও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ভক্তদের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্ত সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী “যথাযথ শিক্ষা দিতে” সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বার্তায় সতর্ক করে বলেন, ভুল কৌশল ও সিদ্ধান্তের পরিণতি কখনোই ভালো হয় না—এ বাস্তবতা বিশ্ব ইতোমধ্যেই উপলব্ধি করেছে। এ হুঁশিয়ারি এমন সময় এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে এবং তেহরানের সাম্প্রতিক প্রতিক্রিয়াকে তিনি “অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করেন। এর আগে যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ে। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের জবাব প্রত্যাখ্যান করে কঠোর অবস্থান নিলে পরিস্থিতি নতুন করে জটিল হয়ে ওঠে। একইসঙ্গে ওয়াশিংটনে উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে, যেখানে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রকে বৈশ্বিক শান্তির জন্য প্রধান হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার শর্তকে ‘অযৌক্তিক’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। সোমবার (১১ মে) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক কড়া অবস্থান জানিয়ে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা ও সংঘাতের মূল উৎস যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও আঞ্চলিক নীতি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘেই সংবাদ সম্মেলনে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শর্তসমূহ বাস্তবতা বিবর্জিত, অন্যদিকে ইরানের উত্থাপিত দাবি ন্যায্য ও যুক্তিসংগত। তার মতে, যুদ্ধবিরতি, নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার, সম্পদ মুক্তকরণ এবং জলপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই স্থিতিশীলতার পূর্বশর্ত। তিনি আরও জানান, ইরান আলোচনায় প্রস্তুত থাকলেও তা হতে হবে পারস্পরিক সম্মান ও চাপমুক্ত পরিবেশে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পাল্টা প্রস্তাবকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ ঘোষণা করেন। ফলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা আরও গভীর হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার প্রশ্নে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে তেহরান। মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা মানেই আত্মসমর্পণ নয়; বরং তা ইরানের জাতীয় অধিকার ও সার্বভৌম স্বার্থ রক্ষার কূটনৈতিক লড়াই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি স্পষ্ট করেন, ইরান কখনো তার বৈধ অধিকার থেকে সরে আসবে না এবং কোনো চাপের মুখে মাথা নত করবে না। এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক জবাব ইতোমধ্যে পাঠিয়েছে তেহরান। ইরান পরিষ্কারভাবে জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে আলোচনার মূল বিষয় হতে হবে যুদ্ধ বন্ধ। পারমাণবিক কর্মসূচিসহ অন্যান্য ইস্যু পরে বিবেচনায় আনা যেতে পারে। অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, ইরান দীর্ঘদিন ধরেই সময়ক্ষেপণের কৌশল অনুসরণ করছে এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ দূর করতে ব্যর্থ হয়েছে। তেহরান আরও জানিয়েছে, ইরানি জাহাজ ও বন্দরের ওপর আরোপিত মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার না হলে তারা আলোচনায় ফিরবে না। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়েও অনড় অবস্থানে রয়েছে ইরান।
বিদেশের মাটিতে পারিবারিক বিরোধ রক্তাক্ত পরিণতিতে পৌঁছেছে—ইতালিতে বসবাসরত দুই বাংলাদেশি সহোদরের মধ্যে সংঘটিত এক হত্যাকাণ্ডে ছোট ভাই নিহত হওয়ার ঘটনা নিশ্চিত করেছে পারিবারিক ও সংশ্লিষ্ট সূত্র। বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ইতালির লেইজ শহরে পারিবারিক বিষয়কে কেন্দ্র করে হুমায়ুন শেখ ও নয়ন শেখ-এর মধ্যে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে। অভিযোগ রয়েছে, বড় ভাই হুমায়ুন শেখ ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে ছোট ভাই নয়ন শেখকে গুরুতরভাবে আঘাত করেন, এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে। ঘটনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি ভিডিও কলের মাধ্যমে দেশে অবস্থানরত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন এবং নিহতের রক্তাক্ত দেহ প্রদর্শন করেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় পরিবারে শোকের আবহ নেমে আসে এবং এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ইতালির স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এ বিষয়ে মনিরুল ইসলাম ডাবলু, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, টঙ্গীবাড়ী থানা জানান, পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে বিদেশে সংঘটিত এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তারা অবগত হয়েছেন এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অনুসরণ করা হচ্ছে।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ-এ প্রবাসী বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাতে হোটেল ডি প্যালেসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সৌদি আরব বাংলাদেশ প্রবাসী সাংবাদিক ফোরামের নেতৃবৃন্দসহ সদস্যদের এ সম্মাননা দেওয়া হয়। লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির প্রবাসী শাখার উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আশরাফ উদ্দিন শাহিন এবং সঞ্চালনা করেন মিজানুর রহমান ভূঁইয়া। প্রধান অতিথি ছিলেন লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা আব্দুল্লাহ আল মামুন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় সৌদি আরব বাংলাদেশ প্রবাসী সাংবাদিক ফোরামের নবনির্বাচিত (২০২৬-২০২৮) কমিটির সদস্যদের হাতে শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, প্রবাসে অবস্থানরত গণমাধ্যমকর্মীরা দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। পাশাপাশি তারা প্রবাসী বাংলাদেশিদের সমস্যা-সম্ভাবনা তুলে ধরার পাশাপাশি বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে ভূমিকা রাখবেন বলে আশা প্রকাশ করা হয়। এ সময় প্রবাসীদের সৌদি আরবের আইন-কানুন মেনে চলার আহ্বানও জানানো হয়।
চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে গতকাল ২১ ফেব্রুয়ারি যথাযোগ্য মর্যাদা এবং ভাবগাম্ভীর্যের সাথে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রবাসী বাংলাদেশী সম্প্রদায়ের সদস্য এবং চীনা অতিথিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। সকালের অনুষ্ঠানে চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম দূতাবাস প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করেন এবং অন্তরীপ শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এতে দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন। এই অংশটি ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। বিকেলের অনুষ্ঠান পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয়। এরপর ভাষা শহিদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়, যা দিবসটির তাৎপর্যকে আরও গভীর করে তোলে। আলোচনা সভায় ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অফ বেঙ্গল স্টাডিজের সভাপতি প্রফেসর দং ইয়ুচেন এবং চায়না মিডিয়া গ্রুপের বাংলা বিভাগের পরিচালক ইয়ু গুয়াংয়ু বাংলা ভাষায় বক্তব্য প্রদান করেন। প্রফেসর দং ইয়ুচেন বলেন, "ভাষা আন্দোলন শুধু বাংলাদেশের ইতিহাস নয়, এটি বিশ্বের ভাষাগত বৈচিত্র্যের সংরক্ষণের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।" ইয়ু গুয়াংয়ু যোগ করেন, "চীনে বাংলা ভাষার প্রসারে আমরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছি, এবং এই দিবসটি আমাদের অনুপ্রাণিত করে।" রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম তার বক্তব্যে ভাষা শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, "১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালির জাতীয় চেতনার বিকাশ ঘটে, যা পরবর্তীতে স্বাধিকার আন্দোলন এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম দেয়। প্রবাসী বাংলাদেশীদের আমি আহ্বান জানাই, মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় সম্মিলিতভাবে কাজ করুন।" অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে ভাষা শহিদদের আত্মার মাগফিরাত এবং দেশ-জাতির শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এরপর ইফতার আয়োজন এবং আপ্যায়নের মধ্য দিয়ে দিবসটির উদযাপন শেষ হয়। এই অনুষ্ঠানটি চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ককে আরও মজবুত করার পাশাপাশি প্রবাসীদের মধ্যে জাতীয় চেতনা জাগরূক করেছে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ইউনেস্কো কর্তৃক স্বীকৃত এই দিবসটি বিশ্বব্যাপী ভাষা সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে।
বাংলাদেশে ঘোড়ার মাংসের বাণিজ্যিক ব্যবহার নিষিদ্ধে কার্যকর নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট দায়ের করেছেন জয়া আহসান। সোমবার (১১ মে) বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন, এ কে খান হেলথকেয়ার ট্রাস্ট এবং অভিনেত্রী ও প্রাণিকল্যাণ কর্মী জয়া আহসান যৌথভাবে এ রিট দায়ের করেন। রিটে বিবাদী করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষকে। আবেদনকারীদের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে ব্যারিস্টার সাকিব মাহবুব, ড. সিনথিয়া ফরিদ ও অ্যাডভোকেট সাজিদ হাসান শুনানি পরিচালনা করবেন। আবেদনে গাজীপুরে উন্মোচিত অবৈধ ঘোড়ার মাংস প্রক্রিয়াকরণ ও বিক্রয় চক্রের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ, নিরপেক্ষ ও সময়সীমাবদ্ধ তদন্তের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাজেয়াপ্ত ও অসুস্থ ঘোড়ার নিলাম কার্যক্রম বন্ধ, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রতারণামূলক মাংস বাজারজাতকরণ রোধ এবং উদ্ধারকৃত প্রাণীর পুনর্বাসনে জাতীয় অভয়ারণ্য গঠনের নির্দেশনা প্রার্থনা করা হয়েছে। রিটে আরও বলা হয়, পূর্বে একাধিকবার প্রশাসন ও মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দিলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকার ও জনস্বার্থ রক্ষায় আদালতের হস্তক্ষেপ জরুরি হয়ে পড়েছে। আবেদনকারীদের মতে, বিচারিক নির্দেশনা ছাড়া এ ধরনের কার্যক্রম জনস্বাস্থ্য ও প্রাণীকল্যাণের জন্য অব্যাহত ঝুঁকি তৈরি করছে।
দীর্ঘ বিরতির পর নতুন চলচ্চিত্র নিয়ে প্রেক্ষাগৃহে ফিরছেন ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মৌসুমী। প্রবাসজীবনের বাস্তবতা ও সামাজিক সংকটকে উপজীব্য করে নির্মিত ‘কন্ট্র্যাক্ট ম্যারেজ’ শিরোনামের সিনেমাটি আগামী ১৫ মে মুক্তির জন্য প্রস্তুত হয়েছে। চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন হাসান জাহাঙ্গীর, যিনি জানিয়েছেন—বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জীবনসংগ্রাম, পারিবারিক জটিলতা এবং সামাজিক মূল্যবোধের প্রশ্নকে কেন্দ্র করে গল্পটি নির্মিত। এতে এক বিবাহিত নারীর বিদেশে গিয়ে দ্বিতীয় বিবাহের ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরা হয়েছে, যা সামাজিক সচেতনতার বার্তা বহন করে। নির্মাতা জানান, সিনেমাটির অধিকাংশ দৃশ্য যুক্তরাষ্ট্রে ধারণ করা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্মাণ কাজ বাংলাদেশে সম্পন্ন হয়েছে। ইতোমধ্যে এটি সেন্সর সনদ লাভ করেছে এবং নির্ধারিত সময়েই দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলচ্চিত্রটি কেবল দেশেই নয়, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাসহ আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে ঈদ উপলক্ষে এর টেলিভিশন সম্প্রচার স্বত্বও বিক্রি করা হয়েছে। প্রযোজনা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাস্তবধর্মী প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই চলচ্চিত্র দর্শকদের কাছে প্রাসঙ্গিকতা তৈরি করবে এবং প্রবাসজীবনের অন্তর্গত সংকট ও সামাজিক দায়বদ্ধতার বিষয়টি নতুনভাবে আলোচনায় আনবে।
রেশন দুর্নীতি মামলায় ইডির তলবে টালিউড অভিনেত্রী ও সাবেক এমপি নুসরাত জাহান। ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) আগামী ২২ এপ্রিল কলকাতার সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে তাকে। অভিযোগ, সরকারি রেশন বিতরণ ও গম সরবরাহ সংক্রান্ত একটি অনিয়ম তদন্তের সূত্র ধরেই তার নাম সামনে আসে। তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগকৃত সময় তিনি নুসরাত জাহান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। একই মামলায় অর্থ ও খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় দুর্নীতির বিস্তৃত অভিযোগ খতিয়ে দেখছে সংস্থাটি। তবে নুসরাত কলকাতায় সরাসরি হাজির না হয়ে দিল্লিতে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানিয়েছেন বলে জানা গেছে। ইডির তলবে তার আইনি ও প্রশাসনিক অবস্থান এখন নজরদারিতে রয়েছে।
ভারতীয় সংগীতাঙ্গনের কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলেকে ঘিরে রোববার (১২ এপ্রিল) একাধিক ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয়। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবার বা সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নিশ্চিত কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি। মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটেছে—এমন তথ্য জানিয়ে কিছু সূত্র দাবি করে, হৃদরোগ ও শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতার কারণে তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু অনানুষ্ঠানিক প্রতিবেদনে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে। হাসপাতাল সূত্রের বরাতে জানা যায়, বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক সমস্যায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তবে মৃত্যুর বিষয়ে নির্ভরযোগ্য নিশ্চিতকরণ না থাকায় বিষয়টি এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। আশা ভোঁসলে ভারতীয় চলচ্চিত্র সংগীতের ইতিহাসে এক অনন্য নাম। ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি হাজারো জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন, যা তাকে উপমহাদেশের সংগীত ইতিহাসে স্থায়ী আসনে অধিষ্ঠিত করেছে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা ঘিরে বিভ্রান্তি ও গুজব ছড়িয়ে পড়ায় ভক্ত ও সংগীতাঙ্গনে উদ্বেগ বিরাজ করছে। পরিবার বা হাসপাতালের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না আসা পর্যন্ত তার বিষয়ে নিশ্চিত কোনো মন্তব্য করা যাচ্ছে না।
চব্বিশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে টালমাটাল গোটা দেশ। পতিত সরকারের একতরফা দমন-পীড়ন তারুণ্যের বারুদ নেভাতে পারেনি। বরং গর্জে উঠেছে, চূড়ান্ত বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছে ৫ আগস্ট। তারুণ্যের স্বপ্ন বাস্তবায়নে ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠন করা হয় অন্তর্বর্তী সরকার। সংস্কার আর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে গিয়ে দমন-পীড়নের অভিনব ধারা তৈরি করে তারা। মব সন্ত্রাসকে 'জাস্টিস' বানিয়ে চাপিয়ে দেয়া হয় শিক্ষক, গণমাধ্যম, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ীসহ সর্বস্তরের মানুষের ওপর। ডিপ স্টেস্টের এজেন্ডা বাস্তবায়ন, সীমাহীন অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, মব সন্ত্রাস, টাকা পাচার, প্রশাসনে নিজেদের লোক বসানো, পদায়ন ও রদবদলে প্রকাশ্যে ঘুষ লেনদেনসহ হাজারও কারণে চব্বিশ এখন এক পতিত ধ্রুবতারার নাম। জাতির সাথে, দেশের সাথে প্রতারণা ছিল কী না-তা নিয়ে আলোচনা চলছে জোরেশোরে। পরিসংখ্যান বলছে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর 'মব সন্ত্রাস' এর মাধ্যমে দেশজুড়ে প্রায় আড়াই হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাড়ে তিন হাজার শিক্ষক হেনস্তার শিকার হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে শারীরিক ও মানসিক আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে এ পর্যন্ত ছয়জন শিক্ষক মারা গেছেন। পাঁচ শতাধিক আহত ও অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করছেন। সামাজিকভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন ঠিক কতজন-এর কোনও হিসেব নেই। মানবাধিকার সংস্থা 'অধিকার' এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের গত ১৭ মাসে 'মব সন্ত্রাস' এ ৪৫ জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে গত এক বছরেই অর্থাৎ ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে খুন হয়েছেন ৩৩ জন। আর গণপিটুনিতে গত ১৭ মাসে ১৮১ জন নিহত হয়েছেন। ঢাকাসহ সারা দেশে নির্বিচার পুলিশ হত্যাকাণ্ড নিয়ে কথা বলা নিষেধ। তাই বললাম না। এবার আসি গায়েবি/ভুয়া/সাজানো মামলা দিয়ে বাণিজ্যের বিষয়ে। হয়রানির এক কালো অধ্যায় শুরু হয় ৫ আগস্টের পর। আপনি কোনদিন রাজনীতি করেননি। গান, কবিতা, আঁকাআঁকি নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। মনের আনন্দে কী-বোর্ডে সুর তোলেন। আপনি বাসায় আছেন, অথচ আপনার নামে হত্যাচেষ্টা, রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হয়ে গেছে। পুলিশ এসে ধরে নিয়ে গেলো। আদালতে তোলা মাত্র রিমান্ড মঞ্জুর। এরপর থেকে কারাগারে। অপরাধ কী, আপনার বাবা একসময় মন্ত্রী ছিলেন। পতিত দলের রাজনীতি করতেন। বাবার রাজনীতির বলি হতে হচ্ছে সন্তানকে। এভাবেই চলছে, প্রিয় বাংলাদেশ। আর কতদিন চলবে কে জানে! জামিন কী হচ্ছে না? হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে বলছি, সাবের হোসেন চৌধুরীর কথা। সাবেক এই পরিবেশমন্ত্রীকে হত্যা মামলায় রিমান্ডে পাঠানোর পরদিনই সেটিসহ ছয় মামলায় জামিন দেন আদালত। এটা ০৮ অক্টোবর ২০২৪ এর কথা। বিষয়টি নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। কিন্তু নীরবতা ছিল উত্তর। যা বোঝার সবাই বুঝে নিয়েছেন আশা করি। বিস্তারিত আলাপে যাবো না। কারণ, তাকে নিয়ে রাজনীতিতে নতুন সমীকারণের কথা বলা হচ্ছে। এবার আসি সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর বিষয়ে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় রাজধানীর লালবাগ থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক স্পিকারকে জামিন দিয়েছেন আদালত। রোববার (১২ এপ্রিল, ২০২৬) আসামি পক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালত ৫০ হাজার টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন। সবশেষ, কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী বেগম। বুধবার (২২ এপ্রিল, ২০২৬) দুপুর ১২টার দিকে তারা কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে মুক্তি পান। মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে মানবিক বিবেচনায় ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেছেন। প্রবীণ রাজনীতিবিদ ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। ঢাকা ও চট্টগ্রামে দায়ের করা ১২টি মামলায় জামিন পাওয়ার পর ১৪ আগস্ট, ২০২৫ বৃহস্পতিবার কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয় সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রীকে। চব্বিশের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২৭ অক্টোবর তাকে ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার করে। মোশাররফ হোসেন চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রথম, তৃতীয়, সপ্তম, নবম, দশম ও একাদশ সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন। তিনি ১৯৯৭ থেকে ২০০১ পর্যন্ত বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, পরে দশম সংসদে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় পরিচালনা করেছেন। প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ শারীরিক নানা রোগব্যাধিতে আক্রান্ত। উন্নত চিকিৎসার জন্য মোশাররফ হোসেনকে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা। ব্যক্তিগতভাবে আমিও মানবিক বাংলাদেশ দেখতে চাই। তাকে বিদেশে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হোক। দুটি হত্যা মামলায় কারাবন্দি তৃণমূল বিএনপির চেয়ারপারসন শমসের মবিন চৌধুরী জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। সোমবার (২৪ মার্চ, ২০২৫) ঢাকা কেরানীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বের হন তিনি। চব্বিশের ১৭ অক্টোবর সাবেক পররাষ্ট্রসচিব শমসের মুবিন চৌধুরী গ্রেপ্তার হন। গ্রেপ্তার হওয়ার পরদিন তাকে পল্টন থানায় দায়ের করা যুবদল নেতা শামীম মোল্লা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা পারভেজ মিয়া হত্যা মামলায়ও গ্রেপ্তার দেখানো হয় প্রবীণ এই রাজনীতিবিদকে। অন্যদিকে, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও ঢাকা-১৫ আসন থেকে চার বারের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব কামাল আহমেদ মজুমদার, বৃদ্ধ বয়সে অসুস্থ শরীরে দিন কাটছে কারাগার নির্ধারিত হাসপাতালের বিছানায়। যে বয়সে কোরআন শরীফ পাঠ করা আর নাতি-নাতনির সাথে সময় কাটানোর কথা, যে বয়সে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে জেলখানায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তিনি। ক্ষমতায় থাকতেও অনিয়ম, ঘুষ, দুর্নীতির প্রতিবাদ করেছেন সংসদে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছেন। একাত্ম ছিলেন তরুণ প্রজন্মের দাবির আদায়ে। কিন্তু তাতে কি, ছাত্র আন্দোলনে দায়ের করা বেশ কিছু হত্যা মামলায় ২০২৪ বছরের ১৯ অক্টোবর কামাল আহমেদ মজুমদারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকে মামলার জালে আটকে রাখা হয়েছে প্রবীণ এই রাজনীতিবিদকে। অন্যদের জামিন দেওয়া হলেও কামাল আহমেদ মজুমদারের মতো রাজনীতিবিদের বেলায় রাষ্ট্রের ন্যায্যতা দেখিনা। মহামান্য বিচারকদের কাছে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করি আমরা। যে কথা বলছিলাম, কেবলমাত্র বাবার রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে সন্তান এখন কারাভোগ করছেন। মোহনা টেলিভিশনে কাজ করার সময় প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদারের ছেলে মোহনা টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহেদ আহমেদ মজুমদারের সঙ্গে মেশার সুযোগ হয়েছে আমার। খুব কাছ থেকে দেখেছি তাকে। রাজনীতির সঙ্গে কোনও যোগাযোগ নেই। আগ্রহও দেখিনি। নিপাট ভদ্রলোক। সুর, তাল, লয়, আঁকাআঁকি নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন সবসময়। সবার সঙ্গে মানবিক আচরণ করা, সৃজনশীল এই মানুষটি এখন কারাগারে। কারণ আগেই বলেছি, বাবার রাজনৈতিক পরিচয়। বাবা রাজনীতি করতে বলে সন্তানকে জেল খাটতে হবে! সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় জেল আছেন শাহেদ আহমেদ মজুমদার। তার বিরুদ্ধে মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৫ সালের গত ১২ সেপ্টেম্বর দুপুরে গুলশানের ফজলে রাব্বী পার্কের পাশে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ব্যানার নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক স্লোগান দেন। তারা গাড়ি ভাঙচুরের চেষ্টা করে জনমনে ভীতির সঞ্চার করেন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালানোর চেষ্টা করেন। সেসময় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার ও তাদের মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। মামলা বলা হয়, জব্দ করা মোবাইল ফোনে ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অ্যাপের মাধ্যমে আসামিরা রাষ্ট্রকে ‘অস্থিতিশীল ও অবকাঠামোকে ধ্বংস করতে’ বিভিন্ন প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে বলে পুলিশ দেখতে পেয়েছে। ২০২৫ সালের গত ১৩ সেপ্টেম্বর গুলশান থানার এসআই মাহাবুব হোসাইন ওই মামলা করেন। এর প্রেক্ষিতে ২৭ সেপ্টেম্বর শাহেদ আহমেদ মজুমদারকে ঢাকার গুলশান এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলা যে ষড়যন্ত্রমূলক তা বিবরণ পড়লে যে কেউ বুঝতে পারবেন। অন্যদিকে, শাহেদ আহমেদ মজুমদার, বাবা কামাল আহমেদ মজুমদারের ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রভাব নামে জ্ঞাত-আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ২ কোটি ৩৯ লাখ ৭৩ হাজার ৭৩৬ অর্জন করেছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনও আরেকটি মামলা করেছেন। দুদকও সঙ্গী হয়েছে তখনকার প্রভাবশালীদের। রাষ্ট্রের কাছে প্রত্যাশা, অপরাধ করলে তার তদন্ত করা হোক। বিচার করা হোক। তবে অন্যায়ভাবে কাউকে মিথ্যে মামলায় হয়রানি করানো, জেল খাটানো, মানসিক নির্যাতন করা, সামাজিকভাবে হেয় করা, সন্তানকে বাবার আদর থেকে বঞ্চিত করা-এটা কোনভাবেই কাম্য হতে পারে না। আইনের ছাত্র হিসেবে, একজন সাংবাদিক হিসেবে মনে করি, শাহেদ আহমেদ মজুমদারকে আইনি প্রক্রিয়ায় জামিন দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাতে তার ছোট্ট সন্তান বাবার আদর পাবে। একজন স্ত্রী তার স্বামীকে পাশে পাবে। অন্যদিকে, মোহনা টেলিভিশনের শত শত কর্মী ফিরে পাবে প্রিয় অভিভাবক। প্রতিহিংসার রাজনীতি আর দেখতে চাই না। চাই না, কোনও নিরপরাধ ব্যক্তি অকারণে মিথ্যে মামলায় আর জেলে খাটুক। আর প্রশাসনকে যারা প্রভাব খাটিয়ে অপব্যবহার করছেন বা করেছেন; তাদের বিচারেও আওতায় নিয়ে আসা দরকার। না হলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, কেবল কথার কথাই থেকে যাবে। বাংলাদেশ হোক সবার প্রত্যাশিত ন্যায় ও সাম্যের বাংলাদেশ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের বিশেষ মাইগ্রেশনের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয় পরিবর্তন ও নতুনভাবে মনোনয়নপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের জন্য চার দফা নির্দেশনা জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিবিষয়ক ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিশেষ মাইগ্রেশনের মাধ্যমে যাদের বিষয় পরিবর্তন হয়েছে বা নতুনভাবে মনোনয়ন পেয়েছেন, তাদের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। নির্দেশনাগুলো হলো— ১. নতুনভাবে বিষয় মনোনয়নপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রীয় ভর্তি ফি পরিশোধ করতে হবে। ২. বিশেষ মাইগ্রেশনের মাধ্যমে বিষয় পরিবর্তন হওয়া শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ নতুন বিভাগের প্রযোজ্য ভর্তি ফি পরিশোধ করতে হবে। ৩. আগামীকাল ২৯ এপ্রিল থেকে ৩০ এপ্রিলের মধ্যে সব প্রযোজ্য ফি অনলাইনে পরিশোধ করে সংশ্লিষ্ট ডিন অফিসে সশরীরে উপস্থিত হয়ে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। ৪. বিস্তারিত তথ্য ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনার জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিটের নোটিশ সেকশন পরিদর্শনের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও ন্যায়সংগত মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে ‘সাইলেন্ট এক্সপেল’ বা ‘নীরব বহিষ্কার’ বিধান কার্যকর করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী, পরীক্ষার হলে অসদুপায় অবলম্বন বা আচরণগত অনিয়মের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে পরীক্ষার্থীকে প্রকাশ্যে বহিষ্কার না করে পরবর্তীতে তার উত্তরপত্র বাতিলের মাধ্যমে এই ব্যবস্থা প্রয়োগ করা হবে। নীতিমালায় উল্লেখ রয়েছে, দায়িত্বরত পরিদর্শক পরীক্ষার শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত হলে পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্র পৃথকভাবে সংরক্ষণ করবেন এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় ‘রিপোর্টেড’ হিসেবে চিহ্নিত করে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে জমা দেবেন। এ ক্ষেত্রে পর্যবেক্ষকের লিখিত প্রতিবেদনে বহিষ্কারের কারণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক। এছাড়া, নীরব বহিষ্কৃত পরীক্ষার্থীদের পরবর্তী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ থাকলেও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তার ফলাফল আইনগতভাবে অকার্যকর গণ্য হবে। পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এ বিধান কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দেশের উচ্চশিক্ষা প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ দুই পদে নতুন নিয়োগের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে সরকার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নতুন উপাচার্য হিসেবে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামকে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পাচ্ছেন ঢাবির সহ–উপাচার্য অধ্যাপক মামুন আহমেদ। সোমবার (১৬ মার্চ) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ তথ্য জানান। অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত ছিলেন। এর আগে ইউজিসির বর্তমান চেয়ারম্যান অধ্যাপক এস এম এ ফায়েজ শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে আবেদন করেন। অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদেও সম্প্রতি পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। গত ২২ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন উপাচার্য নিয়াজ আহমদ খান রাষ্ট্রপতির কাছে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন এবং নিজ বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে ফিরে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর উচ্চশিক্ষা খাতের বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে পুনর্বিন্যাস শুরু হয়। সেই ধারাবাহিকতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউজিসির নেতৃত্বে এই নতুন পরিবর্তন আসছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংশোধিত ছুটির তালিকা ও শিক্ষাপঞ্জি প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বুধবার জারি করা প্রজ্ঞাপনে সাপ্তাহিক শুক্র ও শনিবার ছাড়া বছরে মোট ৬৭ দিন ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন সূচি অনুযায়ী পবিত্র রমজান, ঈদুল ফিতর ও স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত টানা ৩৬ দিন শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এছাড়া ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশে ২৪ মে থেকে ৪ জুন পর্যন্ত ১০ দিন এবং শীতকালীন অবকাশ ও বড়দিন উপলক্ষে ২০ থেকে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৮ দিন ছুটি নির্ধারিত হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে অর্ধবার্ষিক, প্রাক-নির্বাচনী, নির্বাচনী ও বার্ষিক পরীক্ষার সম্ভাব্য সময়সূচি নির্ধারণের পাশাপাশি পরীক্ষার সময়সীমা, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও তারিখ পরিবর্তনে পূর্বানুমতির বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। কোনো সরকারি কর্মকর্তার পরিদর্শন উপলক্ষে পাঠদান স্থগিত বা শিক্ষার্থীদের রাস্তায় দাঁড় করিয়ে রাখার বিষয়টি স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ রয়েছে।
দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান প্রথমবারের মতো বর্তমান পরিস্থিতি, রাজনীতি ও নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা মন্তব্য করেছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, অতীতে “সবাই আওয়ামী লীগ করত” বলে মনে হলেও এখন ভিন্ন বাস্তবতা দেখা যাচ্ছে—যা নিয়ে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া সাকিব জানান, রাজনীতিতে আসার সিদ্ধান্তকে তিনি ভুল মনে করেন না এবং নিজের অবস্থানে এখনো অনড় রয়েছেন। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলে যাওয়ার পর দেশে ফেরার বিষয়টি নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। দেশে ফিরলে প্রথম গন্তব্য কী হবে—মিরপুর নাকি নিজ জেলা মাগুরা—এ প্রশ্নে সাকিব বলেন, বর্তমানে ঢাকায় পা রাখাটাই তার জন্য বড় ভাবনার বিষয়। একইসঙ্গে তিনি জানান, মাগুরায় তিনি সবসময়ই নিজ পরিচয়ে সাধারণ মানুষ হিসেবেই ছিলেন, আলাদা কোনো পরিচয় নয়। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে দেশে না ফেরায় তার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ সাক্ষাৎকারে দেওয়া মন্তব্যগুলো ক্রীড়া ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ক্রিকেট থেকে রাজনীতিতে স্থায়ীভাবে যুক্ত থাকার ইঙ্গিত দিয়ে নিজের দলীয় অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা স্পষ্ট করেছেন সাকিব আল হাসান। রোববার (৩ মে) এক গণমাধ্যমে দেওয়া দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে সাবেক এই বাংলাদেশ অধিনায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য বলেন, রাজনৈতিক অবস্থানে তিনি পরিবর্তন আনতে আগ্রহী নন এবং দীর্ঘদিন ধরে একই আদর্শ ও দলে অনুগত থাকার কথা তুলে ধরেন। সাকিব আল হাসান দাবি করেন, তিনি অতীতে যেসব দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, সেখানেও দায়িত্ব ও আনুগত্য বজায় রেখেছেন এবং ভবিষ্যতেও দল পরিবর্তনের কোনো ইচ্ছা নেই। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করে রাখা গণতান্ত্রিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং সময়ের ব্যবধানে পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে বলেই তিনি বিশ্বাস করেন। রাজনীতিতে প্রতিহিংসার সংস্কৃতি নিয়ে মন্তব্য করে তিনি বলেন, দোষ–ভুলের পুনরাবৃত্তি চলতে থাকলে রাজনৈতিক অচলাবস্থা অব্যাহত থাকবে, যা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে উদাহরণ সৃষ্টি করতে হবে। ২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচনে মাগুরা-১ আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য সংসদ সদস্য থাকা সাকিব জানান, ভবিষ্যতে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তিনি পুনরায় প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ রাখেন। বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থানরত এই ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি বলেন, দেশে ফিরতে তিনি আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে প্রস্তুত, তবে নিরাপত্তা ও হয়রানিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত হওয়াকে তিনি পূর্বশর্ত হিসেবে দেখছেন। সাকিবের ভাষায়, সাধারণ নাগরিক হিসেবে ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা পেলে তিনি দ্রুতই দেশে ফিরতে প্রস্তুত।
বাংলাদেশ ক্রিকেটে দর্শক-আচরণ নীতিতে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে, যেখানে সাকিব আল হাসান ও মাশরাফি বিন মুর্তজাকে ঘিরে আগের বিধিনিষেধ শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। শনিবার (২৫ এপ্রিল) এক আনুষ্ঠানিক মন্তব্যে ইসরাফিল খসরু জানান, এখন থেকে মাঠে দর্শকরা এই দুই ক্রিকেটারের ছবি ও প্ল্যাকার্ড বহন করে প্রবেশ করতে পারবেন। পূর্ববর্তী নিষেধাজ্ঞা থেকে সরে এসে নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়কে ক্রিকেটীয় অবদানের সঙ্গে মেলানো উচিত নয় এবং দর্শকেরা তাদের প্রিয় খেলোয়াড়দের প্রতি সমর্থন প্রকাশে স্বাধীনতা ভোগ করবেন। অ্যাডহক কমিটির পর্যবেক্ষণে বলা হয়, সাকিব আল হাসান এবং মাশরাফি বিন মুর্তজা বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন, যা রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের বাইরে মূল্যায়ন করা উচিত। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ম্যাচে দর্শকদের জন্য মাঠে প্রবেশের সময় প্ল্যাকার্ড ও প্রতীক প্রদর্শনে আর কোনো প্রশাসনিক বাধা থাকবে না বলে জানানো হয়েছে।
ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপে আবারও হার দেখল লেস্টার সিটি, আর সেই ম্যাচেই বর্ণবাদী আচরণের শিকার হয়েছেন বাংলাদেশি তারকা হামজা চৌধুরী—ঘটনা ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। শনিবার (১৮ এপ্রিল) লেস্টার সিটি ১-০ গোলে হেরে যায় পোর্টসমাউথ-এর বিপক্ষে, ফলে প্রিমিয়ার লিগে ফেরার লড়াইয়ে দলটির অবনমন শঙ্কা আরও ঘনীভূত হয়। ম্যাচের ৭১তম মিনিটে পরিবর্তিত হয়ে মাঠ ছাড়ার সময় হামজা চৌধুরী গ্যালারি থেকে অপমানজনক মন্তব্যের শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে তিনি রেফারির সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়লে তাকে হলুদ কার্ড দেখানো হয়, যা নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করে। ডাগ আউটেও কিছুক্ষণ উত্তপ্ত পরিস্থিতি চললেও পরে কোচিং স্টাফের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এদিকে ৪৩ ম্যাচে ৪১ পয়েন্ট নিয়ে লেস্টার এখন টেবিলের ২৩তম স্থানে রয়েছে, ফলে অবনমন এড়াতে শেষ ম্যাচগুলোতে কঠিন লড়াইয়ের মুখে পড়েছে ক্লাবটি।
এবার ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ আরোপ করছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনী। আজ ইরানের স্থানীয় সময় সকাল ১০টা (বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৩০মিনিট) থেকে অবরোধ কার্যকর করা হবে। এই অবরোধ কার্যকর হলে ইরানের বন্দরগুলোতে কোনো জাহাজ ভিড়তে পারবে না এবং বর্তমানে যেসব জাহাজ ইরানের বন্দরগুলোতে আছে, সেগুলো বন্দর ত্যাগ করে বাইরে যেতে পারবে না। কোনো জাহাজ যদি অবরোধ অমান্য করে, তাহলে সেটি লক্ষ্য করে হামলা চালাবে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকোম)। গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে সেন্টকোমের পক্ষ থেকে। বার্তায় বলা হয়েছে, “সোমবার পূর্বাঞ্চলীয় (ইরানি) সময় সকাল ১০টা থেকে আরব সাগর এবং ওমান উপসাগরে অবস্থিত ইরানি বন্দরগুলোসহ ইরানের সব বন্দরে অবরোধ জারি করা হচ্ছে। এসব বন্দরে প্রবেশ কিংবা নির্গমনে ইচ্ছুক এবং ইরানের উপকূলীয় এলাকায় প্রবেশকারী সব দেশের জাহাজের ওপর এ অবরোধ নিরপেক্ষভাবে কার্যকর করা হবে। তবে যেসব জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরান ব্যতীত অন্য কোনো দেশের বন্দরের উদ্দেশে যাওয়া-আসা করছে—সেসব জাহাজের চলাচলের স্বাধীনতায় সেন্টকোম কোনো বাধা দেবে না।” বিভিন্ন দেশের বাণিজ্য জাহাজগুলোর সুবিধার জন্য অবরোধ কার্যকরের আগে নোটিশ দিয়ে এ ব্যাপারে আরও বিস্তারিত জানানো হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে সেন্টকোমের এক্সবার্তায়। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের ২১ ঘণ্টার সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পর গতকাল রোববার গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য জলপথ হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারির হুমকি দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এই হুমকি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর এক্সে ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধ কার্যকর করা বিষয়ক পোস্ট দিয়েছে সেন্টকোম।
জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহতা আরও একবার সামনে এনে জাতিসংঘ একটি জরুরি সতর্কবার্তা জারি করেছে। সংস্থাটির বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO) জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে পৃথিবীজুড়ে গড় তাপমাত্রা পূর্ববর্তী সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে। গত কয়েক মাস ধরেই বৈশ্বিক উষ্ণতা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। ২০২4 সালের জুলাই ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে গরম মাস, কিন্তু বিজ্ঞানীরা বলছেন, চলতি বছর সেই রেকর্ড ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি। গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন ও এল নিনোর মতো প্রাকৃতিক ঘটনার মিলিত প্রভাবে পৃথিবীর তাপমাত্রা ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, “এই সংকেত মোটেও অবহেলা করার মতো নয়। জলবায়ু পরিবর্তন এখন ভবিষ্যতের ভয় নয়, এটি বর্তমানের বাস্তব দুর্যোগ।” রেকর্ডভাঙা উষ্ণতা ও এর পরিণতি WMO-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসেই গড় বৈশ্বিক তাপমাত্রা শিল্পপূর্ব সময়ের তুলনায় ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। এটি প্যারিস জলবায়ু চুক্তির প্রধান সীমা অতিক্রম করার আশঙ্কাকে বাস্তব করে তুলেছে। বিশেষ করে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য এবং দক্ষিণ এশিয়ার বেশ কয়েকটি অঞ্চলে আগেই অস্বাভাবিক দাবদাহ শুরু হয়েছে। ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। ক্যালিফোর্নিয়ায় দাবানল, স্পেনে জলসংকট এবং চীনের নদীগুলোতে পানি শুকিয়ে যাওয়া—এইসব ঘটনা বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাবের সরাসরি উদাহরণ। এ ছাড়া গলছে হিমবাহ, বাড়ছে সমুদ্রের উচ্চতা, এবং খরার কারণে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে অনেক দেশে। জাতিসংঘ আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, তাপমাত্রার এই রেকর্ডব্রেকিং ধারা অব্যাহত থাকলে লাখো মানুষ খাদ্যসংকটে পড়বে এবং জলবায়ু উদ্বাস্তু হওয়ার হার উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়তে থাকলেও পৃথিবীর বড় অর্থনীতিগুলো কার্বন নিঃসরণ কমাতে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “জলবায়ু সংকটের সময়েও কয়লা পোড়ানো এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা চলতে পারে না। সময় এসেছে, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে সাহসিকতার সঙ্গে।” এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান নির্গমন কমানোর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা বললেও বাস্তবায়নে গতি কম। চীন ও ভারতের মতো উন্নয়নশীল শক্তিগুলোও উন্নয়ন চাহিদার দোহাই দিয়ে নিঃসরণ কমাতে দ্বিধাগ্রস্ত। তবে কিছু ইতিবাচক উদ্যোগও রয়েছে। সম্প্রতি ৫০টিরও বেশি দেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকার কিছু দেশ পরিবেশবান্ধব নীতিমালায় সরে আসছে। বিশ্বজুড়ে জলবায়ু আন্দোলনকারীরা আবারও রাস্তায় নামার ঘোষণা দিয়েছে। তারা বলছে, “এই লড়াই শুধু পরিবেশের নয়, এটি মানবতার অস্তিত্বের লড়াই।” পরিস্থিতি মোকাবেলায় বৈশ্বিক ঐক্য ছাড়া কোনো পথ নেই বলে জানিয়েছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা। জুলাই মাসে রেকর্ড তাপমাত্রা যদি সত্যিই বাস্তবে পরিণত হয়, তবে সেটি হবে মানবজাতির জন্য এক বড় সতর্ক সংকেত। বিশ্ব এখন অপেক্ষা করছে—এই সংকেতকে নেতারা কতটা গুরুত্ব দেন, আর মানুষ কতটা প্রস্তুত থাকে এক বিপজ্জনক ভবিষ্যতের মুখোমুখি হতে।
ইউরোপে বর্তমানে প্রচণ্ড গরমের যে ঢেউ বইছে, তা যেন আগের সব রেকর্ড ভেঙে দিচ্ছে। স্পেন, ইতালি, গ্রিস, ফ্রান্স, পর্তুগালসহ দক্ষিণ ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে। এই অস্বাভাবিক গরমে জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা, হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর ভিড়, আর মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক ও উদ্বেগ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের তাপপ্রবাহ শুধু একটি স্বাভাবিক গ্রীষ্মকালীন ঘটনা নয়, বরং এটি জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব। গত কয়েক দশকে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে ইউরোপের আবহাওয়ায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। আগে যেখানে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রির ওপরে যেত না, এখন সেখানে ৪৫-৪৭ ডিগ্রিও স্বাভাবিক হয়ে উঠছে। এমনকি অনেক অঞ্চলে তাপমাত্রা এতটাই বেড়েছে যে আগুন লেগে যাচ্ছে বনাঞ্চলে, আর দাবানল নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে দমকল বাহিনী। বিশেষ করে বয়স্ক এবং শিশুদের মধ্যে এই গরমে মৃত্যুহার বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। ইতালির রোমে একদিনে অন্তত ২০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে শুধুমাত্র হিট স্ট্রোকের কারণে। ফ্রান্সে হাসপাতালগুলোতে রোগীদের জন্য ঠান্ডা ঘর তৈরি করতে হচ্ছে, আর জার্মানির কিছু এলাকায় পানি সংরক্ষণের জন্য বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। গরমের প্রভাবে জনজীবনের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও পড়েছে বড় প্রভাব। রাস্তাঘাট ফাঁকা, অনেক অফিস ও দোকান বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে দুপুরের সময়। পর্যটন খাতে পড়েছে বড় আঘাত, কারণ বহু পর্যটক সফর বাতিল করছেন। কৃষিক্ষেত্রেও এর ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে—খরায় জমির ফসল নষ্ট হচ্ছে, গবাদিপশু পানিশূন্যতায় মারা যাচ্ছে, আর কৃষকরা পড়েছেন দিশেহারা অবস্থায়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এমন তীব্র গরম কেবল শুরু। যদি বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়তে থাকে এই হারে, তাহলে আগামী কয়েক দশকে ইউরোপের দক্ষিণাঞ্চল বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠতে পারে। অনেক দেশ এরইমধ্যে তাদের নাগরিকদের সচেতন করতে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে—যেমন দুপুর ১২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত বাইরে না থাকা, পর্যাপ্ত পানি পান করা, ও ঠান্ডা জায়গায় থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে শুধু পরামর্শ বা সতর্কতা যথেষ্ট নয়। অনেকেই বলছেন, এখনই যদি বিশ্ব নেতারা কার্যকর জলবায়ু পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে এ ধরনের বিপর্যয় আরও ঘন ঘন দেখা যাবে, এবং শুধু ইউরোপ নয়, গোটা পৃথিবীর মানুষকেই এর মূল্য দিতে হবে। ইউরোপে এই গ্রীষ্মের ভয়াবহ চিত্র আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে—জলবায়ু পরিবর্তন আর কোনো ভবিষ্যতের আশঙ্কা নয়, এটি এখনই ঘটছে, এবং এর প্রভাব এখনই আমাদের জীবনকে করে তুলছে হুমকির মুখে।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে যেকোনো সময় অনুমোদন হতে পারে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল-এর কেন্দ্রীয় কমিটি। দলীয় একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, চেয়ারম্যান তারেক রহমান চূড়ান্ত অনুমোদন দিলেই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে। দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন কমিটি নিয়ে আলোচনা ও জল্পনা-কল্পনা চলছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে কারা আসছেন, তা নিয়ে কৌতূহল দেখা দিয়েছে। সম্ভাব্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসানের নাম আলোচনায় রয়েছে। তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই সাবেক ছাত্রনেতাকে সাংগঠনিকভাবে দক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হিসেবে দেখছেন অনেকে। দলীয় নেতাকর্মীদের একাংশের মতে, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক স্থবিরতা কাটিয়ে যুবদলকে পুনরুজ্জীবিত করতে নতুন নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এখনো কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলেই নতুন কমিটি প্রকাশ করা হবে বলে জানা গেছে।
বিদেশে চিকিৎসাধীন বিএনপির শীর্ষ নেতা মির্জা আব্বাস-এর শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে শঙ্কামুক্ত—এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন পারিবারিক সূত্র। মালয়েশিয়ার প্রিন্স কোর্ট মেডিকেল সেন্টার-এ চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় চিকিৎসকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তার সহধর্মিণী আফরোজা আব্বাস জানিয়েছেন, তিনি এখন স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারছেন এবং ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা অগ্রগতি অব্যাহত থাকলে আসন্ন ঈদুল আজহা-র আগেই দেশে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। উল্লেখ্য, গত মার্চে রাজধানীতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয় এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়া হয়। বর্তমানে তার চিকিৎসা প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জ্বালানি সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে সাতক্ষীরায় ১১ দলের উদ্যোগে গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২ মে) বিকেলে শহরের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ক থেকে মিছিলটি বের হয়ে পাকাপুল মোড়, নিউমার্কেট, তুফান মোড়, বড়বাজার ও থানা মসজিদ এলাকা প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়। পরে সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা ১১ দলের আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাতক্ষীরা জেলা আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল। এ সময় জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান, নায়েবে আমির শেখ নূরুল হুদা, সহকারী সেক্রেটারি মো. ওমর ফারুক, মাওলানা ওসমান গণি, শহর শিবির সভাপতি মেহেদি হোসেনসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে চার দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে বলেন, দাবি পূরণে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে নতুন প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে এলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) বর্তমান সহ-সভাপতি সাদিক কায়েম—দলীয় পর্যায়ে এমন সিদ্ধান্তের তথ্য নিশ্চিত হয়েছে সংশ্লিষ্ট সম্মেলন সূত্রে। শুক্রবার (১ মে) সকালে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ কাউন্সিল হলে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ-এর থানা ও বিভাগীয় দায়িত্বশীল সম্মেলনে তাকে প্রার্থী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। তবে দলীয় প্রক্রিয়া অনুসারে চূড়ান্ত মনোনয়ন ঘোষণার বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ পায়নি। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্পন্ন হলেও আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কেন্দ্রীয়ভাবে প্রার্থিতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। ঘোষণার সময় উপস্থিত থাকলেও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেননি সাদিক কায়েম। নির্বাচনী বিধান অনুসরণ করে তিনি ইতোমধ্যে নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র খাগড়াছড়ি থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। যদিও এখনো প্রকাশ্য প্রচারণা শুরু হয়নি, তবে অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক যোগাযোগ ও প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ—উভয় সিটি করপোরেশনের জন্য প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শিগগিরই তা প্রকাশ করা হবে। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হলে প্রার্থী পূর্ণমাত্রায় নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নেবেন।